০২:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

দৃষ্টি নন্দনরুপে সেজেছে “সিরাজগঞ্জ ভূমি অফিস”

সিরাজগঞ্জে ভূমি সংক্রান্ত কাগজপত্রের অনলাইনে আপডেট এর কাজ শুরু হয়েছে এর পাশাপাশি জরাজীর্ণ ভূমি অফিসের ভেতর বাহিরের কারুকাজ দৃষ্টি নন্দন রুপে সাজানো হয়েছে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শহরের প্রাণ কেন্দ্রে পদ্ম পুকুর সংলঙ্গ রাস্তার পাশে সদর উপজেলা ভূমি অফিসটি নতুন আঙ্গিকে সাজানো হয়েছে, বিশেষ করে – অত্যাধুনিক ডিজাইনে পানির ফোয়ারা বসানো হয়েছে, যা পথচারীদের দৃষ্টি আর্কষণ করছে। এছাড়া ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারন মানুষের জন্য রয়েছে মোটরযান পার্কিং, বসার সু-ব্যবস্থা, এবং ছোট পরিসরে বাগান করা হয়েছে। সন্ধায় পানির ফোয়ারা ও অলোকসজ্জায় অপরুপ সৌন্দর্য্যে ফুটে উঠছে।

এছাড়া কোনো হয়রানি ছাড়াই মিলছে জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। ভূমি অফিসের সেবা পেয়ে খুশি, সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ।

সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ এর সার্বিক তত্তবধায়নে পানির ফোয়ারা ও ভূমি অফিসের ভেতর বাহিরের কারুকাজ উদ্বোধন করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার এনডিসি জিএসএম জাফরউল­াহ। সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসএম রবিন শীষ এর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে শহরের চৌরাস্তা সিরাজী রোড পদ্ম পুকুর মোড়ে উপজেলা ভূমি অফিস এখন পথচারীদের চোখ ঝলসানো রুপে সাজানো হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো:মোবারক হোসেন,উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাশুকাতে রাব্বি ও আরডিসি মো. মাসুদ হোসেন এর সহযোগীতায় জরাজীর্ণ উপজেলা ভুমি অফিস অত্যাধুনিক ডিজাইনে সাজানো হয়।

অফিস সূত্রে আরও জানা যায়, বর্তমান স্যার আসার পর থেকেই জনগণের ভোগান্তি লাগবের জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে জনগণের দূরত্ব কমানোর জন্য অফিস কক্ষের দরজায় লিখে রেখেছেন, এসি(ল্যান্ড) কক্ষে আছেন, বিনা অনুমতিতে , জুতাসহ প্রবেশ করুন। শুধু তাই নয় বর্তমান সরকারের ভূমি ব্যবস্থা শতভাগ অনলাইন আপডেট বাস্তবায়নের লক্ষ্যে, ভূমি সংক্রান্ত কাগজপত্র অনলাইনে আপলোড, সপ্তাহে একদিন গণশুনানি আর দ্রুততম সময়ের মধ্যে জমির নামজারিসহ নানামুখী সেবায় পাল্টে গেছে সিরাজগঞ্জ ভূমি অফিস। সেবা নিতে নেই তৃতীয় পক্ষের দৌরাত্ম। কোনো হয়রানি ছাড়াই মিলছে জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। ভূমি অফিসের নানামুখী সেবা পেয়ে খুশি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ। যারা এক সময় তৃতীয়পক্ষের সহায়তা ছাড়া জমির কোনো কাজই করতে পারতেন না, তারাই এখন নিজের সমস্যার কথা নিজেরাই ভূমি অফিসে এসে বলতে পারছেন।

সিরাজগঞ্জ ভূমি অফিস থেকে প্রায় ২৫ ধরনের সেবা দেওয়া থাকে ঃ

১.হাটবাজারের চান্দিনাভিটি একসনা বন্দোবস্ত প্রদান ২.অর্পিত সম্পত্তির লিজির নাম পরিবর্তনসহ লিজ নবায়ন। ৩.খতিয়ানের করণিক ভুল সংশোধন ৪.বন্দোবস্তকৃত খাস জমির দখল বুঝিয়ে দেয়া ৫.ভূমিহীনদের মাঝে কৃষি খাস জমি বন্দোবস্ত প্রদান ৬.হাট বাজারের চান্দিনা ভিটি ব্যবহারের লাইসেন্স নবায়ন ৭.নামজারি ও জমাভাগ/জমা একত্রিকরণের আদেশের রিভিউ ৮.হাটবাজারের চান্দিনাভিটি ভূমি ব্যবহারের লাইসেন্সধারীর নাম পরিবর্তনসহ নবায়ন ৯.নামজারি ও জমাভাগ/জমা একত্রিকরণ ১০.অকৃষি খাস জমি বন্দোবস্ত প্রদান ১১. ভূমি উন্নয়ন কর নির্ধারণীর আপত্তি নিষ্পত্তি ১২.আদিবাসিদের জমি হস্তান্তরের অনুমতি প্রদান ১৩. দেওয়ানী আদালতের রায়/আদেশ মূলে রেকর্ড সংশোধন ১৪.জমির অখণ্ডতার সনদের জন্য আবেদন নিষ্পত্তিকরণ ১৫. পরিত্যক্ত সম্পত্তির (এপি) ইজারাগ্রহীতার নাম পরিবর্তন ১৬. নামজারি ও জমাভাগ/জমা একত্রিকরণ কেসের ডুপ্লিকেট খতিয়ান প্রদান ১৭.সিকস্তি জনিত ভূমি উন্নয়ন করের হার পুনঃনির্ধারণেরর আবেদন নিস্পত্তি ১৮. ভূমির শ্রেণি পরিবর্তনের আবেদন নিস্পত্তি ১৯. রিটার্ন বাতিল বা রিটার্ন দাখিলের মাধ্যমে ভূমি উন্নয়ন কর হার নির্ধারণ ২০. করাত কল স্থাপনের জন্য জমির মালিকানার প্রত্যয়নপত্র প্রদান ২১.নামজারি ও জমাভাগ/জমা একত্রিকরণ/বিবিধ কেসের আদেশের নকল/সার্টিফাইড কপি প্রদান ২২.অর্পিত সম্পত্তির লিজ নবায়ন ২৩ .

পরিত্যক্ত সম্পত্তি (এপি) ইজারা প্রদান ২৪.ভূমি উন্নয়ন কর নির্ধারণে ভূমির ব্যবহার ভিত্তিক শ্রেণি পরিবর্তন এর আবেদন নিষ্পত্তি ২৫ .পরিত্যক্ত সম্পত্তি (এপি) ইজারা নবায়ন

গত সোমবার (৩১ জানুয়ারী) সিরাজগঞ্জ ভূমি অফিসে গিয়ে কথা হয় সদর ইউনিয়ন থেকে আসা লোকমান মিয়ার সাথে। তিনি জানান, ‘কয়েক বছর আগে একবার খারিজ এর জন্য এসেছিলাম, তখন অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে, অনেক টাকা দিয়ে দালাল ধরে কাজ করতে হয়েছে। এখন ১১৫০ টাকা খারিজের জন্য লাগে বাড়তি টাকা নেয়নি বরং আজই তারিখ দিলো এবং টাকার রশিদ দিয়ে দিল।’

জমির মিসকেসের শুনানির জন্যে আসা উপজেলার বহুলী গ্রামের রোজিনা খাতুন জানান, ভূমি অফিসটি দেখতে অনেক সুন্দর লাগছে। আমার জমির বিষয়ে সমস্যা জানিয়ে দরখাস্ত দিছিলাম। গত রোববার (৩০জানুয়ারী) সিরাজগঞ্জ ভূমি অফিস থেকে আমাকে ফোন দিছে। ফলাফল যাই হোক আমাকে ফোন দিয়ে কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলেছেন এতে আমি অনেক খুশি।’

উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে আরও জানা গেছে, প্রায় উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও একটি পৌর ভূমি অফিসেও লেগেছে এই পরিবর্তনের হাওয়া। ভোগান্তি ছাড়া স্বল্পসময়ের মধ্যে সেবা প্রার্থীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন এখন। শুনানিকালে কোনো পক্ষের কাগজপত্রের ঘাটতি থাকলে আবেদন বাতিল না করে তাকে সময় দেওয়া হচ্ছে। কোনো কাগজের নকল পেতেও কোনো বিড়ম্বনার শিকার হতে হয় না। নানামুখী এসব সেবার পাশাপাশি উপজেলা ভূমি অফিসের পরিবেশগত ও অবকাঠামোগত পরিবর্তনের কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে সহকারী কমিশনার ভূমির উপস্থাপিত নকশা ও কর্মপদ্ধতির প্রশংসা করেছেন সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহম্মেদ।

সহকারি কমিশনার (ভূমি) এস, এম, রবিন শীষ জানান, এখানে যোগদানের পর থেকে ডিসি স্যার ও ইউএনও স্যারের সহায়হায় জরাজীর্ণ ভূমি অফিসের ভেতর বাহিরের কাজ করা হয়েছে এবং ভূমি সংক্রান্ত সকল ফাইল ও সেবা অনলাইনের আওতায় আনা হয়েছে। যিনি সেবাপ্রার্থী কেবলমাত্র তাকেই অফিসে আসতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এতে করে তৃতীয়পক্ষের ভোগান্তি থেকে তারা রক্ষা পাবে। সেবার বিষয়ে তিনি জানান, যে সেবা অফিস থেকে দেওয়া সম্ভব তাৎক্ষণিক তা দেওয়া হচ্ছে। যেটাতে সময় লাগবে সেক্ষেত্রে আবেদনকারীর মোবাইল নম্বরে এসএমএস অথবা ফোনে নির্ধারিত তারিখ বলে দেওয়া হচ্ছে। আর যে
সেবা এখান থেকে দেওয়া সম্ভব নয় সেই সেবা প্রাপ্তির বিষয়ে সঠিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন একজন অফিসার চাইলে উপজেলার অনেক উন্নতি ঘটাতে পারেন। বিষয়টি আমাদের নাড়া দিয়েছে। সৃজনশীল কাজ করার মানসিকতা যেমন আছে, তেমনি ডিসি স্যার ও বর্তমান এমপি স্যার সহায়তার হাত বাড়িয়েছেন। এ কারণে ভূমি অফিসের সেবার মান পরিবেশ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ট্রেনে ঈদ যাত্রার শেষ দিনের টিকিট বিক্রি আজ

দৃষ্টি নন্দনরুপে সেজেছে “সিরাজগঞ্জ ভূমি অফিস”

প্রকাশিত : ০৯:১৮:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২২

সিরাজগঞ্জে ভূমি সংক্রান্ত কাগজপত্রের অনলাইনে আপডেট এর কাজ শুরু হয়েছে এর পাশাপাশি জরাজীর্ণ ভূমি অফিসের ভেতর বাহিরের কারুকাজ দৃষ্টি নন্দন রুপে সাজানো হয়েছে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শহরের প্রাণ কেন্দ্রে পদ্ম পুকুর সংলঙ্গ রাস্তার পাশে সদর উপজেলা ভূমি অফিসটি নতুন আঙ্গিকে সাজানো হয়েছে, বিশেষ করে – অত্যাধুনিক ডিজাইনে পানির ফোয়ারা বসানো হয়েছে, যা পথচারীদের দৃষ্টি আর্কষণ করছে। এছাড়া ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারন মানুষের জন্য রয়েছে মোটরযান পার্কিং, বসার সু-ব্যবস্থা, এবং ছোট পরিসরে বাগান করা হয়েছে। সন্ধায় পানির ফোয়ারা ও অলোকসজ্জায় অপরুপ সৌন্দর্য্যে ফুটে উঠছে।

এছাড়া কোনো হয়রানি ছাড়াই মিলছে জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। ভূমি অফিসের সেবা পেয়ে খুশি, সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ।

সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ এর সার্বিক তত্তবধায়নে পানির ফোয়ারা ও ভূমি অফিসের ভেতর বাহিরের কারুকাজ উদ্বোধন করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার এনডিসি জিএসএম জাফরউল­াহ। সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসএম রবিন শীষ এর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে শহরের চৌরাস্তা সিরাজী রোড পদ্ম পুকুর মোড়ে উপজেলা ভূমি অফিস এখন পথচারীদের চোখ ঝলসানো রুপে সাজানো হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো:মোবারক হোসেন,উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাশুকাতে রাব্বি ও আরডিসি মো. মাসুদ হোসেন এর সহযোগীতায় জরাজীর্ণ উপজেলা ভুমি অফিস অত্যাধুনিক ডিজাইনে সাজানো হয়।

অফিস সূত্রে আরও জানা যায়, বর্তমান স্যার আসার পর থেকেই জনগণের ভোগান্তি লাগবের জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে জনগণের দূরত্ব কমানোর জন্য অফিস কক্ষের দরজায় লিখে রেখেছেন, এসি(ল্যান্ড) কক্ষে আছেন, বিনা অনুমতিতে , জুতাসহ প্রবেশ করুন। শুধু তাই নয় বর্তমান সরকারের ভূমি ব্যবস্থা শতভাগ অনলাইন আপডেট বাস্তবায়নের লক্ষ্যে, ভূমি সংক্রান্ত কাগজপত্র অনলাইনে আপলোড, সপ্তাহে একদিন গণশুনানি আর দ্রুততম সময়ের মধ্যে জমির নামজারিসহ নানামুখী সেবায় পাল্টে গেছে সিরাজগঞ্জ ভূমি অফিস। সেবা নিতে নেই তৃতীয় পক্ষের দৌরাত্ম। কোনো হয়রানি ছাড়াই মিলছে জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। ভূমি অফিসের নানামুখী সেবা পেয়ে খুশি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ। যারা এক সময় তৃতীয়পক্ষের সহায়তা ছাড়া জমির কোনো কাজই করতে পারতেন না, তারাই এখন নিজের সমস্যার কথা নিজেরাই ভূমি অফিসে এসে বলতে পারছেন।

সিরাজগঞ্জ ভূমি অফিস থেকে প্রায় ২৫ ধরনের সেবা দেওয়া থাকে ঃ

১.হাটবাজারের চান্দিনাভিটি একসনা বন্দোবস্ত প্রদান ২.অর্পিত সম্পত্তির লিজির নাম পরিবর্তনসহ লিজ নবায়ন। ৩.খতিয়ানের করণিক ভুল সংশোধন ৪.বন্দোবস্তকৃত খাস জমির দখল বুঝিয়ে দেয়া ৫.ভূমিহীনদের মাঝে কৃষি খাস জমি বন্দোবস্ত প্রদান ৬.হাট বাজারের চান্দিনা ভিটি ব্যবহারের লাইসেন্স নবায়ন ৭.নামজারি ও জমাভাগ/জমা একত্রিকরণের আদেশের রিভিউ ৮.হাটবাজারের চান্দিনাভিটি ভূমি ব্যবহারের লাইসেন্সধারীর নাম পরিবর্তনসহ নবায়ন ৯.নামজারি ও জমাভাগ/জমা একত্রিকরণ ১০.অকৃষি খাস জমি বন্দোবস্ত প্রদান ১১. ভূমি উন্নয়ন কর নির্ধারণীর আপত্তি নিষ্পত্তি ১২.আদিবাসিদের জমি হস্তান্তরের অনুমতি প্রদান ১৩. দেওয়ানী আদালতের রায়/আদেশ মূলে রেকর্ড সংশোধন ১৪.জমির অখণ্ডতার সনদের জন্য আবেদন নিষ্পত্তিকরণ ১৫. পরিত্যক্ত সম্পত্তির (এপি) ইজারাগ্রহীতার নাম পরিবর্তন ১৬. নামজারি ও জমাভাগ/জমা একত্রিকরণ কেসের ডুপ্লিকেট খতিয়ান প্রদান ১৭.সিকস্তি জনিত ভূমি উন্নয়ন করের হার পুনঃনির্ধারণেরর আবেদন নিস্পত্তি ১৮. ভূমির শ্রেণি পরিবর্তনের আবেদন নিস্পত্তি ১৯. রিটার্ন বাতিল বা রিটার্ন দাখিলের মাধ্যমে ভূমি উন্নয়ন কর হার নির্ধারণ ২০. করাত কল স্থাপনের জন্য জমির মালিকানার প্রত্যয়নপত্র প্রদান ২১.নামজারি ও জমাভাগ/জমা একত্রিকরণ/বিবিধ কেসের আদেশের নকল/সার্টিফাইড কপি প্রদান ২২.অর্পিত সম্পত্তির লিজ নবায়ন ২৩ .

পরিত্যক্ত সম্পত্তি (এপি) ইজারা প্রদান ২৪.ভূমি উন্নয়ন কর নির্ধারণে ভূমির ব্যবহার ভিত্তিক শ্রেণি পরিবর্তন এর আবেদন নিষ্পত্তি ২৫ .পরিত্যক্ত সম্পত্তি (এপি) ইজারা নবায়ন

গত সোমবার (৩১ জানুয়ারী) সিরাজগঞ্জ ভূমি অফিসে গিয়ে কথা হয় সদর ইউনিয়ন থেকে আসা লোকমান মিয়ার সাথে। তিনি জানান, ‘কয়েক বছর আগে একবার খারিজ এর জন্য এসেছিলাম, তখন অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে, অনেক টাকা দিয়ে দালাল ধরে কাজ করতে হয়েছে। এখন ১১৫০ টাকা খারিজের জন্য লাগে বাড়তি টাকা নেয়নি বরং আজই তারিখ দিলো এবং টাকার রশিদ দিয়ে দিল।’

জমির মিসকেসের শুনানির জন্যে আসা উপজেলার বহুলী গ্রামের রোজিনা খাতুন জানান, ভূমি অফিসটি দেখতে অনেক সুন্দর লাগছে। আমার জমির বিষয়ে সমস্যা জানিয়ে দরখাস্ত দিছিলাম। গত রোববার (৩০জানুয়ারী) সিরাজগঞ্জ ভূমি অফিস থেকে আমাকে ফোন দিছে। ফলাফল যাই হোক আমাকে ফোন দিয়ে কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলেছেন এতে আমি অনেক খুশি।’

উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে আরও জানা গেছে, প্রায় উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও একটি পৌর ভূমি অফিসেও লেগেছে এই পরিবর্তনের হাওয়া। ভোগান্তি ছাড়া স্বল্পসময়ের মধ্যে সেবা প্রার্থীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন এখন। শুনানিকালে কোনো পক্ষের কাগজপত্রের ঘাটতি থাকলে আবেদন বাতিল না করে তাকে সময় দেওয়া হচ্ছে। কোনো কাগজের নকল পেতেও কোনো বিড়ম্বনার শিকার হতে হয় না। নানামুখী এসব সেবার পাশাপাশি উপজেলা ভূমি অফিসের পরিবেশগত ও অবকাঠামোগত পরিবর্তনের কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে সহকারী কমিশনার ভূমির উপস্থাপিত নকশা ও কর্মপদ্ধতির প্রশংসা করেছেন সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহম্মেদ।

সহকারি কমিশনার (ভূমি) এস, এম, রবিন শীষ জানান, এখানে যোগদানের পর থেকে ডিসি স্যার ও ইউএনও স্যারের সহায়হায় জরাজীর্ণ ভূমি অফিসের ভেতর বাহিরের কাজ করা হয়েছে এবং ভূমি সংক্রান্ত সকল ফাইল ও সেবা অনলাইনের আওতায় আনা হয়েছে। যিনি সেবাপ্রার্থী কেবলমাত্র তাকেই অফিসে আসতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এতে করে তৃতীয়পক্ষের ভোগান্তি থেকে তারা রক্ষা পাবে। সেবার বিষয়ে তিনি জানান, যে সেবা অফিস থেকে দেওয়া সম্ভব তাৎক্ষণিক তা দেওয়া হচ্ছে। যেটাতে সময় লাগবে সেক্ষেত্রে আবেদনকারীর মোবাইল নম্বরে এসএমএস অথবা ফোনে নির্ধারিত তারিখ বলে দেওয়া হচ্ছে। আর যে
সেবা এখান থেকে দেওয়া সম্ভব নয় সেই সেবা প্রাপ্তির বিষয়ে সঠিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন একজন অফিসার চাইলে উপজেলার অনেক উন্নতি ঘটাতে পারেন। বিষয়টি আমাদের নাড়া দিয়েছে। সৃজনশীল কাজ করার মানসিকতা যেমন আছে, তেমনি ডিসি স্যার ও বর্তমান এমপি স্যার সহায়তার হাত বাড়িয়েছেন। এ কারণে ভূমি অফিসের সেবার মান পরিবেশ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর