০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

১৭৬ ব্যবসায়ী পেলেন রপ্তানিতে সিআইপি কার্ড

পণ্য রপ্তানিতে অবদান রাখায় দেশের ১৩৮ জন ব্যবসায়ীকে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) হিসেবে নির্বাচন করেছে সরকার। এ ছাড়া পদাধিকারবলে ট্রেড ক্যাটাগরি থেকে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের ৩৮ পরিচালকও পেয়েছেন সিআইপি মর্যাদা।

দুই ধরনের সিআইপি মিলিয়ে ২০১৮ সালের জন্য মোট ১৭৬ জন উৎপাদক-রপ্তানিকারককে সম্মাননা জানিয়েছে রপ্তানি উন্নযন ব্যুরো (ইপিবি)। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলের আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ও এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।

দেশের সফল রপ্তানিকারক, শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে জাতীয় পর্যায়ে উৎসাহ, উদ্দীপনা ও পারস্পারিক সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি করার পাশাপাশি তাদের রপ্তানি বাণিজ্যে উৎসাহিত করতে প্রতিবছর সিআইপি কার্ড দেয় ইপিবি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, দেশকে উন্নত করতে রপ্তানি বৃদ্ধির বিকল্প নেই। রপ্তানি আয় বাড়াতে আমাদের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। রপ্তানি বাণিজ্যে উৎসাহিত করার জন্য আজ (বৃহস্পতিবার) ২০১৮ সালের জন্য মনোনিত ১৭৬ জন ব্যবসায়ীকে সিআইপি কার্ড দেওয়া হচ্ছে। বর্তমান সরকার সব সময়ই ব্যবসায়ীদের উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে। আগামীতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে এগিয়ে যেতে আমাদের সামনে সমস্যা অনেক, বাধা অনেক। দক্ষতার সাথে এগুলোকে অতিক্রম করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। অল্পসংখ্যক পণ্য নিয়ে বিশ্ব রপ্তানি বাজারে ভালো করা যাবে না। এ জন্য রপ্তানি পণ্যের সংখ্যা বাড়াতে হবে, একই সাথে বাজার সম্প্রসারণ করতে হবে। বিশ্বের অনেক দেশ আছে, যেখানে বাংলাদেশের তৈরি পণ্যের প্রচুর চাহিদা আছে। সেখানে আমাদের রপ্তানি করতে হবে।

২০১৮ সালে কাঁচাপাট রপ্তানির জন্য একজন, পাটজাত পণ্যে তিনজন, চামড়াজাত পণ্যে পাঁচজন, হিমায়িত খাদ্যে সাতজন, তৈরি পোশাক খাতে ২৩ জন, কৃষিজাত দ্রব্যে ছয়জন, অ্যাগ্রো প্রসেসিংয়ে চারজন, হাল্কা প্রকৌশলী পণ্যে দুজন, ফার্মাসিউটিক্যালসে দুজন, হস্তশিল্পজাত পণ্যে পাঁচজন, হোম টেক্সাইল পণ্যে তিনজন, তৈরি পোশাক (নিট) ৪৩ জন, সিরামিক পণ্যে দুজন, প্লাস্টিক পণ্যে দুজন, টেক্সটাইল পণ্যে পাঁচজন, কম্পিউটার সফটওয়্যারে দুজন, বিবিধ ২৩ জন, ইপিজেডভুক্ত ‘সি’ ক্যাটাগরির পণ্যসহ দুজন ও ব্যবসায়ী নেতা ৩৮ জনকে সিআইপি কার্ড দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচিত ব্যক্তিরা (রপ্তানি) আগামী এক বছরের জন্য সব ধরনের সিআইপি সুবিধা ভোগ করবেন। এক বছর পার হওয়ার পরে পরবর্তী বছরে সিআইপি ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের মেয়াদ থাকবে। তবে এফবিসিসিআই থেকে নির্বাচিত সিআইপিদের মেয়াদ তাঁদের সংগঠনের পদে বহাল থাকা অথবা পরবর্তী সিআইপি ঘোষণা, যেটি আগে হয় সে পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

দেশের মোট ২২টি খাতের ১৮টি পণ্য এবং সেবা খাত থেকে ২০১৮ সালে মোট ১৩৮ জনকে সিআইপি (রপ্তানি) এবং একই সময়ের জন্য ৩৮ জন (পদাধিকার বলে) ব্যবসায়ী নেতাকে সিআইপি (টেড্র)-সহ সর্বমোট ১৭৬ জনকে সিআইপি সম্মানে ভূষিত করা হলো। সিআইপি মনোনীত সকলে তাঁর মেয়াদকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রবেশের জন্য পাস ও গাড়ির স্টিকার পাবেন, বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠানও মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন কর্তৃক আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় আমন্ত্রণ পাবেন, ব্যবসাসংক্রান্ত ভ্রমণে বিমান, রেল, সড়ক ও জলপথে সরকারি যানবাহনে আসন সংরক্ষণ অগ্রাধিকার পাবেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এফবিসিসিআই এর সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান এ এইচ এম আহসান।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

কৃষকের মেরুদণ্ড শক্তশালী হলে জাতির মেরুদণ্ড শক্তিশালী হবে: ফারজানা শারমিন পুতুল

১৭৬ ব্যবসায়ী পেলেন রপ্তানিতে সিআইপি কার্ড

প্রকাশিত : ০৯:১৩:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারী ২০২২

পণ্য রপ্তানিতে অবদান রাখায় দেশের ১৩৮ জন ব্যবসায়ীকে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) হিসেবে নির্বাচন করেছে সরকার। এ ছাড়া পদাধিকারবলে ট্রেড ক্যাটাগরি থেকে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের ৩৮ পরিচালকও পেয়েছেন সিআইপি মর্যাদা।

দুই ধরনের সিআইপি মিলিয়ে ২০১৮ সালের জন্য মোট ১৭৬ জন উৎপাদক-রপ্তানিকারককে সম্মাননা জানিয়েছে রপ্তানি উন্নযন ব্যুরো (ইপিবি)। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলের আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ও এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।

দেশের সফল রপ্তানিকারক, শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে জাতীয় পর্যায়ে উৎসাহ, উদ্দীপনা ও পারস্পারিক সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি করার পাশাপাশি তাদের রপ্তানি বাণিজ্যে উৎসাহিত করতে প্রতিবছর সিআইপি কার্ড দেয় ইপিবি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, দেশকে উন্নত করতে রপ্তানি বৃদ্ধির বিকল্প নেই। রপ্তানি আয় বাড়াতে আমাদের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। রপ্তানি বাণিজ্যে উৎসাহিত করার জন্য আজ (বৃহস্পতিবার) ২০১৮ সালের জন্য মনোনিত ১৭৬ জন ব্যবসায়ীকে সিআইপি কার্ড দেওয়া হচ্ছে। বর্তমান সরকার সব সময়ই ব্যবসায়ীদের উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে। আগামীতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে এগিয়ে যেতে আমাদের সামনে সমস্যা অনেক, বাধা অনেক। দক্ষতার সাথে এগুলোকে অতিক্রম করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। অল্পসংখ্যক পণ্য নিয়ে বিশ্ব রপ্তানি বাজারে ভালো করা যাবে না। এ জন্য রপ্তানি পণ্যের সংখ্যা বাড়াতে হবে, একই সাথে বাজার সম্প্রসারণ করতে হবে। বিশ্বের অনেক দেশ আছে, যেখানে বাংলাদেশের তৈরি পণ্যের প্রচুর চাহিদা আছে। সেখানে আমাদের রপ্তানি করতে হবে।

২০১৮ সালে কাঁচাপাট রপ্তানির জন্য একজন, পাটজাত পণ্যে তিনজন, চামড়াজাত পণ্যে পাঁচজন, হিমায়িত খাদ্যে সাতজন, তৈরি পোশাক খাতে ২৩ জন, কৃষিজাত দ্রব্যে ছয়জন, অ্যাগ্রো প্রসেসিংয়ে চারজন, হাল্কা প্রকৌশলী পণ্যে দুজন, ফার্মাসিউটিক্যালসে দুজন, হস্তশিল্পজাত পণ্যে পাঁচজন, হোম টেক্সাইল পণ্যে তিনজন, তৈরি পোশাক (নিট) ৪৩ জন, সিরামিক পণ্যে দুজন, প্লাস্টিক পণ্যে দুজন, টেক্সটাইল পণ্যে পাঁচজন, কম্পিউটার সফটওয়্যারে দুজন, বিবিধ ২৩ জন, ইপিজেডভুক্ত ‘সি’ ক্যাটাগরির পণ্যসহ দুজন ও ব্যবসায়ী নেতা ৩৮ জনকে সিআইপি কার্ড দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচিত ব্যক্তিরা (রপ্তানি) আগামী এক বছরের জন্য সব ধরনের সিআইপি সুবিধা ভোগ করবেন। এক বছর পার হওয়ার পরে পরবর্তী বছরে সিআইপি ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের মেয়াদ থাকবে। তবে এফবিসিসিআই থেকে নির্বাচিত সিআইপিদের মেয়াদ তাঁদের সংগঠনের পদে বহাল থাকা অথবা পরবর্তী সিআইপি ঘোষণা, যেটি আগে হয় সে পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

দেশের মোট ২২টি খাতের ১৮টি পণ্য এবং সেবা খাত থেকে ২০১৮ সালে মোট ১৩৮ জনকে সিআইপি (রপ্তানি) এবং একই সময়ের জন্য ৩৮ জন (পদাধিকার বলে) ব্যবসায়ী নেতাকে সিআইপি (টেড্র)-সহ সর্বমোট ১৭৬ জনকে সিআইপি সম্মানে ভূষিত করা হলো। সিআইপি মনোনীত সকলে তাঁর মেয়াদকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রবেশের জন্য পাস ও গাড়ির স্টিকার পাবেন, বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠানও মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন কর্তৃক আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় আমন্ত্রণ পাবেন, ব্যবসাসংক্রান্ত ভ্রমণে বিমান, রেল, সড়ক ও জলপথে সরকারি যানবাহনে আসন সংরক্ষণ অগ্রাধিকার পাবেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এফবিসিসিআই এর সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান এ এইচ এম আহসান।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ