ফুল মানি প্রেম ভালোবাসা। ফুলকে ভালোবাসেন না এমন কয়জনে আছেন। কেউ চাষ করতে, কেউ কিনতে আবার কেউ তার সৌন্দর্য দেখতে। এজন্য সবাই ফুলের কাছে ছুটে যান। আর এ ফুল যদি হয় শস্য ক্ষেতের সুন্দর হলুদ সূর্যমুখী, তাহলে তো কথাই নেই।
এবার কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সূর্যমুখী ফুলের চাষ হয়েছে। মনমুগ্ধ এই ফুল দেখতে ভিড় করছেন সৌন্দর্য প্রেমীরা। ছবিও তুলছেন আপন মনে। সে ছবি আবার কেউ কেউ সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক ছড়িয়ে দিচ্ছেন।
একদিকে বাজারে সয়াবিন তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়াই অন্যদিকে ক্যান্সার ও হৃদরোগ প্রতিরোধী অধিক পুষ্টিগুন সম্পন্ন হওয়াই এ সূর্যমুখী ফুল চাষ ঝুঁকছেন তারা। কম খরচ আর স্বল্প সময়ে অধিক লাভ হওয়ায় খুশি চাষিরা। আর সূর্যমুখী ফুল চাষে সহযোগিতা করছে নাঙ্গলকোট উপজেলা কৃষি অফিস।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার রায়কোট দক্ষিণ ইউপির মন্তলী, শ্রীরামপুর, মক্রবপুর ইউপির সাহেদাপুর, ভুলুয়াপাড়া ও দৌলখাঁড়া ইউপির কান্দাল গ্রামের বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে সূর্যমুখী ফুলের চাষ হয়েছে। থোকাই থোকাই ফুটে আছে সূর্যমুখী ফুল। যেদিকে তাকাই এই যেন হলুদের সমাহার। ফলনও অনেক ভালো হয়েছে। এ ফলন দেখে কৃষকও খুশি। একগুচ্ছ ফুলের সঙ্গে দর্শনার্থী মেয়েরা সূর্যমুখী ফুলের সঙ্গে যেন হাসছেন। দৃষ্টিকাড়া এ ফুলের মধ্যে মুঠোফোনে বন্দী করছেন প্রিয় মুহূর্তগুলো।
এ বিষয়ে রায়কোট দক্ষিণ ইউপির মালিপাড়া গ্রামের শাহজাহান বলেন, বাজারে সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়া ও কৃষি অফিসের সহযোগিতা তিনি ৩৩ শতক জায়গাতে সূর্যমুখী ফুল চাষ করছেন তিনি। বর্মানে ফুল আসতে শুরু করেছে। জমিনে গেলে ফুল দেখে মন বরে যায়। বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ফুল দেখে ছুটে আসেন। ছবি তুলে নিয়ে যায় আপন মনে।
মক্রবপুর ইউপির সাহেদাপুর গ্রামের ফরিদ উল্যাহ বলেন, তিনি এ প্রথম ২৪ শতক জায়গার মধ্যে সূর্যমুখী চাষ করেন। সকল কিছু উপজেলা কৃষি অফিস দিয়েছে। ফলন অনেক ভালো হয়েছে। নিজেরা তেল উৎপাদন করলে পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাজারেও বিক্রি করা যাবে।
এ বিষয়ে সূর্যমুখী ফুল দেখতে আসা মন্তলী গ্রামের আনোয়ার হোসেন বলেন, সূর্যমুখী ফুল দেখতে অনেক সুন্দর। ভালো লাগে। এলাকাতে এটি প্রথম দেখেছি। তাই ছবি তুললাম।
মক্রবপুর ইউপির উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ ইউপিতে তিনজন কৃষককে সূর্যমুখী প্রণোদনা দেয়া হয়। মোট ৪৮ শতক জায়গাতে সূর্যমুখী ফুল চাষ করেন। উপজেলা কৃষি অফিসারের নিদর্শনায় আমরা সার্বক্ষণিক দেখা শোনা করি। এতে খরচ কম, ফলনও অনেক ভালো হয়েছে।
রায়কোট দক্ষিণ ইউপির উপ-সহকারী কৃষি অফিসার আব্দুল জলিল বলেন, এ মৌসূমে তার বøকে ৬২ শতক জায়গায় সূর্যমুখী ফুল চাষ হয়েছে। বর্তমানে ফুল আসতে শুরু করেছে। এ ফুল দেখার জন্য দূর দূরান্ত থেকে লোকজন আসছেন। ছবি তুলি নিয়ে যাচ্ছেন। আশা করা যাচ্ছে ফলন অনেক ভালো হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার জাহিদুল ইসলাম বলেন, বাজারে সয়াবিন তৈলের অনেক চাহিদা। দামও অনেক বেশি। পাশাপাশি এ সূর্যমুখী ফুলটি হৃদরোগ প্রতিরোধী অধিক পুষ্টিগুন সম্পন্ন একটি ফুল। তাই এ উপজেলার কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে এ ফুল চাষ করা হচ্ছে। যা নিজের পরিবারের তেলের চাহিদা মিটিয়ে বাজারেও বিক্রি করতে পারবেন।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর




















