০৩:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

নকশী কাঁথায় জীবন জীবিকা

মাগুরায় নকশী কাঁথা সেলাই শিখে জীবন জীবিকার পথ তৈরি করেছেন জেলার প্রায় ১২শ’ দরিদ্র পরিবারের নারীরা। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা অঙ্গন নারী ও শিশু উন্নয়ন সংস্থা জেলায় কর্মঠ নারী উদ্যোক্তা তৈরি করতে এ কাজ শুরু করেছে। ইতি মধ্যে তারা মাগুরা সদর ও শালিখা উপজেলার প্রায় ১২শ’ নারীকে নকশী কাঁথা সেলাই প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে।

নারী উদ্যোক্তা নাজনীন নাহার জানান, আমি দরিদ্র পরিবারের মেয়ে। আমার স্বামীর আয় খুবই সামান্য। সেই আয় দিয়ে সংসার চলে না। এরই মধ্যে জানতে পারি অঙ্গন নারী ও শিশু উন্নয়ন সংস্থা থেকে নারীদের নকশী কাঁথার উপর প্রশিক্ষণ প্রদান করছে। আমি সেখানে এসে ২ সপ্তাহের প্রশিক্ষণ গ্রহন করি। সফলতার সাথে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে নিজের উদ্যোগে বাড়িতে নকশী কাঁথা সেলাই শুরু করি। ধীরে ধীরে আমার নকশী কাঁথা বিক্রি হতে থাকে। পরে জেলার বাইরেও বিক্রি শুরু করি। এখন আমি নিজেই বাড়িতে নারীদের নকশী কাঁথা সেলায়ের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। পাশাপাশি এ সংস্থায় ট্রেনার হিসেবে কাজ করছি। আমার তৈরি নকশী কাঁথা প্রতিটি ২ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। নিজ জেলার পাশাপাশি আমি ঢাকা,খুলনাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছি । বছরে আমি নকশী কাঁথা বিক্রি করে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা আয় করছি।

প্রশিক্ষণ নেওয়া অপর ্উদ্যাক্তা জান্নাত জানান, আমি মহিলা কলেজে ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী। নকশী কাঁথার উপর আমি এ সংস্থা থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহন করছি। নকশী কাঁথার বুনন,সেলাই ও ডিজাইন সর্ম্পকে ভালো ধারনা পেয়েছি। আশা রাখছি ভালো কাজ শিখে নকশী কাঁথা সেলাই করতে পারবো।

চন্দনা বিশ্বাস নামে অন্য শিক্ষার্থী জানান, আমি ২ সপ্তাহের প্রশিক্ষণ নিয়েছি। প্রশিক্ষণ শেষে নকশী কাঁথা সেলায়ের নানা উপকরণ পেয়েছি। সেলাই শেখার নানা কৌশল সর্ম্পকে ধারনা পেয়েছি। ইতিমধ্যে আমি বাড়িতে নকশী কাঁথা সেলাই শুরু করেছি। আশা করছি ভালো কাজ তুলতে পারবো।

সংস্থার নির্বাহী পরিচালক কাজী জেনিস ফারজানা বলেন, মাগুরা জেলার সুবিধা বঞ্চিত নারীর অর্থনৈতিক ও কর্মসংস্থার বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমি ২০ বছর ধরে কাজ করছি। ২০০৩ সালে আমি নিজের বাড়িতে কিছু নারীদের নিয়ে শুরু করি হ্যান্ডি ক্র্যাফট এর কাজ। পরে ধীরে ধীরে পায় সফলতা । পরে বুটিকসহ রঙিন কাপড়ের উপর নানা ডিজাইন তৈরি করে শাড়ি ও নারীদের পোশাক তৈরি করি। এই ভাবে চলতে থাকে আমার কাজ । পাশাপাশি জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর থেকের কিছু কাজ শিখে অভিজ্ঞতা অর্জন করি। দীর্ঘ দিনের কাজের অভিজ্ঞতা থেকে নিজের উদ্যোগে তৈরি করি অঙ্গন নারী ও শিশু উন্নয়ন সংস্থা। পরে সংস্থার রেজিস্ট্রেশন পাওয়ার কাজ সম্পন্ন করে কাজের পরিধি বাড়ায়। নারীদের নিয়ে কাজ করতে করতে জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের সহযোগিতায় জেলার সুবিধা বঞ্চিত নারীদের নিয়ে নকশী কাঁথা, ভার্মী কম্পোজ ও বাড়ির আঙ্গিনায় ফুল ফলের চাষ বিষয়ক প্রশিক্ষণের কাজ করি। ইতি মধ্যে মাগুরা সদর ও শালিখায় ৪০টি ব্যাচের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি এ প্রশিক্ষণ চলমান রয়েছে এবং শ্রীপুর উপজেলায় নারীদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে।

জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল আউয়াল জানান, জেলার বঞ্চিত নারীদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য আমরা কাজ করছি। ইতিমধ্যে আমাদের দপ্তরের সহযোগিতায় জেলার বিভিন্ন নারী সংগঠন কাজ করছে। তাদের মধ্যে অঙ্গন নারী ও শিশু সংস্থা অন্যতম। ইতি মধ্যে তারা জেলার সুবিধা বঞ্চিত নারীদের উন্নয়নে নানা প্রশিক্ষণ প্রধান করছে। আমি নিজে তাদের প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কাজের অগ্রগতি মূল্যায়ন করেছি। নকশী কাঁথাসহ অন্যান্য প্রশিক্ষণে নারীদের অংশ গ্রহন খুবই ভালো। আশা রাখছি তাদের ভালো কাজের মাধ্যমে নারীরা অনেক কিছু শিখবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ঈদুল আজহার তারিখ ঘোষণা করল তুরস্ক ও তিউনিসিয়া

নকশী কাঁথায় জীবন জীবিকা

প্রকাশিত : ০৮:৪২:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২২

মাগুরায় নকশী কাঁথা সেলাই শিখে জীবন জীবিকার পথ তৈরি করেছেন জেলার প্রায় ১২শ’ দরিদ্র পরিবারের নারীরা। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা অঙ্গন নারী ও শিশু উন্নয়ন সংস্থা জেলায় কর্মঠ নারী উদ্যোক্তা তৈরি করতে এ কাজ শুরু করেছে। ইতি মধ্যে তারা মাগুরা সদর ও শালিখা উপজেলার প্রায় ১২শ’ নারীকে নকশী কাঁথা সেলাই প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে।

নারী উদ্যোক্তা নাজনীন নাহার জানান, আমি দরিদ্র পরিবারের মেয়ে। আমার স্বামীর আয় খুবই সামান্য। সেই আয় দিয়ে সংসার চলে না। এরই মধ্যে জানতে পারি অঙ্গন নারী ও শিশু উন্নয়ন সংস্থা থেকে নারীদের নকশী কাঁথার উপর প্রশিক্ষণ প্রদান করছে। আমি সেখানে এসে ২ সপ্তাহের প্রশিক্ষণ গ্রহন করি। সফলতার সাথে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে নিজের উদ্যোগে বাড়িতে নকশী কাঁথা সেলাই শুরু করি। ধীরে ধীরে আমার নকশী কাঁথা বিক্রি হতে থাকে। পরে জেলার বাইরেও বিক্রি শুরু করি। এখন আমি নিজেই বাড়িতে নারীদের নকশী কাঁথা সেলায়ের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। পাশাপাশি এ সংস্থায় ট্রেনার হিসেবে কাজ করছি। আমার তৈরি নকশী কাঁথা প্রতিটি ২ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। নিজ জেলার পাশাপাশি আমি ঢাকা,খুলনাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছি । বছরে আমি নকশী কাঁথা বিক্রি করে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা আয় করছি।

প্রশিক্ষণ নেওয়া অপর ্উদ্যাক্তা জান্নাত জানান, আমি মহিলা কলেজে ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী। নকশী কাঁথার উপর আমি এ সংস্থা থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহন করছি। নকশী কাঁথার বুনন,সেলাই ও ডিজাইন সর্ম্পকে ভালো ধারনা পেয়েছি। আশা রাখছি ভালো কাজ শিখে নকশী কাঁথা সেলাই করতে পারবো।

চন্দনা বিশ্বাস নামে অন্য শিক্ষার্থী জানান, আমি ২ সপ্তাহের প্রশিক্ষণ নিয়েছি। প্রশিক্ষণ শেষে নকশী কাঁথা সেলায়ের নানা উপকরণ পেয়েছি। সেলাই শেখার নানা কৌশল সর্ম্পকে ধারনা পেয়েছি। ইতিমধ্যে আমি বাড়িতে নকশী কাঁথা সেলাই শুরু করেছি। আশা করছি ভালো কাজ তুলতে পারবো।

সংস্থার নির্বাহী পরিচালক কাজী জেনিস ফারজানা বলেন, মাগুরা জেলার সুবিধা বঞ্চিত নারীর অর্থনৈতিক ও কর্মসংস্থার বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমি ২০ বছর ধরে কাজ করছি। ২০০৩ সালে আমি নিজের বাড়িতে কিছু নারীদের নিয়ে শুরু করি হ্যান্ডি ক্র্যাফট এর কাজ। পরে ধীরে ধীরে পায় সফলতা । পরে বুটিকসহ রঙিন কাপড়ের উপর নানা ডিজাইন তৈরি করে শাড়ি ও নারীদের পোশাক তৈরি করি। এই ভাবে চলতে থাকে আমার কাজ । পাশাপাশি জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর থেকের কিছু কাজ শিখে অভিজ্ঞতা অর্জন করি। দীর্ঘ দিনের কাজের অভিজ্ঞতা থেকে নিজের উদ্যোগে তৈরি করি অঙ্গন নারী ও শিশু উন্নয়ন সংস্থা। পরে সংস্থার রেজিস্ট্রেশন পাওয়ার কাজ সম্পন্ন করে কাজের পরিধি বাড়ায়। নারীদের নিয়ে কাজ করতে করতে জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের সহযোগিতায় জেলার সুবিধা বঞ্চিত নারীদের নিয়ে নকশী কাঁথা, ভার্মী কম্পোজ ও বাড়ির আঙ্গিনায় ফুল ফলের চাষ বিষয়ক প্রশিক্ষণের কাজ করি। ইতি মধ্যে মাগুরা সদর ও শালিখায় ৪০টি ব্যাচের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি এ প্রশিক্ষণ চলমান রয়েছে এবং শ্রীপুর উপজেলায় নারীদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে।

জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল আউয়াল জানান, জেলার বঞ্চিত নারীদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য আমরা কাজ করছি। ইতিমধ্যে আমাদের দপ্তরের সহযোগিতায় জেলার বিভিন্ন নারী সংগঠন কাজ করছে। তাদের মধ্যে অঙ্গন নারী ও শিশু সংস্থা অন্যতম। ইতি মধ্যে তারা জেলার সুবিধা বঞ্চিত নারীদের উন্নয়নে নানা প্রশিক্ষণ প্রধান করছে। আমি নিজে তাদের প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কাজের অগ্রগতি মূল্যায়ন করেছি। নকশী কাঁথাসহ অন্যান্য প্রশিক্ষণে নারীদের অংশ গ্রহন খুবই ভালো। আশা রাখছি তাদের ভালো কাজের মাধ্যমে নারীরা অনেক কিছু শিখবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর