আজ ৩০ মার্চ বুধবার ১৬ চৈত্র শেরপুরের ঐতিহ্যবাহী গড় জড়িপার কালীদহ সাগরে হিন্দু ধর্মাবম্বীদের বারুনী স্নান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলা চৈত্র মাসের মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে সূর্যোদয়ের সথে সথে বিপুল সংখ্যক সনাতন ধর্মাবলম্বী বৈদিকমন্ত্র উচ্চারণসহ সাগরের পূণ্য সলিলে অবগাহন করেন।
এ সময় পূণ্যার্থীগণ পূর্ব পুরুষের আত্মার শান্তির জন্য তর্পন করেন। স্নানার্থীদের বিশ্বাস এ পূণ্য সলিলে অবগাহন করলে মনের সকল কুটিলতা, সংকীতনতা ও পাপ মোচন হয়। স্নান শেষে পূণ্যার্থীগণ সাগরপাড়ে অনুষ্ঠিত গঙ্গাপূজা ও সংকীর্তনের আয়োজন করে। এতে শত শত ভক্তকুল ও পূণ্যার্থীরা অংশ নেয়। ও পূজা অর্চনার পাশাপাশি এখানে নানা পণ্য ও মুখরোচক নানা খাবারের মেলাও বসে।
জানাগেছে, প্রায় দের শত বছর আগে থেকে শেরপুর জেলার শ্রীবর্দী উপজেলা গড়জরিপা ইউনিয়নের গড়জরিপা গ্রামে কোচ সামন্ত আমল থেকে ঐতিহ্যবাহী গড় জড়িপা মাটির দূর্গ সংলগ্ন কালীদহ সাগরে বারুনী স্নান অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও জেলা ও জেলার বাইরে থেকে হিন্দু ধর্মাবল্বী পূর্ণাথীরা ভোর থেকেই দলে দলে পরিবার-পরিজন নিয়ে ছুটে আসে ওই কালিদাহ সাগর পাড়ে। কিন্তু বর্তমানে ওই কালীদহ সাগর শুকিয়ে যাওয়ায় এর জৌলুস কমে গেছে।
তারপরও এখনও এখানে অনেক পূর্ণাথী তাদের নানা মনবাসনা পুরণে এবং পূর্ণির আসায় ছুটে আসে এই কালিদাহ সাগরে। সূর্যদোয়ের সাথে সাথে ও পূজা অর্চনা শুরু হলেও দূর-র্দূরান্তের অনেকেই দিনের বিভিন্ন সময়ে এসে কাজ সারেন।
করোনার কারণে দীর্ঘ দুই বছর এ উৎসব না হওয়ার কারণে এবার পূর্ণার্থীর সংখ্যা ব্যাপক ভাবে বেড়েছে। তবে অনেক দিন পর করতে পেয়ে খুশি অনেকেই। এছাড়া করোনা ভাইরাসের থাবা থেকে সারা বিশ্ব মুক্তি পাক সেজন্যও অনেকেই পূজা অর্চনা করেছেন।
তবে সংলগ্ন মাঠ না থাকায় এবং রাস্তা না থাকায় পূর্ণাথীদেরকে ধান ক্ষেতের আইল ধরে কালিদাহ সাগরে নামতে হয়েছে। এছাড়া পূর্ণাথীদের বসার স্থান না থাকায় অনেক গাদাগাদি করে সাগর পাড়েই তাদের পূজা অর্চনা, ভেঁজা কাপড় ছেড়ে শুকনা কাপড় পড়তে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।
এ ও মেলার জন্য নেই কোন আয়োজক কমিটি ফলে ও মেলার জন্য নেই কোন জায়গা নেই কোন সঠিক নির্দেশনা। তারপরও শহরের বিশিষ্ট কাপড়ের ব্যবাসায়ী দুলাল সাহা স্ব-উদ্যোগে শহর জুড়ে এ ও পূজোর প্রচারণা চালিয়েছে ভক্তদের উদ্যেশে।
এক সময় এখানে মাস ব্যাপী মেলা বসতো। সময়ের আবর্তে সে জৌলুস কমে যাওয়া সে মেলা এখন আর হয়না। তবে খুবই ছোট পরিসরে এখন স্নানের দিন ভোর থেকে বেলা ১২ টা পর্যন্ত চলে এ মেলা। মেলায় দেশীয় হস্তশিল্প, মাটির খেলনা, বাঁশ বেতের তৈজসপত্র, মুখরোচক খাবারের দোকান নিয়ে পশারীরা ভিড় জমায়।
আগত অনেক বয়োবৃদ্ধরা জানায় পূর্বের ন্যায় লোক সমাগম না হলেও শত বছর ধরে পূর্ব পুরুষদের রীতি চলবেই। আধূনিক যুগের ছেলে-মেয়েরা প্রতি খুব একটা আগ্রহ না হলেও আগামী প্রজন্মের কাছে ধর্মীয় এসব আচার-রীতি ধরে রাখতে আশা ব্যক্ত করেন অনেকেই।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর




















