কুষ্টিয়ার কুমারখালীর গড়ের মাঠ সেতু নির্মানের নামে চলছে জনগণের ভোগান্তি। এক বছরের কার্যাদেশ নিয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সেতু নির্মানের উদ্যোগ নিলেও দুই বছর পার হলেও ওই সেতু নির্মান শেষ করতে পারেনি ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল (এলজিইডি) কুমারখালী এই সেতু নির্মানের কাজ করছে। এখনও সেতুর কাজ বাকী প্রায় ৪০ ভাগ। ফলে জরাজীর্ণ বিকল্প সরু সড়ক দিয়ে চলাচল করছে মানুষ। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে উপজেলার সদকী, জগন্নাথপুর, শিলাইদহ ও পাশ্ববর্তি খোকসা উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের কয়েক লাখ মানুষ। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধিদের তদারকির না করা, প্রকৌশলী কার্যালয়ের উদাসীনতা ও ঠিকাদারের খামখেয়ালীপনায় সেতু নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি আজও। কুমারখালী উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, গড়েরমাঠ বিলের উপর নির্মাণাধীন সেতুটির দৈর্ঘ্য ২৫ মিটার এবং প্রস্থ ৭ দশমিক ৩ মিটার। নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে দুই কোটি ৪৯ লক্ষ ৯২ হাজার ১৯৯ টাকা পাঁচ পঁয়সা। ২০২০ সালের ১২ ফেব্রæয়ারি চুক্তি সম্পন্ন করেন নড়াইল জেলার লোহাগাড়া থানার লক্ষীপাশার মেসার্স নূর কনষ্ট্রাকশন। ওই বছরের ১৯ ফেব্রæয়ারি কাজ শুরু করার চুক্তি ছিল। কিন্তু ঠিকাদারের ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে কাজ শুরু করতে বিলম্ব হয়। এরপর কচ্ছপ গতিতে চলে সেতুর কাজ। অবশেষে মাটির নিচে সেতুর একটি পিলারের কাজ শুরু হতে না হতেই গেল বছরের (২০২১) ২৭ ফেব্রæয়ারি কাজের মেয়াদ শেষ হয়। কিন্তু একবছর মেয়াদি কাজের মেয়াদ শেষ হলেও সেতুর কাজ শেষ হয়নি। এখন পর্যন্ত সেতু নির্মাণের প্রায় ৬০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে সেতুর পিলারের উপর ক্যাপ ঢালাইয়ের কাজ চলছে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রোববার সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, দুই পিলার বিশিষ্ট সেতুর এক পিলারে ক্যাপ ঢালাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। অপরটিতে বাঁধা রয়েছে রডের খাচি। মাত্র তিনজন শ্রমিক ক্যাপ ঢালাইয়ের সাটারিং খোলার কাজ করছে। পাশের জরাজীর্ণ বিকল্প সরু সড়ক দিয়ে চলাচল করছে যানবাহন ও জনগণ। মানুষ ও মালামাল বোঝায় যানববাহন গুলো জনগণ ঠ্যালা দিয়ে দিয়ে পার করছে। প্রতিটি মানুষের মুখে ভোগান্তির ছাপ। এসময় তিনজন শ্রমিকের মধ্যে রমজান আলী নামের একজন বলেন, একটি পিলারের রডের খাচি বাঁধা রয়েছে। অপরটিতে ক্যাপ ঢালাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে সাটারিং খোলার কাজ চলছে। ঠিকাদারের সমস্যার কারণে কাজে লোক কম। বেশি লোক হলে দ্রæত কাজ শেষ হত। এবিষয়ে জগন্নাথপুর ইউনিয়নের হাসিমপুর গ্রামের ভ্যান চালক আব্বাস শেখ বলেন, গড়েরমাঠ সেতুর নির্মাণ কাজের মেয়াদ শেষ হলেও সেতু নির্মাণ হয়নি। ফলে সেতুর পাশে বিকল্প সড়ক সরু পথ দিয়ে চলাচল করছে মানুষ। সেই সরু পথে বর্ষা মৌসুমের অতিবৃষ্টির পানি জমে থাকে। গাড়ি গুলো প্রায় উল্টে যায়, ভেঙে যায়। চরম ভোগান্তিতে আছি। এলাকাবাসী জানায়, এই সেতু দিয়ে কুমারখালী উপজেলার জগন্নাথপুর, শিলাইদহ ও সদকী ইউনিয়ন সহ পার্শ্ববর্তী উপজেলা খোকসা এবং পার্শ্ববর্তী রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার পাংশা, মাছপাড়া ও উত্তর এলাকার কয়েক লাখ মানুষ চলাচল করে। মেয়াদ শেষেও সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় এবং জরাজীর্ণ বিকল্প সড়কটি জনদুর্ভোগ বাড়িয়েই চলছে। এবিষয়ে সদকী ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা মেম্বর মুক্তা খাতুন বলেন, সেতুর নামে খোঁজ নেই, কেবল দুর্ভোগ বাড়ছে। এবিষয়ে ঠিকাদারেরর কেয়ারটেকার টিপু সুলতান বলেন, করোনা আর প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারনে সেতুর কাজ শেষ হয়নি। সময় বাড়ানো হয়েছে। দ্রতই কাজ শেষ হবে। সদকী ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মিনহাজুল আবেদীন দ্বীপ বলেন, গড়েরমাঠ সেতুকে জনদুর্ভোগের শেষ নেই। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। উপজেলা প্রকৌশলী কে বারবার তাগিদ দিয়েও কাজ হচ্ছেনা। উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুর রহিম বলেন, ‘আমি যোগদানের পূর্বে সেতুর কাজ শুরু হয়েছিল। তখন নানাবিধ কারণে কাজে বিলম্ব হয়েছে। তবে যোগদানের পর থেকেই কাজের গতি বেড়েছে। বর্তমানে পিলারের উপর ক্যাপ ঢালাইয়ের কাজ চলছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। আশা করছি চলতি বছরের এপ্রিলের দিকে সেতু ব্যবহারের উপযোগী হবে।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর




















