০৪:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

ভারত থেকে দুই যুগে সর্বোচ্চ পানি

:গত জানুয়ারি মাসে ভারতের গঙ্গা নদীর ফারাক্কা পয়েন্টে বাংলাদেশকে সবচেয়ে বেশি পানি দিয়েছে ভারত, যা গত ২৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ওই সময় গড়ে প্রতিদিন ৯৫ হাজার ২২৬ কিউসেক পানি পেয়েছে বাংলাদেশ।

১৯৯৬ সালে ভারতের সঙ্গে গঙ্গা চুক্তি সই হওয়ার পর বাংলাদেশ সর্বোচ্চ পানি পেয়েছিল ১৯৯৮ সালের এসময়ে, ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪১৭ কিউসেক।
যৌথ নদী কমিশন, বাংলাদেশ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
এদিকে ভারত ফারাক্কা পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশকে পানি বেশি দেওয়ায় তার প্রভাব পড়েছে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পের রবি মৌসুমে। জিকে প্রকল্পের খালগুলো ভরে উঠেছে পানিতে।

১ থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পদ্মা নদীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকা সরেজমিন পরিদর্শনে নদীতে চর দেখা যায়নি। এর আগে অন্য বছরগুলোতে এ সময় সাধারণত হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে ধুধু বালুচর দেখা যেত। গরু চরতেও দেখা গেছে। তবে এবার নদীতে সেসব দৃশ্য দেখা যায়নি। এমনকি বহুদিন বন্ধ থাকা দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) প্রকল্পের খালগুলোতে পানি উপচে পড়ছে। কুষ্টিয়ার মিরপুর এলাকায় জিকে প্রকল্পের খাল সরেজমিনে পানি ভর্তি দেখা গেছে।

এবার ফারাক্কা পয়েন্টে বেশি পানি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উত্তরাঞ্চলীয় পানি পরিমাপ বিভাগ (হাইড্রোলজি) পাবনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী রইচ উদ্দিন।

তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শুষ্ক মৌসুমে পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে প্রতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশ-ভারত যৌথভাবে পানি পরিমাপ শুরু করে। এবারও পরিমাপ শুরু হয়েছে। আগামী ৩১ মে পর্যন্ত দুই দেশের প্রতিদিধিদল গঙ্গা ও পদ্মায় এই যৌথ পরিমাপ চালাবে। ’ তিনি বলেন, এবার অন্যবারের তুলনায় ফারাক্কা পয়েন্টে বেশি পানি পাওয়া গেছে। যার প্রভাব পড়েছে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায়। পদ্মার ওই অংশে এবার অন্যবারের তুলনায় পানি বেশি।

বেশি পানি পাওয়ার কারণ জানতে চাইলে প্রকৌশলী রইচ উদ্দিন বলেন, ‘এবার বৃষ্টিপাত উজানে, মানে ভারত অংশে বেশি হয়েছিল। সে কারণে সেখানে পানির পরিমাণ বেশি ছিল। সে কারণেই আমরাও বেশি পানি পেয়েছি। ’ যৌথ নদী কমিশন, বাংলাদেশের ফেব্রুয়ারির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১-১০ জানুয়ারি ফারাক্কায় পয়েন্টে বাংলাদেশ পানি পেয়েছে ৯৭ হাজার ৬৭৬ কিউসেক (নদীর একটি নির্দিষ্ট অংশ দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে যত ঘনফুট পানি প্রবাহিত হয়)। ১১-২০ জানুয়ারি ৯৩ হাজার ২৩৭ ও ২১-৩১ জানুয়ারি ৯৪ হাজার ৭৬৫ কিউসেক পানি পাওয়া গেছে।

ঐতিহাসিক গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির নেপথ্যের কারিগরদের একজন পানি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ ও ব্র্যাক বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আইনুন নিশাত ফারাক্কা পয়েন্টে পানিপ্রবাহ সম্পর্কে বলেন, ‘এবার বর্ষার শুরুতে বৃষ্টি কম ছিল। বৃষ্টি হয়েছে বেশি সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে। দেরিতে বৃষ্টি হওয়ার কারণে তিস্তা অববাহিকা থেকে পানি নামতেও দেরি হয়েছে। সে কারণে এবার শুষ্ক মৌসুমে পানি বেশি পাওয়া যাচ্ছে। ’ তিনি আরও বলেন, ‘এই সময় বাংলাদেশে সর্বোচ্চ পানির চাহিদা থাকে। ভারতেও এই সময় চাহিদা বেশি থাকে। আগামী এপ্রিল-জুনে পানি কতটুকু পাওয়া যাবে, সেটা আমাদের মাথায় রাখতে হবে। আমাদের পানি ধরে রাখতে হবে, এ জন্য আমাদের উচিত ছিল গঙ্গা ব্যারাজ করা। ’

ড. আইনুন নিশাত বলেন, ‘চুক্তির পর ১৯৯৭ সাল থেকে গঙ্গা ব্যারাজ করার জন্য নানা ফোরামে বলা হলেও এখন পর্যন্ত এটি করার ব্যাপারে উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। অথচ ভারত এই ব্যারাজ করতে রাজি, এতে বিশ^ব্যাংকও টাকা দিতে চায়। কিন্তু আমরা কোনো উদ্যোগ নিলাম না। ’ ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর গঙ্গা নদীর পানির হিস্যার জন্য বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৩০ বছর মেয়াদি চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী শুষ্ক মৌসুমে পানি প্রাপ্তি পর্যবেক্ষণের জন্য প্রতি বছর জানুয়ারি মাসের প্রথম দিনে দুই দেশের প্রতিনিধিরা মিলে পানি পরিমাপ শুরু করেন। শুষ্ক মৌসুম হিসেবে ধরা হয় জানুয়ারি থেকে মে মাস।

গঙ্গা চুক্তি অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ১০ দিনওয়ারি ফারাক্কা পয়েন্টে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পানি বণ্টন করা হয়। এই চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম ১০ দিনে ফারাক্কায় ৭০ হাজার কিউসেক বা তার কম পানির প্রবাহ থাকলে বাংলাদেশ ও ভারত উভয়েই ৫০ শতাংশ করে পানি পাবে। দ্বিতীয় ১০ দিনে ফারাক্কা পয়েন্টে ৭০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার কিউসেক পানিপ্রবাহ থাকলে বাংলাদেশ ৩৫ হাজার কিউসেক পানি পাবে। তৃতীয় ১০ দিন ফারাক্কা পয়েন্টে ৭৫ হাজার বা তার বেশি পানিপ্রবাহ থাকলে ভারত পাবে ৪০ হাজার কিউসেক, বাকিটা পাবে বাংলাদেশ। তবে এই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ১১ মার্চ থেকে ১০ মে পর্যন্ত বাংলাদেশ-ভারত উভয় দেশ তিন দফা ১০ দিনের হিসাবের ক্রমানুসারে ৩৫ হাজার কিউসেক করে পানি পাবে।

গঙ্গা চুক্তির পর সর্বনিম্ন পানি বাংলাদেশ পেয়েছে ২০০৬ সালের এপ্রিলে। ২০০৬ সালের এপ্রিলে ১১ থেকে ২০ তারিখে ছিল চুক্তির ইতিহাসে সব থেকে কম পানি পাওয়ার সময়। তখন ভারত ফারাক্কা পয়েন্টে বাংলাদেশকে পানি দিয়েছে ১৫ হাজার ১১৮ কিউসেক। দ্বিতীয় সর্বনিম্ন পানি পাওয়া গেছে ওই বছরের ২১-৩১ মার্চ সময়ে, ১৫ হাজার ৭২৭ কিউসেক।

কুষ্টিয়ার মিরপুর এলাকায় জিকে সেচ প্রকল্প খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছিল ২০১৭ সাল থেকে। সেচপাম্প নষ্ট হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পদ্মায় পানি কমে যাওয়ায় প্রকল্পে পানি মিলছিল না। গত ১৮ জানুয়ারি প্রকল্পের কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। এবার পদ্মায় পানি বেশি থাকায় সেচ প্রকল্পে পানি নিতেও সমস্যা হচ্ছে না। কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মাগুরা ও ঝিনাইদহের ১৩টি উপজেলার প্রায় ৯৬ হাজার হেক্টর জমি এই প্রকল্পের আওতায় আবাদ হয়।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ঈদুল আজহার তারিখ ঘোষণা করল তুরস্ক ও তিউনিসিয়া

ভারত থেকে দুই যুগে সর্বোচ্চ পানি

প্রকাশিত : ০৪:৩৩:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২২

:গত জানুয়ারি মাসে ভারতের গঙ্গা নদীর ফারাক্কা পয়েন্টে বাংলাদেশকে সবচেয়ে বেশি পানি দিয়েছে ভারত, যা গত ২৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ওই সময় গড়ে প্রতিদিন ৯৫ হাজার ২২৬ কিউসেক পানি পেয়েছে বাংলাদেশ।

১৯৯৬ সালে ভারতের সঙ্গে গঙ্গা চুক্তি সই হওয়ার পর বাংলাদেশ সর্বোচ্চ পানি পেয়েছিল ১৯৯৮ সালের এসময়ে, ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪১৭ কিউসেক।
যৌথ নদী কমিশন, বাংলাদেশ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
এদিকে ভারত ফারাক্কা পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশকে পানি বেশি দেওয়ায় তার প্রভাব পড়েছে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পের রবি মৌসুমে। জিকে প্রকল্পের খালগুলো ভরে উঠেছে পানিতে।

১ থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পদ্মা নদীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকা সরেজমিন পরিদর্শনে নদীতে চর দেখা যায়নি। এর আগে অন্য বছরগুলোতে এ সময় সাধারণত হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে ধুধু বালুচর দেখা যেত। গরু চরতেও দেখা গেছে। তবে এবার নদীতে সেসব দৃশ্য দেখা যায়নি। এমনকি বহুদিন বন্ধ থাকা দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) প্রকল্পের খালগুলোতে পানি উপচে পড়ছে। কুষ্টিয়ার মিরপুর এলাকায় জিকে প্রকল্পের খাল সরেজমিনে পানি ভর্তি দেখা গেছে।

এবার ফারাক্কা পয়েন্টে বেশি পানি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উত্তরাঞ্চলীয় পানি পরিমাপ বিভাগ (হাইড্রোলজি) পাবনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী রইচ উদ্দিন।

তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শুষ্ক মৌসুমে পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে প্রতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশ-ভারত যৌথভাবে পানি পরিমাপ শুরু করে। এবারও পরিমাপ শুরু হয়েছে। আগামী ৩১ মে পর্যন্ত দুই দেশের প্রতিদিধিদল গঙ্গা ও পদ্মায় এই যৌথ পরিমাপ চালাবে। ’ তিনি বলেন, এবার অন্যবারের তুলনায় ফারাক্কা পয়েন্টে বেশি পানি পাওয়া গেছে। যার প্রভাব পড়েছে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায়। পদ্মার ওই অংশে এবার অন্যবারের তুলনায় পানি বেশি।

বেশি পানি পাওয়ার কারণ জানতে চাইলে প্রকৌশলী রইচ উদ্দিন বলেন, ‘এবার বৃষ্টিপাত উজানে, মানে ভারত অংশে বেশি হয়েছিল। সে কারণে সেখানে পানির পরিমাণ বেশি ছিল। সে কারণেই আমরাও বেশি পানি পেয়েছি। ’ যৌথ নদী কমিশন, বাংলাদেশের ফেব্রুয়ারির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১-১০ জানুয়ারি ফারাক্কায় পয়েন্টে বাংলাদেশ পানি পেয়েছে ৯৭ হাজার ৬৭৬ কিউসেক (নদীর একটি নির্দিষ্ট অংশ দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে যত ঘনফুট পানি প্রবাহিত হয়)। ১১-২০ জানুয়ারি ৯৩ হাজার ২৩৭ ও ২১-৩১ জানুয়ারি ৯৪ হাজার ৭৬৫ কিউসেক পানি পাওয়া গেছে।

ঐতিহাসিক গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির নেপথ্যের কারিগরদের একজন পানি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ ও ব্র্যাক বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আইনুন নিশাত ফারাক্কা পয়েন্টে পানিপ্রবাহ সম্পর্কে বলেন, ‘এবার বর্ষার শুরুতে বৃষ্টি কম ছিল। বৃষ্টি হয়েছে বেশি সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে। দেরিতে বৃষ্টি হওয়ার কারণে তিস্তা অববাহিকা থেকে পানি নামতেও দেরি হয়েছে। সে কারণে এবার শুষ্ক মৌসুমে পানি বেশি পাওয়া যাচ্ছে। ’ তিনি আরও বলেন, ‘এই সময় বাংলাদেশে সর্বোচ্চ পানির চাহিদা থাকে। ভারতেও এই সময় চাহিদা বেশি থাকে। আগামী এপ্রিল-জুনে পানি কতটুকু পাওয়া যাবে, সেটা আমাদের মাথায় রাখতে হবে। আমাদের পানি ধরে রাখতে হবে, এ জন্য আমাদের উচিত ছিল গঙ্গা ব্যারাজ করা। ’

ড. আইনুন নিশাত বলেন, ‘চুক্তির পর ১৯৯৭ সাল থেকে গঙ্গা ব্যারাজ করার জন্য নানা ফোরামে বলা হলেও এখন পর্যন্ত এটি করার ব্যাপারে উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। অথচ ভারত এই ব্যারাজ করতে রাজি, এতে বিশ^ব্যাংকও টাকা দিতে চায়। কিন্তু আমরা কোনো উদ্যোগ নিলাম না। ’ ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর গঙ্গা নদীর পানির হিস্যার জন্য বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৩০ বছর মেয়াদি চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী শুষ্ক মৌসুমে পানি প্রাপ্তি পর্যবেক্ষণের জন্য প্রতি বছর জানুয়ারি মাসের প্রথম দিনে দুই দেশের প্রতিনিধিরা মিলে পানি পরিমাপ শুরু করেন। শুষ্ক মৌসুম হিসেবে ধরা হয় জানুয়ারি থেকে মে মাস।

গঙ্গা চুক্তি অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ১০ দিনওয়ারি ফারাক্কা পয়েন্টে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পানি বণ্টন করা হয়। এই চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম ১০ দিনে ফারাক্কায় ৭০ হাজার কিউসেক বা তার কম পানির প্রবাহ থাকলে বাংলাদেশ ও ভারত উভয়েই ৫০ শতাংশ করে পানি পাবে। দ্বিতীয় ১০ দিনে ফারাক্কা পয়েন্টে ৭০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার কিউসেক পানিপ্রবাহ থাকলে বাংলাদেশ ৩৫ হাজার কিউসেক পানি পাবে। তৃতীয় ১০ দিন ফারাক্কা পয়েন্টে ৭৫ হাজার বা তার বেশি পানিপ্রবাহ থাকলে ভারত পাবে ৪০ হাজার কিউসেক, বাকিটা পাবে বাংলাদেশ। তবে এই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ১১ মার্চ থেকে ১০ মে পর্যন্ত বাংলাদেশ-ভারত উভয় দেশ তিন দফা ১০ দিনের হিসাবের ক্রমানুসারে ৩৫ হাজার কিউসেক করে পানি পাবে।

গঙ্গা চুক্তির পর সর্বনিম্ন পানি বাংলাদেশ পেয়েছে ২০০৬ সালের এপ্রিলে। ২০০৬ সালের এপ্রিলে ১১ থেকে ২০ তারিখে ছিল চুক্তির ইতিহাসে সব থেকে কম পানি পাওয়ার সময়। তখন ভারত ফারাক্কা পয়েন্টে বাংলাদেশকে পানি দিয়েছে ১৫ হাজার ১১৮ কিউসেক। দ্বিতীয় সর্বনিম্ন পানি পাওয়া গেছে ওই বছরের ২১-৩১ মার্চ সময়ে, ১৫ হাজার ৭২৭ কিউসেক।

কুষ্টিয়ার মিরপুর এলাকায় জিকে সেচ প্রকল্প খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছিল ২০১৭ সাল থেকে। সেচপাম্প নষ্ট হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পদ্মায় পানি কমে যাওয়ায় প্রকল্পে পানি মিলছিল না। গত ১৮ জানুয়ারি প্রকল্পের কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। এবার পদ্মায় পানি বেশি থাকায় সেচ প্রকল্পে পানি নিতেও সমস্যা হচ্ছে না। কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মাগুরা ও ঝিনাইদহের ১৩টি উপজেলার প্রায় ৯৬ হাজার হেক্টর জমি এই প্রকল্পের আওতায় আবাদ হয়।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ