০৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

গৌরীপুরে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় রোববার গভীরাতে কালবৈশাখী ঝড়ে ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উড়িয়ে নিয়ে গেছে আধাকাচা ও কাচা ঘরবাড়ি। বোকাইনগর ইউনিয়নে প্রায় ৫হাজার পরিবার ক্ষতির শিকার হয়েছে। শিলাবৃষ্টিতে প্রায় ৩হাজার পরিবারের টিনের চাল ছিদ্র হয়ে ঝাঝড়া হয়ে গেছে। আধাপাকা ও কাচা ধান ক্ষেতের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। সবজি ক্ষেতগুলো ধানের চেয়েও বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ছিঁড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
গৌরীপুর আবাসিক প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) আব্দুল্লাহ আল নোমান জানান, বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমরা দিনরাত পরিশ্রম করে লাইন সচল করার চেস্টা করছি। মঙ্গলবার মধ্যে সবলাইন স্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে।
উপজেলা কৃষি অফিসার লুৎফুন্নাহার জানান, ১০টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার সবস্থানে শিলাবৃষ্টিতে ধানের ক্ষতি হয়েছে। ধানের ক্ষতি এই মুর্হুতে বলা সম্ভব না। তবে ৬৮৭জন সবজি চাষীর সাড়ে ২৭ হেক্টর জমির মৌসুমী শাক-সবজি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
এদিকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ ইউনিয়ন বোকাইনগর। এ ইউনিয়নের ১৯টি গ্রামের অসংখ্য পরিবার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল মোক্তাদির শাহীন জানান, দুই-তিনশত বাড়ির ঘর দেখেছি যেগুরোতে রাত্রিযাপনের কোনো সুযোগ নেই। সবগুলো ঘরের টিন ঝাঝড়া হয়ে গেছে। অর্ধশত বাড়ির ঘর উড়িয়ে নিয়ে গেছে। ৭টি ঘর ধসে পড়েছে। এ ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে প্রায় ৫হাজার পরিবার। ধানের ক্ষেত, কচুক্ষেতের পাতা নেই।
এদিকে ২নং গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হযরত আলী জানান, এ ইউনিয়নের বায়ড়াউড়া, কোনাপাড়া, হিম্মতনগর, সাতুতি, ইউসুফাবাদ ও শালীহর ঘুরে দেখেছেন ১৮টি পরিবারের কাচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্থ হয়েছে। বিদ্যুৎ লাইনও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। অচিন্তপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. জায়েদুর রহমান জানান, শতাধিক বাড়িঘরের টিন শিলাবৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে গেছে। মাওহা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আল ফারুক জানান, ১২টি পরিবার ঝড়ে নিঃস্ব হয়ে। ১৯টি ঘরের টিন উড়িয়ে নিয়ে গেছে। সহনাটী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সালাহ উদ্দিন কাদের রুবেল জানান, ঝড়ে বিদ্যুৎ লাইন ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত সোমবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়নি। রামগোপালপুরের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল আমিন জনি জানান, ৬টি গ্রামের অর্ধশত বাড়িঘর বিধ্বস্থ হয়েছে। এদের মধ্যে ১৮টি বাড়ির টিনের চাল উড়িয়ে নিয়ে গেছে। ডৌহাখলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম.এ কাইয়ুম জানান, তার ইউনিয়নের সবচেয়ে বেশি নষ্ট হয়েছে গাছপালার। ১০/১২টি বাড়িঘর বিধ্বস্থ। সিধরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন জানান, ৫টি ইউনিয়নের অর্ধশত বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২৬ উদ্বোধন করেন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গৌরীপুরে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি

প্রকাশিত : ০৮:১৬:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ এপ্রিল ২০২২

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় রোববার গভীরাতে কালবৈশাখী ঝড়ে ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উড়িয়ে নিয়ে গেছে আধাকাচা ও কাচা ঘরবাড়ি। বোকাইনগর ইউনিয়নে প্রায় ৫হাজার পরিবার ক্ষতির শিকার হয়েছে। শিলাবৃষ্টিতে প্রায় ৩হাজার পরিবারের টিনের চাল ছিদ্র হয়ে ঝাঝড়া হয়ে গেছে। আধাপাকা ও কাচা ধান ক্ষেতের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। সবজি ক্ষেতগুলো ধানের চেয়েও বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ছিঁড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
গৌরীপুর আবাসিক প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) আব্দুল্লাহ আল নোমান জানান, বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমরা দিনরাত পরিশ্রম করে লাইন সচল করার চেস্টা করছি। মঙ্গলবার মধ্যে সবলাইন স্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে।
উপজেলা কৃষি অফিসার লুৎফুন্নাহার জানান, ১০টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার সবস্থানে শিলাবৃষ্টিতে ধানের ক্ষতি হয়েছে। ধানের ক্ষতি এই মুর্হুতে বলা সম্ভব না। তবে ৬৮৭জন সবজি চাষীর সাড়ে ২৭ হেক্টর জমির মৌসুমী শাক-সবজি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
এদিকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ ইউনিয়ন বোকাইনগর। এ ইউনিয়নের ১৯টি গ্রামের অসংখ্য পরিবার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল মোক্তাদির শাহীন জানান, দুই-তিনশত বাড়ির ঘর দেখেছি যেগুরোতে রাত্রিযাপনের কোনো সুযোগ নেই। সবগুলো ঘরের টিন ঝাঝড়া হয়ে গেছে। অর্ধশত বাড়ির ঘর উড়িয়ে নিয়ে গেছে। ৭টি ঘর ধসে পড়েছে। এ ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে প্রায় ৫হাজার পরিবার। ধানের ক্ষেত, কচুক্ষেতের পাতা নেই।
এদিকে ২নং গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হযরত আলী জানান, এ ইউনিয়নের বায়ড়াউড়া, কোনাপাড়া, হিম্মতনগর, সাতুতি, ইউসুফাবাদ ও শালীহর ঘুরে দেখেছেন ১৮টি পরিবারের কাচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্থ হয়েছে। বিদ্যুৎ লাইনও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। অচিন্তপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. জায়েদুর রহমান জানান, শতাধিক বাড়িঘরের টিন শিলাবৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে গেছে। মাওহা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আল ফারুক জানান, ১২টি পরিবার ঝড়ে নিঃস্ব হয়ে। ১৯টি ঘরের টিন উড়িয়ে নিয়ে গেছে। সহনাটী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সালাহ উদ্দিন কাদের রুবেল জানান, ঝড়ে বিদ্যুৎ লাইন ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত সোমবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়নি। রামগোপালপুরের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল আমিন জনি জানান, ৬টি গ্রামের অর্ধশত বাড়িঘর বিধ্বস্থ হয়েছে। এদের মধ্যে ১৮টি বাড়ির টিনের চাল উড়িয়ে নিয়ে গেছে। ডৌহাখলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম.এ কাইয়ুম জানান, তার ইউনিয়নের সবচেয়ে বেশি নষ্ট হয়েছে গাছপালার। ১০/১২টি বাড়িঘর বিধ্বস্থ। সিধরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন জানান, ৫টি ইউনিয়নের অর্ধশত বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ