মাতৃভাষা বাংলার চেতনায় উজ্জেবিত হয়ে ১৯৫৯ সালে মুরাদনগরে ভাষা শহীদদের স্বরণে প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ ও ভাষা দিবস পালিত হয় কোম্পানীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গন। তারপর দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৬ সালে শহীদ মিনারটি স্থায়ীভাবে পাকা করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন স্কুলের প্রায়াত বাংলা শিক্ষক এম এ মতিন মাস্টার।
এর আগে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক রমেশ চন্দ্র পাল মুলিবাঁশ ও কালো কাপড় দিয়ে শহীদ মিনার বানিয়ে ভাষা শহীদদের স্বরন করতেন বলে জানা গেছে।
স্কুলের দপ্তরী আবুল কাশেম বলেন, ভাষা শহীদদের সম্মানে ১৯৭৬ সালে শহীদ মিনার পাকা করার কাজটি সম্পন্ন করেন এম এ মতিন মাস্টার। তিনি ছাত্রদের নিয়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে ইট,বালি-সিমেন্ট এনে এটি পাকা করেন। আমিও তাদের সাথে কাজ করেছি। তখন সিমেন্ট দিয়েছিলেন ব্যবসায়ী মির্জা শাসমুল হক।
১৯৭৬ সালে নবম শ্রেনীতে পড়–য়া স্কুলের ছাত্র আব্দুল মোমেন বলেন, মতিন স্যারের উদ্যোগে শহীদ মিনার স্থাপনে আমরা কয়েকজন ছাত্র সরাসরি কাজ করেছি। আমার জানামতে আশে পাশের কয়েকটি উপজেলার মধ্যে এটিই প্রথম পাঁকা শহীদ মিনার।
হায়দ্রাবাদ জাহানারা হক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহজাহান বলেন, ১৯৭৬ সালের ১৯ ফেব্রয়ারী রাতে মতিন স্যারের নেতৃত্বে আমরা কতিপয় ছাত্র ইট-বালি সংগ্রহ করে উক্ত শহীদ মিনার স্থাপন করি। তখন আমাদের সাথে ছিলেন, সাইফুল আলম মামুন, আব্দুর রহিম মাস্টার, হারুনুর রশিদ, এনামুল হক বাবুল, চন্দন বনিক, কপিল সাহা, প্রদীপ সাহাসহ আরো অনেকে।
স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র চন্দ্রন বনিক বলেন, ২০০৫ সালে শহীদ মিনারটি বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে পুনঃস্থাপন করা হয়। ২০২০ সালে বর্তমান প্রধান শিক্ষক মফিজ উদ্দিন এর পৃষ্টপোষকতায় শহীদ মিনারটি আরো অত্যাধুনিক রুপে বাস্তবায়ন করেন কুমিল্লা জেলা পরিষদ। এর আগে ১৯৭৬ সালে মতিন মাস্টারের সাথে থেকে আমরা শহীদ মিনার পাকা করি। মুরাদনগর উপজেলার মধ্যে এটিই প্রথম পাঁকা শহীদ মিনার।
কোম্পানীগঞ্জ বদিউল আলম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, গোমতী বিধৌত কোম্পানীগঞ্জ বদিউল আলম উচ্চ বিদ্যালয় ১৯৫৭ সালে সাবেক এম, এন, এ আবুল হাশেম প্রতিষ্ঠা করেন। আমার জানামতে ১৯৫৯ সালের পর থেকে স্কুলটিতে ভাষা দিবস যথাযথ পালন করে আসছেন। আমি ২০১৫ সালে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বভার গ্রহণ করি। সরকারী নিদের্শনা মোতাবেক প্রতিবছর একুশ এলেই ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে ভাষা শহীদদের স্বরনে ‘শহীদ মিনারে’ শ্রদ্ধা নিবেদন ও তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করি।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর




















