শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ি, ঝিনাইগাতি ও শ্রীবর্দী উপজেলা ভারত সীমান্তের গারো পাহাড় এলাকায় দীর্ঘ দিন থেকে চলছে হাতি মানুষের লড়াই। এতে হাতি-মানুষ হতাহতের ঘটনার পাশাপশি মানুষের ফসলের ক্ষেত ও বাড়ি-ঘর ধ্বংস হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
গত ৩ দিন ধরে জেলার নালিতাবাড়ি উপজেলার বিভিন্ন সীমান্তবর্তী গ্রামে চলছে হাতি-মানুষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। সীমান্ত জুড়ে এখন ধান ক্ষেতের সবুজের সমাহার। কয়েক দিনের মধ্যে এ সবুজ ধান পেকে সোনালী রূপ ধারন করবে। কৃষকের মুখেও ফুটবে হাসি। কিন্তু ক্ষুধার্থ বন্য হাতির লোলুপ দৃষ্টি পড়েছে ওই সবুজ ধান ক্ষেতের উপর। প্রতি রাতেই হাতির দল দলবদ্ধ হয়ে নেমে আসে ওইসব ফসলের ক্ষেতে। রাতারাতি সাবার করে দিয়ে যায় সবুজ ধান। এতে সীমান্তের কৃষকদের এখন ঘুম নেই। প্রতি রাতেই রাত জেগে তাদের ধান ক্ষেত পাহারা দিতে হচ্ছে। প্রতি রাতেই চলে হাতি-মানুষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এসময় সীমান্তের কৃষকরা কেরোসিন তেল দিয়ে মশাল জ্বালিয়ে ও লাঠিসোনা নিয়ে হাতির দলকে ধাওয়া করলে হাতির দলও উল্টো মানুষের উপর পাল্টা ধাওয়া করে। এসময়ই ঘটে হতাহতের ঘটনা। যদিও সোমবার রাতে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে ফসলসহ বনের বিভিন্ন গাছ, কৃষকের সবজি ক্ষেত ও ঘর-বাড়িরও ক্ষতি সাধন হয়েছে।
সর্বশেষ ৪ এপ্রিল সোমবার রাতে জেলার নালিতাবাড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী আন্ধারুপাড়া ও ডালুকোনা গ্রামে একদল হাতি আক্রমন চলিয়ে আবুল মিয়া, লিটন মিয়া, সাহাবুদ্দিন, লুইস নিমমিনজা, মার্টিন মারাকসহ অনেকের ক্ষেত বিনষ্ট করে। এঘটনায় ওই গ্রামসহ আশপাশের গ্রামের মানুষ এখন নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছে। সীমান্তের কৃষকরা রয়েছে আতংগ্রস্থ।
চলতি বছর হাতির হামলায় সীমান্তের কোন মানুষ মারা না গেলেও মানুষের হামলায় হাতিও মারা পড়েছে ২টি। তবে ১৯৯৫ সাল থেকে গত বছরের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত মানুষ মারা গেছে ৭০ জন এবং কয়েক কোটি টাকার ফসল, ঘর-বাড়ি ও গাছপালা বিনষ্ট হয়েছে।
এবিষয়ে নালিতাবাড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হেলেনা পারভীন জানায়, ক্ষতিগ্রস্থদের কয়েকজন এসেছিলো। এ বিষয়ে তাদের তাৎক্ষনিক আলোর জন্য কেরোসিন তেল দেয়া হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য সহযোগীতা অব্যহত থাকবে।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ




















