০৫:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

গরমে বেড়েছে হাতপাখা কারিগরদের ব্যস্ততা

বেড়েছে গরম, বেড়েছে রাজবাড়ীর হাতপাখা কারিগরদের ব্যস্ততা। প্রচণ্ড গরমে পাখার কদর এখন সবখানে। আর তাই এ পাখা তৈরির কারিগরদের এখন যেন নিঃশ্বাস ফেলার সময় নেই। এই গরমে মানুষকে একটু শান্তির পরশ দিতে দিন-রাত পরিশ্রম করে পাখা তৈরি করছেন রাজবাড়ীর তালপাখা কারিগররা।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, পূর্ব পুরুষের ব্যবসা ধরে রেখে এখনো সংসার চালাচ্ছে পাখা কারিগররা। জেলার পাংশা, বালিয়াকান্দি ও কালুখালি উপজেলার ২০০টি পরিবার পাখা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে। এর মধ্যে জেলার পাংশা উপজেলায় প্রায় ১০০ পরিবার পাখা তৈরি সঙ্গে জড়িত। গরম শুরুর সঙ্গে সঙ্গে তাদের কাজ বেড়ে গেছে। একটি পাখা তৈরি করতে ১০-১২টি হাতের ছোয়া লাগে বলে কারিগররা জানান।

বাড়ির অন্য কাজের পাশাপাশি অনেকে এ কাজটি করছে। কিন্তু তাদের পুঁজি কম। কাচামালের দাম যখন কম থাকে তখন তারা কিনে স্টক করতে পারেন না। তাই তারা সহজ শর্তে ব্যাংক লোনের দাবি জানিয়েছেন।

জেলার সরিষা, কলিমহর, কসবামাজাইল, মঅদাপুর ও মাঝবাড়ি এলাকা ঘুরে পাখা কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গরম পড়লেই পাখা পল্লীর কারিগরদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। কেউ পাতা কেটে সাইজ করছে, কেউ সেলাই করছে আবার কেউ বা পাখা তৈরি করেছে কেউ আবার প্রস্তুত হওয়া পাখাগুলো বিক্রির জন্য বোঝা বাঁধছে।

পাখা কারিগর বাচ্চু মিয়া জানান, তাদের পূর্ব পুরুষরা এই তালপাখা তৈরি করে জীবন জীবিকা চালাতো। তারাও পূর্ব পুরুষের কাজটি ধরে রেখেছেন।

পাংশা উপজেলার সাঁজুরিয়া গ্রামের সবচেয়ে পুরাতন পাখা করিগর ফজলুর রহমান ওরফে ফজু কারিগর জানান, পাখা তৈরির প্রধান উপকরণ তালপাতা সংগ্রহ করা হয় শীতকালে। গ্রীষ্মকালেও কিছু তালপাতা সংগ্রহ করা হয়। নিজ জেলা রাজবাড়ী, মাগুরা, ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তারা পাতা সংগ্রহ করেন। এই তালপাতা এনে পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয়। তারপর পাতা ভিজে নরম হয়ে গেলে পানি থেকে উঠিয়ে তা কেটে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। একটা পাতায় দুটো পাখা হয়। এই পাতা পুনরায় বেঁধে রাখা হয়। এভাবে রাখার পর গরমের মৌসুম আসার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো আবার পানিতে ভিজতে দেয়া হয়। পানিতে দেবার পর পাতা নরম হয়ে গেলে শুরু হয় মূল পাখা তৈরির কাজ। সাধারণত পরিবারের বড়রা পানিতে ভিজে নরম হয়ে যাওয়া পাতা ছাড়িয়ে পাখা আকৃতির করে চারিদিক কেটে সমান করে থাকে।

আর বাড়ির মেয়েরা সেগুলো বাশের সলা দিয়ে বেঁধে ফেলে। পরিবারের ছোট সদস্যরা এগুলো সুচ আর সুতা দিয়ে সেলাই করে থাকে। এভাবে ব্যবহারের উপযোগী একটি তালপাখা তৈরি হয়।

তিনি জানান, একটি পাখা তৈরি করতে ১০-১২টি হাতের স্পর্শ লাগে। ফরিদপুর এলাকা থেকে ১টি তালপাতা ১০-১৫ টাকা দরে ক্রয় করা হয়। একটি তালপাতা থেকে ২টি পাখা তৈরি করা হয়। সব মিলিয়ে একটি পাখা তৈরি করতে তাদের ১৫-১৬ টাকা খরচ হয়।

পাখা কারিগর ইয়ার উদ্দিন জানান, তাদের তৈরিকৃত পাখা পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করা হয়। এখান থেকে পাইকাররা প্রতিপিস পাখা ১৫-১৮ টাকা দরে ক্রয় করে নিয়ে খুচরা ২০-২৫ টাকায় বিক্রি করে। মূলত পাখা ব্যবসা থাকে গরমের ৩-৪ মাস। অন্য সময় তারা কৃষি কাজ করে থাকে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২৬ উদ্বোধন করেন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গরমে বেড়েছে হাতপাখা কারিগরদের ব্যস্ততা

প্রকাশিত : ০৬:১০:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ মার্চ ২০২২

বেড়েছে গরম, বেড়েছে রাজবাড়ীর হাতপাখা কারিগরদের ব্যস্ততা। প্রচণ্ড গরমে পাখার কদর এখন সবখানে। আর তাই এ পাখা তৈরির কারিগরদের এখন যেন নিঃশ্বাস ফেলার সময় নেই। এই গরমে মানুষকে একটু শান্তির পরশ দিতে দিন-রাত পরিশ্রম করে পাখা তৈরি করছেন রাজবাড়ীর তালপাখা কারিগররা।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, পূর্ব পুরুষের ব্যবসা ধরে রেখে এখনো সংসার চালাচ্ছে পাখা কারিগররা। জেলার পাংশা, বালিয়াকান্দি ও কালুখালি উপজেলার ২০০টি পরিবার পাখা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে। এর মধ্যে জেলার পাংশা উপজেলায় প্রায় ১০০ পরিবার পাখা তৈরি সঙ্গে জড়িত। গরম শুরুর সঙ্গে সঙ্গে তাদের কাজ বেড়ে গেছে। একটি পাখা তৈরি করতে ১০-১২টি হাতের ছোয়া লাগে বলে কারিগররা জানান।

বাড়ির অন্য কাজের পাশাপাশি অনেকে এ কাজটি করছে। কিন্তু তাদের পুঁজি কম। কাচামালের দাম যখন কম থাকে তখন তারা কিনে স্টক করতে পারেন না। তাই তারা সহজ শর্তে ব্যাংক লোনের দাবি জানিয়েছেন।

জেলার সরিষা, কলিমহর, কসবামাজাইল, মঅদাপুর ও মাঝবাড়ি এলাকা ঘুরে পাখা কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গরম পড়লেই পাখা পল্লীর কারিগরদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। কেউ পাতা কেটে সাইজ করছে, কেউ সেলাই করছে আবার কেউ বা পাখা তৈরি করেছে কেউ আবার প্রস্তুত হওয়া পাখাগুলো বিক্রির জন্য বোঝা বাঁধছে।

পাখা কারিগর বাচ্চু মিয়া জানান, তাদের পূর্ব পুরুষরা এই তালপাখা তৈরি করে জীবন জীবিকা চালাতো। তারাও পূর্ব পুরুষের কাজটি ধরে রেখেছেন।

পাংশা উপজেলার সাঁজুরিয়া গ্রামের সবচেয়ে পুরাতন পাখা করিগর ফজলুর রহমান ওরফে ফজু কারিগর জানান, পাখা তৈরির প্রধান উপকরণ তালপাতা সংগ্রহ করা হয় শীতকালে। গ্রীষ্মকালেও কিছু তালপাতা সংগ্রহ করা হয়। নিজ জেলা রাজবাড়ী, মাগুরা, ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তারা পাতা সংগ্রহ করেন। এই তালপাতা এনে পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয়। তারপর পাতা ভিজে নরম হয়ে গেলে পানি থেকে উঠিয়ে তা কেটে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। একটা পাতায় দুটো পাখা হয়। এই পাতা পুনরায় বেঁধে রাখা হয়। এভাবে রাখার পর গরমের মৌসুম আসার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো আবার পানিতে ভিজতে দেয়া হয়। পানিতে দেবার পর পাতা নরম হয়ে গেলে শুরু হয় মূল পাখা তৈরির কাজ। সাধারণত পরিবারের বড়রা পানিতে ভিজে নরম হয়ে যাওয়া পাতা ছাড়িয়ে পাখা আকৃতির করে চারিদিক কেটে সমান করে থাকে।

আর বাড়ির মেয়েরা সেগুলো বাশের সলা দিয়ে বেঁধে ফেলে। পরিবারের ছোট সদস্যরা এগুলো সুচ আর সুতা দিয়ে সেলাই করে থাকে। এভাবে ব্যবহারের উপযোগী একটি তালপাখা তৈরি হয়।

তিনি জানান, একটি পাখা তৈরি করতে ১০-১২টি হাতের স্পর্শ লাগে। ফরিদপুর এলাকা থেকে ১টি তালপাতা ১০-১৫ টাকা দরে ক্রয় করা হয়। একটি তালপাতা থেকে ২টি পাখা তৈরি করা হয়। সব মিলিয়ে একটি পাখা তৈরি করতে তাদের ১৫-১৬ টাকা খরচ হয়।

পাখা কারিগর ইয়ার উদ্দিন জানান, তাদের তৈরিকৃত পাখা পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করা হয়। এখান থেকে পাইকাররা প্রতিপিস পাখা ১৫-১৮ টাকা দরে ক্রয় করে নিয়ে খুচরা ২০-২৫ টাকায় বিক্রি করে। মূলত পাখা ব্যবসা থাকে গরমের ৩-৪ মাস। অন্য সময় তারা কৃষি কাজ করে থাকে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর