০৫:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬

বিদেশী প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ক্লোন করে বিনিয়োগ প্রতারণায় ২ সদস‍্য’কে গ্রেফতার করেছে সিআইডি

নেদারল্যান্ডসের (Withlocals) নামীয় প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ক্লোন করে একই নাম ও ডিজাইনে একটি ভুয়া ওয়েবপেজ তৈরি করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিনিয়োগ প্রতারণার অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের মূলহোতাসহ ০২ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে বাংলাদেশ পুলিশ সিআইডি।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের নাম যথাক্রমে তৌহিদ ভূঁইয়া (২১)হৃদয় হাসান (২১)মামলার এজাহারভুক্ত এবং তৌহিদ ভূঁইয়া (২১) তদন্তে প্রাপ্ত অভিযুক্ত।

মামলার এজাহারে জানা যায়, প্রতারক চক্র নিজেদের তৈরি করা ভুয়া ওয়েবসাইটের লিংক চক্রের অপরাপর সদস্যদের মাধ্যমে ভিকটিমদের কাছে পাঠিয়েছিল। নিজেদেরকে উক্ত বিদেশি কোম্পানির কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে দ্রুত লভ্যাংশ প্রদানের প্রতিশ্রুতিতে ভিকটিমদের নানা প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে বিভিন্ন অংকের অর্থ বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করে। ভিকটিম প্রলুব্ধ হয়ে উক্ত ভুয়া প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগ করে। এভাবে অন্তত একজন ভিকটিমের কাছ থেকে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে। ভিকটিম প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে পল্টন থানার মামলা নং-০২, তারিখ- ১ নভেম্বর ২০২৫ খ্রি., ধারা- ৪২০/৪০৬/৩৪/১০৯ পেনাল কোড দায়ের করে।

মামলাটি তদন্তকালে সিআইডি ঢাকা মেট্রো পূর্ব বিভাগ উক্ত প্রতারণা চক্রের কার্যক্রম শনাক্ত করে। তদন্তে জানা যায়, এজাহারভুক্ত অভিযুক্ত হৃদয় হাসান (২১) দীর্ঘদিন ধরে একটি টেলিগ্রাম গ্রুপ ব্যবহার করে বিদেশি কোম্পানিতে বিনিয়োগের নামে প্রতারণা করে আসছিল।

গত ৭ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি. তারিখে সিআইডি ঢাকা মেট্রো পূর্ব বিভাগের একটি আভিযানিক দল (১) তৌহিদ ভূঁইয়া (২১) কে জামালপুর সদর থানাধীন স্টেশন রোড এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিনে প্রতারণা চক্রের মূল হোতা (২) হৃদয় হাসান (২১)কে একই এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

হৃদয় হাসান (২১) এর কাছ থেকে জব্দকৃত স্মার্টফোন ও ডিজিটাল ডিভাইস বিশ্লেষণ করে জানা যায়, সে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে খোলা প্রায় ৩০টি ব্যাংক হিসাব নিয়ন্ত্রণ করত। পাশাপাশি তার ব্যবহৃত দুটি বাইনান্স অ্যাকাউন্ট ভিন্ন ব্যক্তির নামে খোলা হলেও উক্ত অ্যাকাউন্টগুলোর সঙ্গে অভিযুক্ত হৃদয় হাসান (২১) এর বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্ট সংযুক্ত ছিল।

ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণে আরও পাওয়া যায় যে, হৃদয়ের স্মার্টফোনে ১৫টি কিউআর কোড রয়েছে, যার মাধ্যমে সে একাধিক টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে লগইন করে প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। (২) হৃদয় হাসান (২১) নিজেকে একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার দাবি করে ওয়েবপেজ ডেভেলপমেন্টের কাজ করার কথা বললেও বাস্তবে বিদেশি কোম্পানির ওয়েবসাইট ক্লোন করে বিনিয়োগ প্রতারণায় লিপ্ত ছিল।

সিআইডি ঢাকা মেট্রো পূর্ব বিভাগের টিম উক্ত প্রতারক চক্রের উপরোল্লিখিত ০২ সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত উভয় আসামি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের অপরাধ স্বীকার করেছে।

বর্তমানে বাইনান্স অ্যাকাউন্টের লেনদেন, সংশ্লিষ্ট ৩০টি ব্যাংক হিসাবের পূর্ণাঙ্গ আর্থিক তথ্য, ভিকটিমের সংখ্যা এবং চক্রের অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্তে গ্রেফতারকৃতদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে বিজ্ঞ আদালতে আবেদন প্রেরণ করা হয়েছে।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিআইডি ঢাকা মেট্রো পূর্ব বিভাগ। অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন, অজ্ঞাত অপর সদস্যদের শনাক্তকরণ ও অন্যান্য আইনানুগ প্রক্রিয়ার স্বার্থে সিআইডির তদন্ত ও অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

অনলাইন বিনিয়োগ প্রতারণা, সাইবার জালিয়াতি ও আর্থিক অপরাধ দমনে সিআইডি কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং এ ধরনের অপরাধে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন পবিপ্রবির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর

বিদেশী প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ক্লোন করে বিনিয়োগ প্রতারণায় ২ সদস‍্য’কে গ্রেফতার করেছে সিআইডি

প্রকাশিত : ১২:১৭:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

নেদারল্যান্ডসের (Withlocals) নামীয় প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ক্লোন করে একই নাম ও ডিজাইনে একটি ভুয়া ওয়েবপেজ তৈরি করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিনিয়োগ প্রতারণার অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের মূলহোতাসহ ০২ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে বাংলাদেশ পুলিশ সিআইডি।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের নাম যথাক্রমে তৌহিদ ভূঁইয়া (২১)হৃদয় হাসান (২১)মামলার এজাহারভুক্ত এবং তৌহিদ ভূঁইয়া (২১) তদন্তে প্রাপ্ত অভিযুক্ত।

মামলার এজাহারে জানা যায়, প্রতারক চক্র নিজেদের তৈরি করা ভুয়া ওয়েবসাইটের লিংক চক্রের অপরাপর সদস্যদের মাধ্যমে ভিকটিমদের কাছে পাঠিয়েছিল। নিজেদেরকে উক্ত বিদেশি কোম্পানির কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে দ্রুত লভ্যাংশ প্রদানের প্রতিশ্রুতিতে ভিকটিমদের নানা প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে বিভিন্ন অংকের অর্থ বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করে। ভিকটিম প্রলুব্ধ হয়ে উক্ত ভুয়া প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগ করে। এভাবে অন্তত একজন ভিকটিমের কাছ থেকে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে। ভিকটিম প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে পল্টন থানার মামলা নং-০২, তারিখ- ১ নভেম্বর ২০২৫ খ্রি., ধারা- ৪২০/৪০৬/৩৪/১০৯ পেনাল কোড দায়ের করে।

মামলাটি তদন্তকালে সিআইডি ঢাকা মেট্রো পূর্ব বিভাগ উক্ত প্রতারণা চক্রের কার্যক্রম শনাক্ত করে। তদন্তে জানা যায়, এজাহারভুক্ত অভিযুক্ত হৃদয় হাসান (২১) দীর্ঘদিন ধরে একটি টেলিগ্রাম গ্রুপ ব্যবহার করে বিদেশি কোম্পানিতে বিনিয়োগের নামে প্রতারণা করে আসছিল।

গত ৭ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি. তারিখে সিআইডি ঢাকা মেট্রো পূর্ব বিভাগের একটি আভিযানিক দল (১) তৌহিদ ভূঁইয়া (২১) কে জামালপুর সদর থানাধীন স্টেশন রোড এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিনে প্রতারণা চক্রের মূল হোতা (২) হৃদয় হাসান (২১)কে একই এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

হৃদয় হাসান (২১) এর কাছ থেকে জব্দকৃত স্মার্টফোন ও ডিজিটাল ডিভাইস বিশ্লেষণ করে জানা যায়, সে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে খোলা প্রায় ৩০টি ব্যাংক হিসাব নিয়ন্ত্রণ করত। পাশাপাশি তার ব্যবহৃত দুটি বাইনান্স অ্যাকাউন্ট ভিন্ন ব্যক্তির নামে খোলা হলেও উক্ত অ্যাকাউন্টগুলোর সঙ্গে অভিযুক্ত হৃদয় হাসান (২১) এর বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্ট সংযুক্ত ছিল।

ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণে আরও পাওয়া যায় যে, হৃদয়ের স্মার্টফোনে ১৫টি কিউআর কোড রয়েছে, যার মাধ্যমে সে একাধিক টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে লগইন করে প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। (২) হৃদয় হাসান (২১) নিজেকে একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার দাবি করে ওয়েবপেজ ডেভেলপমেন্টের কাজ করার কথা বললেও বাস্তবে বিদেশি কোম্পানির ওয়েবসাইট ক্লোন করে বিনিয়োগ প্রতারণায় লিপ্ত ছিল।

সিআইডি ঢাকা মেট্রো পূর্ব বিভাগের টিম উক্ত প্রতারক চক্রের উপরোল্লিখিত ০২ সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত উভয় আসামি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের অপরাধ স্বীকার করেছে।

বর্তমানে বাইনান্স অ্যাকাউন্টের লেনদেন, সংশ্লিষ্ট ৩০টি ব্যাংক হিসাবের পূর্ণাঙ্গ আর্থিক তথ্য, ভিকটিমের সংখ্যা এবং চক্রের অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্তে গ্রেফতারকৃতদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে বিজ্ঞ আদালতে আবেদন প্রেরণ করা হয়েছে।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিআইডি ঢাকা মেট্রো পূর্ব বিভাগ। অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন, অজ্ঞাত অপর সদস্যদের শনাক্তকরণ ও অন্যান্য আইনানুগ প্রক্রিয়ার স্বার্থে সিআইডির তদন্ত ও অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

অনলাইন বিনিয়োগ প্রতারণা, সাইবার জালিয়াতি ও আর্থিক অপরাধ দমনে সিআইডি কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং এ ধরনের অপরাধে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

ডিএস./