নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার সংযোগস্থলে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ সেচ প্রকল্পটি অবস্থিত।
এই ব্যারেজ রক্ষার্থে বাম তীরে লালমনিরহাট অংশে ফ্লাড বাইপাস নির্মাণ করা হয়। ফ্লাড বাইপাস সড়কটি লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থেকে ডিমলা হয়ে নীলফামারী যাতায়াতের একমাত্র সড়ক। আর এই তিস্তা ব্যারেজ ফ্লাড বাইপাস সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে জরাজীর্ণ এই সড়ক দিয়ে শতশত যাত্রীবাহী পরিবহন ও পণ্যবাহী পরিবহনে চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
জানা গেছে, গত বছরের ২০ অক্টোবর হটাৎ তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ বেড়ে যায়। ওই দিন তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প রক্ষায় নির্মিত সড়কের (ফ্লাড বাইপাস) ৩০০ মিটারের মতো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণে বন্ধ হয়ে যায় লালমনিরহাটের সঙ্গে নীলফামারীর যোগাযোগ। পরে ইমারজেন্সি বরাদ্দ নিয়ে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটির সংস্কার করেন পাউবো।
এদিকে, কিছুদিন না যেতেই আবারও সড়কটি জরাজীর্ণ হয়ে পরে । এরপর বাইপাস সড়কটি আর সংস্কার করা হয়নি। সড়কটিতে বালু ও মাটি ভরাটের কারণে খরা মৌসুমে সড়কজুড়ে প্রচুর ধুলা হয় আর বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কটি কাদায় ভরে যায়। ফলে পিকআপ ভ্যান, অ্যাম্বুলেন্স, মাহিন্দ্রা, মাইক্রোবাস, ইজিবাইক, অটোভ্যান, টেম্পুসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড(পাউবো) ও স্থানীয় সুত্রমতে, ১৯৫৭ সালে প্রকল্পের কাজ শুরুর উদ্যোগ নেয়া হলেও বিভিন্ন জটিলতার কারণে তা সম্ভব হয়নি, পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার গড্ডিমারী ইউনিয়নের দোয়ানী এবং নীলফামারী ডিমলার খালিসা চাপানী ইউনিয়নের ডালিয়া এর মধ্যবর্তী স্থানে তিস্তা নদীর ওপর ৪৪টি রেডিয়াল গেট সম্বলিত ৬১৫ মিটার দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট ব্যারেজটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ১৯৯১ সালে মূল ব্যারেজের নির্মাণ কাজ শেষ হলেও ক্যানেলসহ অন্যান্য কাজ শেষ হয় ১৯৯৮ সালের জুন মাসে। এসময় রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের পাগলাপীর থেকে লালমনিরহাট-বুড়িমারী স্থল বন্দর মহাসড়কের বড়খাতা নামক স্থান পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটারের সংযোগ সড়ক নির্মান করে পাউবো।
২০০১ সালে তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পের ওপর দিয়ে সংযোগ সড়কটি চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হলে সে সময় ভারী যানবাহনের কাছ থেকে টোল আদায় করা হতো। ওই সংযোগ সড়কের ফলে বিভিন্ন জেলার দুরত্ব ও সময় অনেকটা কমে আসে।
লালমনিহাটের বুড়িমারী স্থল বন্দরসহ এ অঞ্চলের ব্যবসা বানিজ্যের ব্যাপক বিপ্লব ঘটে। তবে ব্যারেজ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশঙ্কায় ২০১৪ সালের ২৫ নভেম্বর ওই সড়ক দিয়ে অধিক ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়ে তখন থেকে হালকা যানবাহন স্বাভাবিক রাখা হয়। সে ক্ষেত্রে টোল নেওয়াও বন্ধ করে দেয় পাউবো।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফ্লাড বাইপাস সড়কে সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন স্থানে কাদামাটিসহ ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন দুই জেলার হাজার হাজার মানুষ ও গাড়ি চালকরা। খানাখন্দে ভরা এ সড়কে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলছে হালকা ও ভারী যান। এ ছাড়া অটোরিকশা ও ইজিবাইকের মতো ছোট ছোট যানবাহন উল্টে গিয়ে প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে।
এ সময় কথা হয় তিস্তা ব্যারেজ এলাকার আবু তাহেরের সাথে তিনি বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলে কাদার জন্য চলাচলের সমস্যা আবার বৃষ্টি না হলে ধুলার জন্য চলাচল করা যায় না এই রাস্তা দিয়ে।
ব্যাটাচালিত ইজিবাইক চালক মজিবর মিয়া বলেন, একটু বৃষ্টির কারনে রাস্তার যে অবস্থা, মানুষ অনেক কষ্ট করেছে। আমাদের অটোগুলার কন্ট্রোলারগুলো পোড়া যাচ্ছে। একটা কন্ট্রোলারের দাম ৫ হাজার টাকা, সারাদিন কামাই(রোজগার) হয় ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা।
হাটে ছাগল বিক্রি করতে যাচ্ছিলেন ওই এলাকার আনোয়ার হোসেন তিনি বলেন, এলা তো বেশি বৃষ্টি নাই তারপরেও কি অবস্থা। আর যখন বেশি বৃষ্টি হইবে তখন তো চলাফিরা আরো কষ্ট হইবে।
তারা সবাই সড়কটির দ্রুত সংস্কারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া শাখার নির্বাহী
প্রকৌশলী আসফা-উদ-দৌলা বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ফ্লাড বাইপাস সংস্কারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করে সড়কটি সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করা হবে। তবে বন্যার আগে দ্রুত এটি সংস্কারের চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর




















