০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জয়ের কল্যানে ২৯৮ রান বাংলাদেশের

মাহমুদুল হাসান জয়ের চোখ ধাঁধানো এক ইনিংসের সমাপ্তি ঘটলো। সমাপ্তি ঘটলো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসেরও। ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিতে রেকর্ডগড়া জয় ১৩৭ রান করে শেষ ব্যাটার হিসেবে ধরেছেন সাজঘরের পথ।

ডারবান টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশ অলআউট হয়েছে ১১৫.৫ ওভারে ২৯৮ রানে। প্রথম ইনিংসে ৬৯ রানে পিছিয়ে রইলো টাইগাররা।

একের পর এক সঙ্গী সাজঘরের পথ ধরছেন। মাহমুদুল হাসান জয় তবু একটা প্রান্ত ধরে খেলে যাচ্ছিলেন। অষ্টম উইকেটে মেহেদি হাসান মিরাজের সঙ্গে তার দারুণ এক জুটিতে এগিয়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশ। জুটিতে হাফসেঞ্চুরিও আসলো।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত মিরাজ এক ভুল শট খেলে বসলেন। উইয়ান মুল্ডারের অফস্ট্যাম্পের অনেক বাইরে বেরিয়ে যেতে থাকা বল ড্রাইভ করতে গিয়ে প্রথম স্লিপে ক্যাচ হন মিরাজ। ভাঙে ৫১ রানের জুটি। ৮১ বলে ৪ বাউন্ডারি আর ১ ছক্কায় মিরাজের উইলো থেকে আসে ২৯ রান।

মিরাজ ফেরার পরই আসলে বাংলাদেশের অলআউট হওয়া সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। জয় বুঝতে পারছিলেন, লোয়ার অর্ডারের বাকি দুই ব্যাটার নিয়ে বেশিদূর যেতে পারবেন না।

মিরাজের আউটের পরের ওভারেই হারমারকে মারেন বিশাল এক ছক্কা। তার পরের ওভারে মুল্ডারকে দর্শনীয় চার বাউন্ডারি হাঁকিয়ে বসেন জয়। এর মধ্যে তিনটি ছিল টানা তিন বলে।

তবে খালেদ স্ট্রাইকে চলে গেলে দুশ্চিন্তায় পড়েন জয়। সেই দুশ্চিন্তাই সত্য হয়েছে। ডোয়াইন অলিভারের প্রথম পাঁচ বল কোনোমতে কাটালেও শেষ বল খালেদের (০) গ্লাভসে লেগে চলে যায় উইকেটরক্ষকের কাছে। আম্পায়ার আউট না দিলে রিভিউ নিয়ে জিতে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

এরপর আর ৪ বল টিকেছে বাংলাদেশের ইনিংস। জয় স্ট্রাইকে গেলেও লিজাড উইলিয়ামসের ওভারের পঞ্চম ডেলিভারিতে পরাস্ত হন। বল ব্যাটে লেগে চলে যায় স্লিপে। তাতেই পরিসমাপ্তি ৪৪২ মিনিটের ইনিংসের।

৩২৬ বলে ১৫ বাউন্ডারি আর ২ ছক্কায় ১৩৭ রান করেন জয়। যেটি দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্টে বাংলাদেশি কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ।

গত বছর ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল জয়ের। সেই ম্যাচের দুই ইনিংসে তিনি করেছিলেন ০ ও ৬ রান। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ২২৮ বলে ৭৮ রানের ইনিংস খেলে নিজের সামর্থ্যের জানান দেন তিনি।

সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে আজ টানা দ্বিতীয় ম্যাচে খেললেন পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের ইনিংস। শুধু পঞ্চাশ পেরিয়েই থেমে যাননি তিনি। নিজের ফিফটিকে রূপ দিয়েছেন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিতে। ক্যারিয়ারের মাত্র চতুর্থ ইনিংস খেলতে নেমেই সেঞ্চুরি হাঁকালেন জয়।

কিংসমিডে শুরু থেকেই ধৈর্য্যের মূর্ত প্রতীক হয়ে খেলছিলেন জয়। প্রথম ৫০ করতে তিনি খেলেন ১৭০ বল। কিউইদের বিপক্ষে প্রথম ফিফটিটি করেছিলেন ১৬৫ বলে। আজ আরও ৫ বল বেশি খেলে পঞ্চাশ করার পর হাত খোলেন তিনি।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :

৯ ফেব্রুয়ারি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন জামায়াত আমির

জয়ের কল্যানে ২৯৮ রান বাংলাদেশের

প্রকাশিত : ০৭:৪০:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ এপ্রিল ২০২২

মাহমুদুল হাসান জয়ের চোখ ধাঁধানো এক ইনিংসের সমাপ্তি ঘটলো। সমাপ্তি ঘটলো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসেরও। ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিতে রেকর্ডগড়া জয় ১৩৭ রান করে শেষ ব্যাটার হিসেবে ধরেছেন সাজঘরের পথ।

ডারবান টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশ অলআউট হয়েছে ১১৫.৫ ওভারে ২৯৮ রানে। প্রথম ইনিংসে ৬৯ রানে পিছিয়ে রইলো টাইগাররা।

একের পর এক সঙ্গী সাজঘরের পথ ধরছেন। মাহমুদুল হাসান জয় তবু একটা প্রান্ত ধরে খেলে যাচ্ছিলেন। অষ্টম উইকেটে মেহেদি হাসান মিরাজের সঙ্গে তার দারুণ এক জুটিতে এগিয়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশ। জুটিতে হাফসেঞ্চুরিও আসলো।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত মিরাজ এক ভুল শট খেলে বসলেন। উইয়ান মুল্ডারের অফস্ট্যাম্পের অনেক বাইরে বেরিয়ে যেতে থাকা বল ড্রাইভ করতে গিয়ে প্রথম স্লিপে ক্যাচ হন মিরাজ। ভাঙে ৫১ রানের জুটি। ৮১ বলে ৪ বাউন্ডারি আর ১ ছক্কায় মিরাজের উইলো থেকে আসে ২৯ রান।

মিরাজ ফেরার পরই আসলে বাংলাদেশের অলআউট হওয়া সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। জয় বুঝতে পারছিলেন, লোয়ার অর্ডারের বাকি দুই ব্যাটার নিয়ে বেশিদূর যেতে পারবেন না।

মিরাজের আউটের পরের ওভারেই হারমারকে মারেন বিশাল এক ছক্কা। তার পরের ওভারে মুল্ডারকে দর্শনীয় চার বাউন্ডারি হাঁকিয়ে বসেন জয়। এর মধ্যে তিনটি ছিল টানা তিন বলে।

তবে খালেদ স্ট্রাইকে চলে গেলে দুশ্চিন্তায় পড়েন জয়। সেই দুশ্চিন্তাই সত্য হয়েছে। ডোয়াইন অলিভারের প্রথম পাঁচ বল কোনোমতে কাটালেও শেষ বল খালেদের (০) গ্লাভসে লেগে চলে যায় উইকেটরক্ষকের কাছে। আম্পায়ার আউট না দিলে রিভিউ নিয়ে জিতে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

এরপর আর ৪ বল টিকেছে বাংলাদেশের ইনিংস। জয় স্ট্রাইকে গেলেও লিজাড উইলিয়ামসের ওভারের পঞ্চম ডেলিভারিতে পরাস্ত হন। বল ব্যাটে লেগে চলে যায় স্লিপে। তাতেই পরিসমাপ্তি ৪৪২ মিনিটের ইনিংসের।

৩২৬ বলে ১৫ বাউন্ডারি আর ২ ছক্কায় ১৩৭ রান করেন জয়। যেটি দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্টে বাংলাদেশি কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ।

গত বছর ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল জয়ের। সেই ম্যাচের দুই ইনিংসে তিনি করেছিলেন ০ ও ৬ রান। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ২২৮ বলে ৭৮ রানের ইনিংস খেলে নিজের সামর্থ্যের জানান দেন তিনি।

সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে আজ টানা দ্বিতীয় ম্যাচে খেললেন পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের ইনিংস। শুধু পঞ্চাশ পেরিয়েই থেমে যাননি তিনি। নিজের ফিফটিকে রূপ দিয়েছেন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিতে। ক্যারিয়ারের মাত্র চতুর্থ ইনিংস খেলতে নেমেই সেঞ্চুরি হাঁকালেন জয়।

কিংসমিডে শুরু থেকেই ধৈর্য্যের মূর্ত প্রতীক হয়ে খেলছিলেন জয়। প্রথম ৫০ করতে তিনি খেলেন ১৭০ বল। কিউইদের বিপক্ষে প্রথম ফিফটিটি করেছিলেন ১৬৫ বলে। আজ আরও ৫ বল বেশি খেলে পঞ্চাশ করার পর হাত খোলেন তিনি।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর