ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে তিতাস নদীতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্পিডবোট ও ইঞ্জিনচালিত নৌকার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত আতিকুর রহমান এর পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহয়তা প্রদান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে স্থানীয় করিমশা মাজার সংলগ্ন তিতাস নদীর মনতলা নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আতিকুর রহমান(২২)নবীনগর উপজেলার বড়িকান্দি ইউনিয়নের নূরজাহানপুর গ্রামের কালন মিয়ার ছেলে। সে ঢাকার একটি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। এতে ওই ইউনিয়নে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্বজন হারানো পরিবারে চলছে শোকের মাতম।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার গোকর্ণ ঘাট থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী স্পিডবোটটি নবীনগর উপজেলা সদরের দিকে যাচ্ছিল। এদিকে ইঞ্জিনের নৌকাটি নবীনগর ঘাট থেকে ছেড়ে কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর যাচ্ছিল। মনতলা নামক স্থানে তিতাস নদীর মাঝখানে ইঞ্জিনের নৌকাটি স্পিডবোটকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই স্পিডবোটের যাত্রী আতিকুর রহমান নিহত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, নদীর মাঝখানে খনন কাজে নিয়োজিত একটি ড্রেজার থাকায় স্পিডবোটটি নৌকাটিকে সাইড দিতে স্টার্ট বন্ধ করে দেয়। কিন্তু নৌকাটি অতিক্রমের সময় স্পিডবোটকে ধাক্কা দিলে ওই যাত্রীর মাথায় প্রচণ্ড আঘাত লাগে। এতে কানে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুর রশিদ জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্পিডবোট ও নৌকাটিকে আটক করেছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নৌকার মাঝি গিয়াস উদ্দিনকেও আটক করা হয়েছে। এই ঘটনায় নিহত আতিকুর রহমান এর বাবা কালন মিয়া বাদী হয়ে নবীনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন
জেলা মর্গ থেকে ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার রাতে তার লাশ বাড়িতে নিয়ে আসেন পরে নুরজাহানপুর গ্রামের হাফিজিয়া মাদ্রাসা জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করেন।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ




















