গোপালগঞ্জ সদরে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িত ৬ জনকে আটক করেছে রেপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র্যাব)। শনিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে কারওয়ান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
এর আগে গত শুক্রবার রাতে র্যাব-৮ এর একটি দল গোপালগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।
আটককৃতরা হলেন, গোপালগঞ্জের নবীনবাগ এলাকার মোহাম্মদ সাফায়েত মিয়ার ছেলে রাকিব মিয়া (প্রকাশ ইমন) মো. বাবুল ফকিরের ছেলে পিয়াস ফকির, পরেশ বিশ্বাসের ছেলে প্রদীপ বিশ্বাস, ওহিদুজ্জামানের ছেলে নাহিদ রায়হান, মৃত চান মিয়ার ছেলে হেলাল, মোল্লার হাটের বিকাশ মহন্তের ছেলে তূর্য মহন্ত।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ২৩ ফেব্রুয়ারী গোপালগঞ্জ সদরের নবীনবাগ হেলিপ্যাডে থেকে ওই শিক্ষার্থী বন্ধুর সাথে মেসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হলে পথিমধ্যে একদল যুবক তাকে উত্যক্ত করে। এসময় প্রতিবাদ করলে বখাটেরা তার বন্ধুকে এলোপাথাড়ি মারধর করে এবং শিক্ষার্থীকে একটি পরিত্যাক্ত ভবনে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা করলে চাঞ্চল্যকর ও আলোচিত ধর্ষণে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। পরে শুক্রবার রাতে র্যাব-৮ এর একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত ৬ ধর্ষককে আটক করে।
কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় গ্রেপ্তারকৃতরা মূলত রাকিবের নেতৃত্বে স্থানীয় একটি অপরাধ চক্রের সদস্য, তারা সকলে গোপালগঞ্জ ও তার আশেপাশের এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা। এর মধ্যে তুর্য মোহন্ত ব্যতীত সবাই ৮ থেকে ১০ বছর ধরে নবীনবাগের বিভিন্ন স্থানে চুরি ছিনতাই, মাদক সেবন, জুয়াসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত।
তিনি জানান, আটককৃত প্রধান আসামি রাকিবের বিরুদ্ধে মাদক ও মারামারির মামলা রয়েছে, পিয়াস ফকির একটি পাওয়ার হাউজে এক মজুরের ভিত্তিতে কাজ করে। প্রদীপ বিশ্বাস সপ্তম শ্রেণি পযন্ত পড়েছে। সে হোম সার্ভিসের মাধ্যমে এসি ও ফ্রিজ মেরামতের কাজ করে। নাহিদ রায়হান ও হেলাল স্থানীয় একটি কলেজে স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যায়নরত। তুর্জ মহন্ত খুলনার একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ২০১৮ সালে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করে। তার বিরুদ্ধে একটি মারামারির মামলা রয়েছে।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ


























