সৌদি আরবের পরিবহন ও লজিস্টিক সেবা মন্ত্রী প্রকৌশলী সালেহ বিন নাসের আল-জাসের আজ বলেছেন, সৌদি সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ, বন্দর, জ্বালানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী।
প্রধানমন্ত্রী প্রেস উইং জানায়, গণভবনে শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতকালে সৌদি মন্ত্রী এ কথা বলেন।
মন্ত্রী শেখ হাসিনাকে খাদেমুল হারামাইন শরিফাইন বাদশাহ সালমানের শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী সৌদি মন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের জন্য ধন্যবাদ জানান।
সৌদি মন্ত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা দেখে তিনি অত্যন্ত মুগ্ধ হয়েছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে সৌদি আরবকে বাংলাদেশের সমর্থনের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের জন্য বিনিয়োগের দুয়ার উন্মুক্ত করেছে।
সৌদি মন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নীতির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সৌদি আরবের কিছু প্রধান কোম্পানি নির্মাণ ও বিদ্যুৎ খাতে খুব ভালো কাজ করছে। ৩০টিরও বেশি সৌদি কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চায়।
সৌদি মন্ত্রী বাংলাদেশের উন্নয়নে গতিশীল ভূমিকার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ শীর্ষ সম্মেলন, বাংলাদেশ-এ অংশগ্রহণের জন্য মন্ত্রী ও তার প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি আশা প্রকাশ করেন আগামী দিনে উভয় দেশই তাদের পারস্পরিক উন্নয়নের জন্য একসঙ্গে কাজ করবে।-বাসস
খালেদা জিয়ার লিভার সিরোসিস শনাক্ত : চিকিৎসক
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার লিভার সিরোসিস শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা। যদিও তাঁর শারীরিক অবস্থা গত ২৪ ঘণ্টা ধরে স্থিতিশীল আছে। তবে লিভার সিরোসিসের কারণে যেকোনো সময় রক্তক্ষরণের শঙ্কা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা। আর এজন্য যত দ্রুত সম্ভব সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার সুপারিশের কথাও জানান তাঁরা।
আজ রোববার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের বাসার সামনে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসক এফ এম সিদ্দিকী এসব তথ্য তুলে ধরেন।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসক এফ এম সিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা যারা খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় সরাসরি জড়িত তাঁরা দেখলাম, মানুষের মাঝে এ নিয়ে স্বচ্ছ ধারণা নেই। ম্যাডামের কী অবস্থা সে বিষয়ে সঠিক ধারণা নেই। তাই, আমরা আপনাদের মাধ্যমে সেটি জানাতে এসেছি।’
চিকিৎসক বলেন, ‘গত ১২ নভেম্বর আমরা প্রথম জানতে পারি, হঠাৎ তিনি খুব দুর্বল হয়ে পড়েছেন। এমন অবস্থা হয়েছে যে, একটু হাঁটতে গিয়ে তিনি হাঁপিয়ে উঠছেন। আমি এবং ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এসে উনার বাসার রাত ২টার পর পরীক্ষা করাই। সকালে দেখতে পাই যে, উনার শরীরের হিমোগ্লোবিন কমে গেছে। তাই, তখন আমরা সিদ্ধান্ত নিয়ে উনাকে হাসপাতালে ভর্তি করাই।’
‘মূলত উনার (খালেদা জিয়া) লিভারের যে সমস্যা সেটি মাথায় রেখেই উনাকে ভর্তি করাই। এবং রাত ৯টার দিকে উনার ম্যাসিভ রক্তবমি হয়। উনাকে দুই ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয় এবং দ্রুত এন্ডোস্কপি করে ব্লিডিংয়ের কারণ জানতে চেষ্টা করি। কিন্তু উনার ব্লাডপ্রেসার বেশি থাকায় সম্ভব হয়নি। পরে রাত ৩টার দিকে প্রফেসর আরেফিনকে খবর দেই এবং খালেদা জিয়ার এন্ডোস্কপি করি এবং উনার চিকিৎসা শুরু করি।’
এফ এম সিদ্দিকী বলেন, ‘তখন দেখতে পাই, খালেদা জিয়ার সিরোসিস অফ লিভার৷ তথা লিভার তাঁর কাজ করতে পারছিল না। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে উনার ব্লিডিংটা বন্ধ করি। কারণ উনি ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের রোগী৷ এবং নতুন কিছু মেডিসিন দেই।’
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ
























