১১:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

নবীনগরের গমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন চাষিরা

রবি শস্যের মধ্যে অন্যতম লাভজনক ফসল হচ্ছে গম। বিগত সময়ে গমের আবাদ কমলেও এ বছর (২০২২) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে এই লাভজনক ফসলের আবাদ বেশী করেছেন কৃষকরা। বর্তমানে গমের বাজার দর ভাল থাকায় গম চাষে লাভের আশা করছেন চাষিরা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, খরচ কম ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি রবি মৌসুমে উপজেলায় রেকর্ড পরিমাণ জমিতে গমের চাষ করা হয়েছে। এবার (২০২২ সালে) উপজেলার ১২৫ হেক্টর জমিতে অধিক ফলনশীল গমের চাষ করা হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ২০ হেক্টর বেশী। উচ্চ ফলনশীল গম বিঘা প্রতি ৮- ১০ মন হারে ফলন পাওয়া যায় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। কৃষকেরা কোন কোন গমের জমিতে নিড়ানোর মাধ্যমে আগাছা তুলছে, কোন কোন জমিতে সার ছিটাচ্ছে। রোগবালাইয়ের তেমন আক্রমণ না থাকায় চলতি মৌসুমে গমের বাম্পার ফলনের আশা করছে কৃষি বিভাগ। লাভজনক এই গম চাষে চাষিদের আগ্রহী করার লক্ষ্যে কৃষি বিভাগের মাধ্যমে সলিমগঞ্জ, শ্যামগ্রাম, রতনপুর প্রভৃতি ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত চাষিদের মাঝে উন্নত জাতের গম বীজ, সার, কীটনাশকসহ অন্যান্য উপকরণ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়াও চাষিদের সার্বক্ষণিক পরামর্শসহ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে আসছে উপজেলা কৃষি অফিস। রতনপুর ইউনিয়নের শাহপুর গ্রামের গমচাষি মো. আতাউর রহমানসহ অনেকেই বলেন- বিগত বছরের চেয়ে এ বছর গমের ফলন ভাল হবে বলে আশা করি, যদি আবহাওয়া গম চাষের অনুকূলে থাকে ও গমের বাজার দর ভালো থাকে তাহলে আমরা লাভবান হব। গমে পোকা-মাড়করের আক্রমন ও তেমন একটা হয় না,তবে গমের ক্ষতির কারন ছত্রাকজনিত ‘বøাস্ট’ রোগ। গমের শীষ ছাড়ানোর পর গাছ জ্বালানি ও বেড়া তৈরীতে ব্যবহার করা যায়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জগলুল হায়দার বলেন, এ বছর বারি-২৫, ২৬, ২৭, ২৮ ও ৩০ জাতের গম চাষ বেশি করা হয়েছে। ১৯৯৮ সাল থেকে পরবর্তী সময়ে দেশে বেশ কিছু উচ্চ ফলনশীল, তাপসহিষ্ণু ও রোগ-প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবন ও কৃষক পর্যায়ে হস্তান্তর হওয়ায় গমের আবাদ, উৎপাদন ও ফলন সে সময় থেকে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাটির গুণাগুণ ও আবহাওয়া বিবেচনায় নানা ধরনের গম চাষ হয়। উঁচু ও মাঝারি দোআঁশ মাটি গম চাষের জন্য বেশী উপযোগী, যা নবীনগর অঞ্চলের মাটির সাথে মিলে। বারি জাতের গম বপনের উপযুক্ত সময় হচ্ছে অগ্রাহায়ণ মাসের প্রথম থেকে দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত। তবে তাপসহনশীল জাত ডিসেম্বর মাসের ১৫ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে বপন করা যায়। যে জমিতে গম চাষ করা হয় সে জমির উর্বরতা শক্তি যেমন বৃদ্ধি পায়, তেমনি গম চাষের পর ঐ জমিতে অন্য ফসল আবাদ করলে ফলন ও ভাল হয়।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২৬ উদ্বোধন করেন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নবীনগরের গমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন চাষিরা

প্রকাশিত : ০৪:৫৩:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ মার্চ ২০২২

রবি শস্যের মধ্যে অন্যতম লাভজনক ফসল হচ্ছে গম। বিগত সময়ে গমের আবাদ কমলেও এ বছর (২০২২) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে এই লাভজনক ফসলের আবাদ বেশী করেছেন কৃষকরা। বর্তমানে গমের বাজার দর ভাল থাকায় গম চাষে লাভের আশা করছেন চাষিরা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, খরচ কম ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি রবি মৌসুমে উপজেলায় রেকর্ড পরিমাণ জমিতে গমের চাষ করা হয়েছে। এবার (২০২২ সালে) উপজেলার ১২৫ হেক্টর জমিতে অধিক ফলনশীল গমের চাষ করা হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ২০ হেক্টর বেশী। উচ্চ ফলনশীল গম বিঘা প্রতি ৮- ১০ মন হারে ফলন পাওয়া যায় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। কৃষকেরা কোন কোন গমের জমিতে নিড়ানোর মাধ্যমে আগাছা তুলছে, কোন কোন জমিতে সার ছিটাচ্ছে। রোগবালাইয়ের তেমন আক্রমণ না থাকায় চলতি মৌসুমে গমের বাম্পার ফলনের আশা করছে কৃষি বিভাগ। লাভজনক এই গম চাষে চাষিদের আগ্রহী করার লক্ষ্যে কৃষি বিভাগের মাধ্যমে সলিমগঞ্জ, শ্যামগ্রাম, রতনপুর প্রভৃতি ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত চাষিদের মাঝে উন্নত জাতের গম বীজ, সার, কীটনাশকসহ অন্যান্য উপকরণ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়াও চাষিদের সার্বক্ষণিক পরামর্শসহ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে আসছে উপজেলা কৃষি অফিস। রতনপুর ইউনিয়নের শাহপুর গ্রামের গমচাষি মো. আতাউর রহমানসহ অনেকেই বলেন- বিগত বছরের চেয়ে এ বছর গমের ফলন ভাল হবে বলে আশা করি, যদি আবহাওয়া গম চাষের অনুকূলে থাকে ও গমের বাজার দর ভালো থাকে তাহলে আমরা লাভবান হব। গমে পোকা-মাড়করের আক্রমন ও তেমন একটা হয় না,তবে গমের ক্ষতির কারন ছত্রাকজনিত ‘বøাস্ট’ রোগ। গমের শীষ ছাড়ানোর পর গাছ জ্বালানি ও বেড়া তৈরীতে ব্যবহার করা যায়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জগলুল হায়দার বলেন, এ বছর বারি-২৫, ২৬, ২৭, ২৮ ও ৩০ জাতের গম চাষ বেশি করা হয়েছে। ১৯৯৮ সাল থেকে পরবর্তী সময়ে দেশে বেশ কিছু উচ্চ ফলনশীল, তাপসহিষ্ণু ও রোগ-প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবন ও কৃষক পর্যায়ে হস্তান্তর হওয়ায় গমের আবাদ, উৎপাদন ও ফলন সে সময় থেকে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাটির গুণাগুণ ও আবহাওয়া বিবেচনায় নানা ধরনের গম চাষ হয়। উঁচু ও মাঝারি দোআঁশ মাটি গম চাষের জন্য বেশী উপযোগী, যা নবীনগর অঞ্চলের মাটির সাথে মিলে। বারি জাতের গম বপনের উপযুক্ত সময় হচ্ছে অগ্রাহায়ণ মাসের প্রথম থেকে দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত। তবে তাপসহনশীল জাত ডিসেম্বর মাসের ১৫ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে বপন করা যায়। যে জমিতে গম চাষ করা হয় সে জমির উর্বরতা শক্তি যেমন বৃদ্ধি পায়, তেমনি গম চাষের পর ঐ জমিতে অন্য ফসল আবাদ করলে ফলন ও ভাল হয়।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর