০১:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

নজর খালি হাওরে বাঁধ ভেঙেছে, দায় নিচ্ছে না পাউবো

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার টাগুয়ার হাওরের নজর খালি বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করেছে।
শনিবার (২ এপ্রিল)  সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ভেঙে পানি প্রবেশ করতে দেখা যায়।
ভারতের মেঘালয়ে কয়েক দিন যাবৎ বৃষ্টিপাতের ফলে সুনামগঞ্জের নদ নদীতে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
যার ফলে আজ পানি উপচে পানির চাপে নজর খালি এই বাঁধ টি ভেঙে গেছে।
পাউবোর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে এই বাঁধটি ফসল রক্ষার বাঁধ নয়।  এটি বিশেষ বরাদ্দের বাঁধ কারণ এটি গ্রামবাসীর অনুরোধে দেয়া হয়েছে।  এটা প্রকল্পের বাইরের যেমন ধরেন কিছু জায়গা থাকে নিচু বা ভাঙা সেই জায়গা গুলো যে  ভাবে মেরামত করতে বিশেষ বরাদ্দ দেয়া হয়, এটাও মিটিং আলোচনা করে দেয়া হয়েছে।  আর এটা তো টাগুয়ার হাওরে।  টাগুয়ার হাওর রামসার সাইট এখানে ফসল লাগানোর কথা না।  এটা তেমন কিছু না। পানি উপচেয়ে বাঁধের উপর দিয়ে গেছে তাই বাঁধ কিছুটা ক্ষতিগ্রস্হ হয়েছে, বেশি কিছু না।
জানা গেছে,  এই বাঁধ নিমার্ণে পাউবো নয় লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।  তাই জনমনে প্রশ্ন ওঠেছে ফসল রক্ষা বাঁধ হোক বা পানি আটকানোর জন্যই দেয়া হোক, এতো টাকা ব্যায় করার পর কেন বাঁধ ভেঙে যায়?  ফসল  রক্ষার বাঁধ না হলেও এটি তো নিশ্চয়ই উপকারের জন্য দেয়া হয়েছিল।  কিন্তু আজ বাঁধ টি ভেঙে যাওয়ার ফলে অন্য হাওরের কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে অজানা আতংক।
এই হাওরে প্রায় ১২০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হয়েছে তাহিরপুর অংশে ২৫ হেক্টর জমি পড়েছে।
এই বাঁধ টি মেরামতের জন্য বর্ধিত করে ২৪ নং পিআইসির অধীনে দেয়া হয়েছিল। পিআইসির সভাপতি সেন্টু এই টির কাজ বাস্তবায়ন করেন।
বর্তমানে এই বাঁধটি আর মেরামতের কোনও সুযোগ নেই।  ফলে নদীর পানি যত বৃদ্ধি পাবে হাওরের ধান রক্ষা করা ততটাই কঠিন হয়ে পড়বে।
এই বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করে উত্তর শ্রী পুর  ইউনিয়নের গইনা কড়ি হাওর,  এরাইল্লার হাওর,  সন্নাসি হাওর,  প্লইল্লার বিল হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সম্ভাবণা রয়েছে।   নজড় খালি বাঁধের কাজ খুবই নিম্ন মানের হয়েছে বলে জানা গেছে।
১ নং উত্তর শ্রী পুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও কৃষক সাজিনুর মিয়া বলেন,  বাঁধের কাজে অনেক গাফলতি রয়েছে।  এ নিয়ে আমি অনেক বার কথা বলেছি যাতে বাঁধটি শক্তিশালি করে নিমার্ণ করা হয়।  এই বাঁধ ভাঙার পর কৃষকদের মাথায় দুশ্চিন্তার ভাজ পড়ে গেছে। এমনিতেই জিনিস পত্রের দাম এবার যদি গোলায় ধান ওঠে অনেক কৃষক মারা যাওয়ার অবস্থা হবে। অনেক ঋণ করে জমি আবাদ করেন।
এ বছর বাঁধের কাজ ভাল হয় নি বলে অনেক দিন ধরে আন্দোলন করে যাচ্ছে হাওর বাঁচাও আন্দোলন নামের সংগঠন।  বিগত ২০১৭ সালে হাওরে একের এক বাঁধ ভেঙে ফসল তলিয়ে যাওয়ার সময় সংগঠন টি গড়ে ওঠে।
আইনজীবী হুমাইনু কবির তার ফেইসবুকে লিখেছেন ‘টাগুয়ার হাওরে নজরখালি ক্লোজার দিয়ে পানি ঢুকতেছে৷ ৮২ গ্রামের কৃষক পরিবারের স্বপ্নের সলিল সমাধি ‘
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সালেহীন শুভ বলেন,  বাঁধ তদারকির কাজ উপজেলা প্রশাসন পানি উন্নয়ন বোর্ডের।  কিন্তু তারা এ কাজে বর্থ্য হয়ে নজর খালি বাঁধ ভাঙার ব্যাপারটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন।  বাঁধের কাজ খুবই নিম্ন মানের হয়েছে তাই এটি ভেঙেছে।  আমরা এ খুব শিঘ্রই আন্দোলনে যাবও।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, হাওরের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার দায়ভার প্রশাসনকে নিতে হবে, আমরা আগে থেকেই সর্তক করে দিয়েছিলাম কিন্তু আমাদের কথা কেউ শুনেনি, আমরা এখন তীব্র আন্দোলন শুরু করবো
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রায়হান কবির জানান,  এটি মূলত ফসল রক্ষার বাঁধ নয়।  আমি এ গ্রামে এসেছি।  এ দিকে পানি প্রবেশ করায় নদীর পানির চাপ কমবে। অন্য  হাওরের দিকে আর যাবে না।  টাগুয়ার হাওরে কৃষকরা সাহস করে নিজ উদ্যৌগে ফসল রোপন করেছেন।  তাহিরপুর অংশে মাত্র ২৫ হেক্টর জমি হবে।
তাই আতংকের কিছু নেই। আমরা সব সময় নজর রাখছি।  আর এই বাঁধটি মূলত গ্রামবাসীর অনুরোধে করা হয়েছে বিশেষ বরাদ্দে মাধ্যমে।  মূলত এটি ফসল রক্ষা বাঁধ নয়।
পানির উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.শামসুদ্দোহা জানান,  এই বাঁধটি প্রকল্পের বাইরের।  ঐ জায়গায় কিছু ভাঙা অংশ ছিল সেটি মেরামত করা হয়েছে বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে।  এই বাঁধ পানি উপচে পড়ছে।  এটি কোনও ফসল রক্ষা বাঁধ নয়।  আপনি নিশ্চয়ই জানেন টাগুয়ার হাওর রামসার সাইট ঘোষণা করা হয়েছে এখানে ফসল লাগানোর কথা না।  এমনিতেই নিষেধ রয়েছে।
ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২৬ উদ্বোধন করেন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নজর খালি হাওরে বাঁধ ভেঙেছে, দায় নিচ্ছে না পাউবো

প্রকাশিত : ০৭:১৮:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ এপ্রিল ২০২২
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার টাগুয়ার হাওরের নজর খালি বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করেছে।
শনিবার (২ এপ্রিল)  সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ভেঙে পানি প্রবেশ করতে দেখা যায়।
ভারতের মেঘালয়ে কয়েক দিন যাবৎ বৃষ্টিপাতের ফলে সুনামগঞ্জের নদ নদীতে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
যার ফলে আজ পানি উপচে পানির চাপে নজর খালি এই বাঁধ টি ভেঙে গেছে।
পাউবোর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে এই বাঁধটি ফসল রক্ষার বাঁধ নয়।  এটি বিশেষ বরাদ্দের বাঁধ কারণ এটি গ্রামবাসীর অনুরোধে দেয়া হয়েছে।  এটা প্রকল্পের বাইরের যেমন ধরেন কিছু জায়গা থাকে নিচু বা ভাঙা সেই জায়গা গুলো যে  ভাবে মেরামত করতে বিশেষ বরাদ্দ দেয়া হয়, এটাও মিটিং আলোচনা করে দেয়া হয়েছে।  আর এটা তো টাগুয়ার হাওরে।  টাগুয়ার হাওর রামসার সাইট এখানে ফসল লাগানোর কথা না।  এটা তেমন কিছু না। পানি উপচেয়ে বাঁধের উপর দিয়ে গেছে তাই বাঁধ কিছুটা ক্ষতিগ্রস্হ হয়েছে, বেশি কিছু না।
জানা গেছে,  এই বাঁধ নিমার্ণে পাউবো নয় লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।  তাই জনমনে প্রশ্ন ওঠেছে ফসল রক্ষা বাঁধ হোক বা পানি আটকানোর জন্যই দেয়া হোক, এতো টাকা ব্যায় করার পর কেন বাঁধ ভেঙে যায়?  ফসল  রক্ষার বাঁধ না হলেও এটি তো নিশ্চয়ই উপকারের জন্য দেয়া হয়েছিল।  কিন্তু আজ বাঁধ টি ভেঙে যাওয়ার ফলে অন্য হাওরের কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে অজানা আতংক।
এই হাওরে প্রায় ১২০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হয়েছে তাহিরপুর অংশে ২৫ হেক্টর জমি পড়েছে।
এই বাঁধ টি মেরামতের জন্য বর্ধিত করে ২৪ নং পিআইসির অধীনে দেয়া হয়েছিল। পিআইসির সভাপতি সেন্টু এই টির কাজ বাস্তবায়ন করেন।
বর্তমানে এই বাঁধটি আর মেরামতের কোনও সুযোগ নেই।  ফলে নদীর পানি যত বৃদ্ধি পাবে হাওরের ধান রক্ষা করা ততটাই কঠিন হয়ে পড়বে।
এই বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করে উত্তর শ্রী পুর  ইউনিয়নের গইনা কড়ি হাওর,  এরাইল্লার হাওর,  সন্নাসি হাওর,  প্লইল্লার বিল হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সম্ভাবণা রয়েছে।   নজড় খালি বাঁধের কাজ খুবই নিম্ন মানের হয়েছে বলে জানা গেছে।
১ নং উত্তর শ্রী পুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও কৃষক সাজিনুর মিয়া বলেন,  বাঁধের কাজে অনেক গাফলতি রয়েছে।  এ নিয়ে আমি অনেক বার কথা বলেছি যাতে বাঁধটি শক্তিশালি করে নিমার্ণ করা হয়।  এই বাঁধ ভাঙার পর কৃষকদের মাথায় দুশ্চিন্তার ভাজ পড়ে গেছে। এমনিতেই জিনিস পত্রের দাম এবার যদি গোলায় ধান ওঠে অনেক কৃষক মারা যাওয়ার অবস্থা হবে। অনেক ঋণ করে জমি আবাদ করেন।
এ বছর বাঁধের কাজ ভাল হয় নি বলে অনেক দিন ধরে আন্দোলন করে যাচ্ছে হাওর বাঁচাও আন্দোলন নামের সংগঠন।  বিগত ২০১৭ সালে হাওরে একের এক বাঁধ ভেঙে ফসল তলিয়ে যাওয়ার সময় সংগঠন টি গড়ে ওঠে।
আইনজীবী হুমাইনু কবির তার ফেইসবুকে লিখেছেন ‘টাগুয়ার হাওরে নজরখালি ক্লোজার দিয়ে পানি ঢুকতেছে৷ ৮২ গ্রামের কৃষক পরিবারের স্বপ্নের সলিল সমাধি ‘
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সালেহীন শুভ বলেন,  বাঁধ তদারকির কাজ উপজেলা প্রশাসন পানি উন্নয়ন বোর্ডের।  কিন্তু তারা এ কাজে বর্থ্য হয়ে নজর খালি বাঁধ ভাঙার ব্যাপারটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন।  বাঁধের কাজ খুবই নিম্ন মানের হয়েছে তাই এটি ভেঙেছে।  আমরা এ খুব শিঘ্রই আন্দোলনে যাবও।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, হাওরের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার দায়ভার প্রশাসনকে নিতে হবে, আমরা আগে থেকেই সর্তক করে দিয়েছিলাম কিন্তু আমাদের কথা কেউ শুনেনি, আমরা এখন তীব্র আন্দোলন শুরু করবো
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রায়হান কবির জানান,  এটি মূলত ফসল রক্ষার বাঁধ নয়।  আমি এ গ্রামে এসেছি।  এ দিকে পানি প্রবেশ করায় নদীর পানির চাপ কমবে। অন্য  হাওরের দিকে আর যাবে না।  টাগুয়ার হাওরে কৃষকরা সাহস করে নিজ উদ্যৌগে ফসল রোপন করেছেন।  তাহিরপুর অংশে মাত্র ২৫ হেক্টর জমি হবে।
তাই আতংকের কিছু নেই। আমরা সব সময় নজর রাখছি।  আর এই বাঁধটি মূলত গ্রামবাসীর অনুরোধে করা হয়েছে বিশেষ বরাদ্দে মাধ্যমে।  মূলত এটি ফসল রক্ষা বাঁধ নয়।
পানির উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.শামসুদ্দোহা জানান,  এই বাঁধটি প্রকল্পের বাইরের।  ঐ জায়গায় কিছু ভাঙা অংশ ছিল সেটি মেরামত করা হয়েছে বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে।  এই বাঁধ পানি উপচে পড়ছে।  এটি কোনও ফসল রক্ষা বাঁধ নয়।  আপনি নিশ্চয়ই জানেন টাগুয়ার হাওর রামসার সাইট ঘোষণা করা হয়েছে এখানে ফসল লাগানোর কথা না।  এমনিতেই নিষেধ রয়েছে।