০৯:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

পঞ্চগড়ে উৎপাদিত ‘হোয়াইট টি’, ৫০ গ্রামের দাম ১৩০০ টাকা

দেশের সর্বউত্তরের কৃষি সমৃদ্ধ জেলা পঞ্চগড়।জেলার প্রধান অর্থকরি ফসল এখন ‘চা’। ইতোমধ্যে দেশের দ্বিতীয় চা অঞ্চল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে পঞ্চগড়। এ জেলায় উৎপাদিত চা ইতোমধ্যে জায়গা করে নিয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারেও। মানুষের প্রাত্যহিক তালিকায় থাকা সব ধরণের চা প্রক্রিয়াজাত হয় পঞ্চগড়ের চা কারখানাগুলোতে। সৌখিন স্বাস্থ্য সচেতনদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে পঞ্চগড়ের ব্ল্যাক টি, গ্রীণ টি, তুলসী টি, ইয়োলো টিসহ উন্নতমানের বিভিন্ন চা।
সম্প্রতি পঞ্চগড়ে উৎপাদন হচ্ছে ঔষুধি গুন সম্পন্ন চায়ের বিশেষ ধরণ ‘হোয়াইট টি’ বা সাদা চা। উন্নতমানের এই চা খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ২৬ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশের মাত্র দুইটি প্রতিষ্ঠান হোয়াইট টি উৎপাদন করছে। এর মধ্যে পঞ্চগড়ের কাজী এন্ড কাজী টি ফ্যাক্টরী একটি।
হোয়াইট টি-এর রঙ পিত-হলুদ বা পিতলের মতো হলুদ। এর মূল রঙটা সবুজ ও হলুদ রঙের মাঝামাঝি। একে হোয়াইট-টি বলার কারণ হলো এর গায়ে সাদা লোম রয়েছে। একে কেউ কেউ ‘সিলভার নিডল হোয়াইট-টি’ বা রূপার সুঁইয়ের মতো সাদা চা বলেন। হোয়াইট টি-তে চায়ের আদি ও অকৃত্রিম সকল গুণাগুণই থাকে অটুট। আর এর অসাধারণ ঘ্রাণে যেকোনো প্রকৃত চা-প্রেমীই মুগ্ধ হবেন।
কাজী এন্ড কাজী টি- এর বিক্রয় কেন্দ্র পঞ্চগড় জেলা শহরের মীনা বাজার। সেখানে ব্ল্যাক টি, গ্রীণ টি, তুলসী টি, ইয়োলো টি, অর্গানিক টিসহ বিভিন্ন উন্নতমানের চায়ের প্যাকেট সাজানো রয়েছে। এদের সঙ্গে রয়েছে চায়ের বিশেষ ধরণ হোয়াইট টি-ও।
মীনা বাজারের বিক্রয় প্রতিনিধি রাজু ইসলাম জানান, ৫০ গ্রাম ওজনের প্রতিটি হোয়াইট টি-এর প্যাকেট এক হাজার ৩০০ টাকা দামে বিক্রি করা হয়। এই চায়ের বেশ চাহিদা রয়েছে। পঞ্চগড়ের স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের জেলার লোকজনও কিনে নেন। প্রতি মাসে ২৫০ থেকে ৩০০ প্যাকেট হোয়াইট টি বিক্রি হয় এখান থেকে।
জানা গেছে, হোয়াইট টি উৎপাদনের সূচনা হয়েছিল চীনে। তখন হোয়াইট টি ছিল চীনের খুবই অভিজাত একটি পানীয়। যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে ছিলো। ‘হোয়াইট-টি’ মানবদেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে, যা তারুণ্য বজায় রাখে এবং ক্লান্তি দূর করে মনকে ঝরঝরে করে তোলে। আরো একটি বিশেষ গুণ হলো এই চা ফ্যাট বা চর্বি কমায়। পৃথিবীতে এই মুহূর্তে যত ধরনের চা পাওয়া যায়, তার মধ্যে হোয়াইট টি-ই হলো সবচেয়ে কম প্রক্রিয়াজাত।
কথা হয় চা নিয়ে কাজ করা জহিরুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি পঞ্চগড়ের ‘রিলাক্স হিমালয় টি’ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি বলেন, হোয়াইট টি চা শিল্পে বিরাট সম্ভাবনা। হোয়াইট-টি তৈরির জন্য প্রয়োজন হয় চায়ের ক্যামেলিয়া সাইনেসিস গাছের একটি বন্ধ কুঁঁড়ি। অর্থাৎ যে কুঁঁড়ি এখনো প্রস্ফুটিত হয়নি। সেই বন্ধ কুঁড়িগুলোকে একটি একটি করে চা গাছ থেকে তুলে প্রক্রিয়াকরণের পরই এই বিশেষ চা তৈরি হয়। একই গাছ থেকে অন্য সব ধরনের চা-ও উৎপন্ন হয়। এই চা উৎপাদনে দক্ষ জনবলের প্রয়োজন হয়। হোয়াইট টি ক্যান্সার ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
পঞ্চগড় আঞ্চলিক চা বোর্ডের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শামীম আল মামুন বলেন, চা বোর্ডের অনুমোদন নিয়ে দেশের দুইটি প্রতিষ্ঠান হোয়াইট টি বাজারজাত করছে। এর মধ্যে একটি চট্টগ্রামেরর আরেকটি পঞ্চগড়ের কাজী এন্ড কাজী টি ফ্যাক্টরী।
তিনি জানান, পঞ্চগড়সহ উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় চা চাষের প্রসার ঘটছে। উৎপাদনে ছাড়িয়ে যাচ্ছে লক্ষ্যমাত্রা। পাঁচ জেলার ১০ হাজার ১৭০ দশমিক ৫৭ একর জমির ২৭ টি চা বাগান এবং ৭ হাজার ৩১০ টি ক্ষুদ্রায়তন চা বাগান থেকে গত মৌসুমে চা উৎপাদন হয়েছে এক কোটি তিন লাখ কেজি। যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৯৫ লাখ কেজি। এবছর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিলো এক কোটি কেজি। ইতোমধ্যে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। গত অক্টোবর মাস পর্যন্ত উৎপাদন হয়েছে এক কোটি ২২ লাখ কেজি। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত আরো ২০ লাখ কেজি উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের চ্যালেঞ্জে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন

পঞ্চগড়ে উৎপাদিত ‘হোয়াইট টি’, ৫০ গ্রামের দাম ১৩০০ টাকা

প্রকাশিত : ০৭:৪৩:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ ডিসেম্বর ২০২১

দেশের সর্বউত্তরের কৃষি সমৃদ্ধ জেলা পঞ্চগড়।জেলার প্রধান অর্থকরি ফসল এখন ‘চা’। ইতোমধ্যে দেশের দ্বিতীয় চা অঞ্চল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে পঞ্চগড়। এ জেলায় উৎপাদিত চা ইতোমধ্যে জায়গা করে নিয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারেও। মানুষের প্রাত্যহিক তালিকায় থাকা সব ধরণের চা প্রক্রিয়াজাত হয় পঞ্চগড়ের চা কারখানাগুলোতে। সৌখিন স্বাস্থ্য সচেতনদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে পঞ্চগড়ের ব্ল্যাক টি, গ্রীণ টি, তুলসী টি, ইয়োলো টিসহ উন্নতমানের বিভিন্ন চা।
সম্প্রতি পঞ্চগড়ে উৎপাদন হচ্ছে ঔষুধি গুন সম্পন্ন চায়ের বিশেষ ধরণ ‘হোয়াইট টি’ বা সাদা চা। উন্নতমানের এই চা খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ২৬ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশের মাত্র দুইটি প্রতিষ্ঠান হোয়াইট টি উৎপাদন করছে। এর মধ্যে পঞ্চগড়ের কাজী এন্ড কাজী টি ফ্যাক্টরী একটি।
হোয়াইট টি-এর রঙ পিত-হলুদ বা পিতলের মতো হলুদ। এর মূল রঙটা সবুজ ও হলুদ রঙের মাঝামাঝি। একে হোয়াইট-টি বলার কারণ হলো এর গায়ে সাদা লোম রয়েছে। একে কেউ কেউ ‘সিলভার নিডল হোয়াইট-টি’ বা রূপার সুঁইয়ের মতো সাদা চা বলেন। হোয়াইট টি-তে চায়ের আদি ও অকৃত্রিম সকল গুণাগুণই থাকে অটুট। আর এর অসাধারণ ঘ্রাণে যেকোনো প্রকৃত চা-প্রেমীই মুগ্ধ হবেন।
কাজী এন্ড কাজী টি- এর বিক্রয় কেন্দ্র পঞ্চগড় জেলা শহরের মীনা বাজার। সেখানে ব্ল্যাক টি, গ্রীণ টি, তুলসী টি, ইয়োলো টি, অর্গানিক টিসহ বিভিন্ন উন্নতমানের চায়ের প্যাকেট সাজানো রয়েছে। এদের সঙ্গে রয়েছে চায়ের বিশেষ ধরণ হোয়াইট টি-ও।
মীনা বাজারের বিক্রয় প্রতিনিধি রাজু ইসলাম জানান, ৫০ গ্রাম ওজনের প্রতিটি হোয়াইট টি-এর প্যাকেট এক হাজার ৩০০ টাকা দামে বিক্রি করা হয়। এই চায়ের বেশ চাহিদা রয়েছে। পঞ্চগড়ের স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের জেলার লোকজনও কিনে নেন। প্রতি মাসে ২৫০ থেকে ৩০০ প্যাকেট হোয়াইট টি বিক্রি হয় এখান থেকে।
জানা গেছে, হোয়াইট টি উৎপাদনের সূচনা হয়েছিল চীনে। তখন হোয়াইট টি ছিল চীনের খুবই অভিজাত একটি পানীয়। যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে ছিলো। ‘হোয়াইট-টি’ মানবদেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে, যা তারুণ্য বজায় রাখে এবং ক্লান্তি দূর করে মনকে ঝরঝরে করে তোলে। আরো একটি বিশেষ গুণ হলো এই চা ফ্যাট বা চর্বি কমায়। পৃথিবীতে এই মুহূর্তে যত ধরনের চা পাওয়া যায়, তার মধ্যে হোয়াইট টি-ই হলো সবচেয়ে কম প্রক্রিয়াজাত।
কথা হয় চা নিয়ে কাজ করা জহিরুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি পঞ্চগড়ের ‘রিলাক্স হিমালয় টি’ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি বলেন, হোয়াইট টি চা শিল্পে বিরাট সম্ভাবনা। হোয়াইট-টি তৈরির জন্য প্রয়োজন হয় চায়ের ক্যামেলিয়া সাইনেসিস গাছের একটি বন্ধ কুঁঁড়ি। অর্থাৎ যে কুঁঁড়ি এখনো প্রস্ফুটিত হয়নি। সেই বন্ধ কুঁড়িগুলোকে একটি একটি করে চা গাছ থেকে তুলে প্রক্রিয়াকরণের পরই এই বিশেষ চা তৈরি হয়। একই গাছ থেকে অন্য সব ধরনের চা-ও উৎপন্ন হয়। এই চা উৎপাদনে দক্ষ জনবলের প্রয়োজন হয়। হোয়াইট টি ক্যান্সার ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
পঞ্চগড় আঞ্চলিক চা বোর্ডের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শামীম আল মামুন বলেন, চা বোর্ডের অনুমোদন নিয়ে দেশের দুইটি প্রতিষ্ঠান হোয়াইট টি বাজারজাত করছে। এর মধ্যে একটি চট্টগ্রামেরর আরেকটি পঞ্চগড়ের কাজী এন্ড কাজী টি ফ্যাক্টরী।
তিনি জানান, পঞ্চগড়সহ উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় চা চাষের প্রসার ঘটছে। উৎপাদনে ছাড়িয়ে যাচ্ছে লক্ষ্যমাত্রা। পাঁচ জেলার ১০ হাজার ১৭০ দশমিক ৫৭ একর জমির ২৭ টি চা বাগান এবং ৭ হাজার ৩১০ টি ক্ষুদ্রায়তন চা বাগান থেকে গত মৌসুমে চা উৎপাদন হয়েছে এক কোটি তিন লাখ কেজি। যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৯৫ লাখ কেজি। এবছর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিলো এক কোটি কেজি। ইতোমধ্যে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। গত অক্টোবর মাস পর্যন্ত উৎপাদন হয়েছে এক কোটি ২২ লাখ কেজি। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত আরো ২০ লাখ কেজি উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ