বদলে যাচ্ছে খুলনার বেতগ্রাম-পাইকগাছা-কয়রা সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। সড়ক উন্নয়ন, প্রশস্থ ও সরলীকরণ কাজ দ্রæত এগিয়ে চলেছে। প্রায় সাড়ে ৩শ’ কোটি টাকার ৬০ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটি ইতোমধ্যে একনেক-প্রি একনেক থেকে অনুমোদন হয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মোজাহার এন্টারপ্রাইজ কাজ পেয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় সড়কের ৪১টি বাঁক সরলীকরণ ও দু’পাশে ৩ ফুট করে প্রশস্থ করা হবে। নির্মাণকাজ শেষ হলে এটি হবে অত্র এলাকার মানুষের স্বপ্নের সড়ক। আঠারোমাইল (বেতগ্রাম) থেকে কয়রা পর্যন্ত সড়ক ও জনপদ বিভাগের ৬০কি.মি. সড়ক রয়েছে। সড়কটি এলাকার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। কয়রা-পাইকগাছা ও সাতক্ষীরার তালা উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি উপজেলার লাখ লাখ মানুষ জেলা ও রাজধানী শহরসহ দেশের বিভিন্নস্থানে এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে থাকে। এলাকার অর্থনৈতিক দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্তে¡ও সড়কটি ছিলো দীর্ঘদিন অবহেলিত। বিগত কয়েক বছর আগে সংস্কারের অভাবে সড়কটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ার উপক্রম হয়। সড়ক সংস্কারের দাবীতে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের ব্যানারে আন্দোলন করে এলাকাবাসী। জনগুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়কটি এলাকার অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে দেখা দেয়। সড়কের বেহাল অবস্থার কারনে এলাকার সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সড়কটি সংস্কারের জন্য এলাকাবাসীর প্রাণের দাবীতে পরিণত হয়। আওয়ামীলীগের তরুণ এমপি আক্তারুজ্জামান বাবু নির্বাচিত হওয়ার পর নির্বাচনী এলাকা পাইকগাছা-কয়রা উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেন। যার মধ্যে প্রধান সড়ক উন্নয়নের বিষয়টি অধিক গুরুত্ব দেন। সংসদ সদস্যের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ৬০কি.মি. সড়ক উন্নয়নে ৩৫৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। নির্মাণকাজ ইতিমধ্যে অধিকাংশ হয়েছে। সড়কটি হবে এলাকার মানুষের স্বপ্নের সড়ক। খুলনা বাস মিনিবাস মালিক সমিতি সূত্রে জানাযায়, কয়রা-পাইকগাছা খুলনা রুটে ২২০টি মত বাস রয়েছে। সড়কটি প্রশস্থ ও সরলীকরণ হলে যানবাহনসহ সাধারণ মানুষের যাতায়াত নিরাপদ হবে। আর ঢাকা রুটে চলাচলের জন্য প্রায় ৩০টি পরিবহন রয়েছে। সাধারণ বাসের তুলনায় পরিবহন বড় হওয়ায় অত্র সড়ক দিয়ে যাতায়াতের সময় চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। বিশেষ করে সড়কে এমন কিছুকিছু বাঁক রয়েছে যেখানে সামনে কিছু দেখা যায় না। অনেক ঝুঁকির মধ্যে পরিবহনগুলো চলছে। সড়কটি উন্নয়ন হলে দুর্ঘটনা বহুলাংশে কমে আসবে। সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবু বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন ছাড়া কোনো এলাকার সামগ্রীক উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ জন্য এলাকার প্রধান সড়কসহ সকল যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত এবং বহুমূখীকরণ করা হচ্ছে। আশা করছি প্রকল্পে কাজ শেষ হলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার বদলে যাবে। মানুষের যাতায়াতে সহজ হবে এবং আর্থসামাজিক উন্নয়ন হবে। নির্বাচিত হওয়ার পর একটি আধুনিক পাইকগাছা-কয়রা গড়ার প্রত্যয় নিয়ে এলাকার উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করি। যার মধ্যে অত্র এলাকার বেড়িবাঁধ ও যাতায়াতের প্রধান সড়ক উন্নয়ন করা জরুরী মনে হয়েছে এবং সে লক্ষেই বেড়িবাঁধ নির্মাণে যেমন মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, তেমনি সড়ক উন্নয়নেও প্রকল্পের কাজ চলমান।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর




















