০১:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

ব্যস্ততা বেড়েছে রাঙ্গুনিয়ার দর্জি শিল্পীদের

করোনার ধকল কাটিয়ে দীর্ঘ দুই বছরের বেশি সময় পর এবার আসন্ন ঈদুল ফিতরে জমে উঠেছে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া পোশাক তৈরি কারিগরদের ব্যস্ততা। রেডিমেট গার্মেন্ট পোশাকের আধিক্যতায় কাপড় কিনে পোশাক তৈরি দিনদিন কমে আসলেও গত কয়েক বছর পর এবার বেড়েছে দর্জি শিল্পীদের কর্মযজ্ঞতা। ইতোমধ্যে দিনরাত নতুন পোশাক তৈরির কাজে একটানা কাজ করতে হচ্ছে তাদের।

বেচাকেনাও ধীরে ধীরে বেড়ে চলেছে। করোনার কারণে বেশ মন্দা গিয়েছিল দু’বছর। সেই দুই বছরের লোকসান পোষাতে এবার কোমর বেঁধেই নেমেছেন দর্জিওয়ালারা।

এদিকে অত্যাধুনিক তৈরি পোষাকের কারণে দর্জিবাড়ির চাহিদা ক্রমেই কমে আসছিল। তবে নিত্য নতুন পোষাকের আকাশচুম্বি অগ্নিমূল্যের কারণে গ্রামগঞ্জের সাধারণ মানুষের এখনো ভরসা কাপড়ের তৈরী পোষাকের প্রতি। সে কারণে দর্জিবাড়িগুলোতে এখনো দারুণ ভিড় লেগে যায়। ফলে এখন বিরামহীন ব্যস্ততা চলছে তাঁদের দোকানগুলোতে। এক সময় গ্রামগঞ্জের মানুষগুলো একটু ভালোমানের কাপড়-চোপড়ের জন্যে শহরের দিকে ছুটে যেতেন। এখন শহরের উপর নির্ভরতা অনেকাংশে কমে এসেছে। মফস্বলের প্রতিটি উপজেলায় এখন গড়ে উঠেছে এক বা একাধিক শপিংমল। অত্যাধুনিক সাজসজ্জার এসব শপিংমলগুলোতেও এখন আর সাধারণ মানুষদের ঠাঁই হচ্ছে না। তাঁদের শেষ আশ্রয় পাড়া মহল্লা আর হাট বাজারের দর্জির দোকানগুলো।

এদিকে, এসব দোকান ঘুরে দেখা যায়, এখন তাঁদের কথা বলার ফুরসৎ নেই। দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন তাঁরা। শার্ট, প্যান্ট, সেলোয়ার, কামিজ, ফতুয়া, ব্লাউজ, থ্রি-পিছ, পাঞ্জাবি, কামিজসহ বিভিন্ন ধরণের থান কাপড় থেকে পোশাক সেলাই করছেন তাঁরা। উপজেলার বড় বড় শপিংমলগুলোতে তৈরী পোষাকের যেমন কদর বেশী, তেমনি বাজারভিত্তিক স্টেশনগুলোতে এখন দর্জিবাড়িতে চলছে পোষাক তৈরীর ধুম।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, থান কাপড়ের দোকানগুলোতেও সেলাই মেশিন দিয়ে দর্জি রাখা হয়েছে। থান কাপড় থেকে নিজেরা অর্ডার নিয়ে কাপড় তৈরি করেও ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন অনেক দর্জি। কয়েকজন দর্জির সাথে আলাপ করে জানা যায়, এখানে মেয়েদের সেলোয়ার, কামিজ, ব্লাউজ, পেটিকোট, ছেলেদের পাঞ্জাবী, পায়জামা, ছোটদের প্যান্ট-শার্ট তৈরি করা হয়। জায়গা অনুযায়ি সেলাইয়ের মজুরী ও তারতাম্য দেখা যায়।

দর্জিরা অনেকেই বলেন, তাঁরা এ মাসের জন্য অপেক্ষা করেন সারাবছর। তাছাড়া দিন-রাত পরিশ্রম করে তাঁরা এ মাসে বেশি টাকা আয় করেন। দর্জিরা বলেন, আগে মধ্য রোজার সময় আমাদের অর্ডার নেয়া বন্ধ করে দেয়া হতো। এখন ঈদের ৪-৫ দিন আগেও আমরা অর্ডার নেব। কাজের চাপ বেশি হলেও অতিরিক্ত কারিগর রাখা আছে। এসব দোকানে মধ্যবিত্ত ও বিশেষ করে নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের অভিভাবকেরা ছুটে বেড়াচ্ছেন। ঈদের সময় সবাই চায়, নিজের পরিবারের সদস্যদের সামর্থ্যের মধ্যে নতুন কাপড় উপহার দিতে। বিশেষ করে শিশুদের মন জয় করতে তাঁদের থাকে প্রাণান্তর চেষ্টা।

উপজেলার গোচরা চৌমুহনীর শাহ আলম টেইলার্সে বাচ্চাদের জন্যে কাপড় বানাতে আসা আবুল ছৈয়দ নামের একজন অভিভাবক জানান, সময়ের চাহিদায় এখন তৈরি পোষাকের মতো সেলাই কাপড়েও নানান বৈচিত্রতা এসেছে। দেশীয় কাপড়ের বুটিক হাউজগুলো স্বপ্লমূল্যের ভিতর নক্সা করা পাঞ্জাবী, ত্রিপিছ, ব্লাউজ, ফ্রক নানা রকম পিছ কাপড় সরবরাহ করছে। তা থেকে সুলভ মূল্যে পছন্দ করা কাপড় বানানো যাচ্ছে। এসব নক্সা করা পোষাকের দাম একটু বেশী হলেও আরো কম দামে থান কাপড় দিয়েও পছন্দ মতো জামা বানানো যাচ্ছে। তিনি তাঁর ৩ ছেলে-মেয়ের জন্যে পছন্দ মতো কাপড় সেলাই করতে দিয়ে বেশ খুশি। সেই সাথে বাচ্চাগুলোও।

উপজেলার বৃহত্তম বাজার বসে চন্দ্রঘোনার লিচুবাগান আর দোভাষী বাজারে। তারপরেই রোয়াজার হাট। এসব বাজারে তৈরি পোষাকের পাশাপাশি দর্জিবাড়ির চাহিদাও উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও উত্তর রাঙ্গুনিয়ার রাণীর হাট, ধামাইর হাট, মোগলের হাট ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার রাজার হাট, ব্যুহচক্র বাজার, ক্ষেত্রবাজার ছাড়াও গোচরা চৌমুহনী, শান্তির হাট, মরিয়মনগরের মতো স্টেশনগুলোতে ঈদের জমজমাট বেচাকেনা হয়। প্রতিটি স্টেশনেই লটারীর ঘোষণা দিয়ে ক্রেতা আকৃষ্ট করার চেষ্টা চলে। এদের সাথে পাল্লা দিয়েই সেলাই দোকানগুলোকে টিকে থাকতে হচ্ছে। এমন প্রতিকুলতার মধ্যেও তাদের দোকানগুলোতে প্রচণ্ড ব্যস্ততা। কাজের চাপে বিনিদ্র রাত কাটাতে হচ্ছে তাদের। এতে তারা খুবই খুশি বাড়তি অর্থ উপার্জনের সুযোগ পেয়ে।

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ফের যুদ্ধ হলে ‘আরও চমক’ দেখবে বিশ্ব: ইরানের হুঁশিয়ারি

ব্যস্ততা বেড়েছে রাঙ্গুনিয়ার দর্জি শিল্পীদের

প্রকাশিত : ০৬:০৬:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ এপ্রিল ২০২২

করোনার ধকল কাটিয়ে দীর্ঘ দুই বছরের বেশি সময় পর এবার আসন্ন ঈদুল ফিতরে জমে উঠেছে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া পোশাক তৈরি কারিগরদের ব্যস্ততা। রেডিমেট গার্মেন্ট পোশাকের আধিক্যতায় কাপড় কিনে পোশাক তৈরি দিনদিন কমে আসলেও গত কয়েক বছর পর এবার বেড়েছে দর্জি শিল্পীদের কর্মযজ্ঞতা। ইতোমধ্যে দিনরাত নতুন পোশাক তৈরির কাজে একটানা কাজ করতে হচ্ছে তাদের।

বেচাকেনাও ধীরে ধীরে বেড়ে চলেছে। করোনার কারণে বেশ মন্দা গিয়েছিল দু’বছর। সেই দুই বছরের লোকসান পোষাতে এবার কোমর বেঁধেই নেমেছেন দর্জিওয়ালারা।

এদিকে অত্যাধুনিক তৈরি পোষাকের কারণে দর্জিবাড়ির চাহিদা ক্রমেই কমে আসছিল। তবে নিত্য নতুন পোষাকের আকাশচুম্বি অগ্নিমূল্যের কারণে গ্রামগঞ্জের সাধারণ মানুষের এখনো ভরসা কাপড়ের তৈরী পোষাকের প্রতি। সে কারণে দর্জিবাড়িগুলোতে এখনো দারুণ ভিড় লেগে যায়। ফলে এখন বিরামহীন ব্যস্ততা চলছে তাঁদের দোকানগুলোতে। এক সময় গ্রামগঞ্জের মানুষগুলো একটু ভালোমানের কাপড়-চোপড়ের জন্যে শহরের দিকে ছুটে যেতেন। এখন শহরের উপর নির্ভরতা অনেকাংশে কমে এসেছে। মফস্বলের প্রতিটি উপজেলায় এখন গড়ে উঠেছে এক বা একাধিক শপিংমল। অত্যাধুনিক সাজসজ্জার এসব শপিংমলগুলোতেও এখন আর সাধারণ মানুষদের ঠাঁই হচ্ছে না। তাঁদের শেষ আশ্রয় পাড়া মহল্লা আর হাট বাজারের দর্জির দোকানগুলো।

এদিকে, এসব দোকান ঘুরে দেখা যায়, এখন তাঁদের কথা বলার ফুরসৎ নেই। দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন তাঁরা। শার্ট, প্যান্ট, সেলোয়ার, কামিজ, ফতুয়া, ব্লাউজ, থ্রি-পিছ, পাঞ্জাবি, কামিজসহ বিভিন্ন ধরণের থান কাপড় থেকে পোশাক সেলাই করছেন তাঁরা। উপজেলার বড় বড় শপিংমলগুলোতে তৈরী পোষাকের যেমন কদর বেশী, তেমনি বাজারভিত্তিক স্টেশনগুলোতে এখন দর্জিবাড়িতে চলছে পোষাক তৈরীর ধুম।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, থান কাপড়ের দোকানগুলোতেও সেলাই মেশিন দিয়ে দর্জি রাখা হয়েছে। থান কাপড় থেকে নিজেরা অর্ডার নিয়ে কাপড় তৈরি করেও ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন অনেক দর্জি। কয়েকজন দর্জির সাথে আলাপ করে জানা যায়, এখানে মেয়েদের সেলোয়ার, কামিজ, ব্লাউজ, পেটিকোট, ছেলেদের পাঞ্জাবী, পায়জামা, ছোটদের প্যান্ট-শার্ট তৈরি করা হয়। জায়গা অনুযায়ি সেলাইয়ের মজুরী ও তারতাম্য দেখা যায়।

দর্জিরা অনেকেই বলেন, তাঁরা এ মাসের জন্য অপেক্ষা করেন সারাবছর। তাছাড়া দিন-রাত পরিশ্রম করে তাঁরা এ মাসে বেশি টাকা আয় করেন। দর্জিরা বলেন, আগে মধ্য রোজার সময় আমাদের অর্ডার নেয়া বন্ধ করে দেয়া হতো। এখন ঈদের ৪-৫ দিন আগেও আমরা অর্ডার নেব। কাজের চাপ বেশি হলেও অতিরিক্ত কারিগর রাখা আছে। এসব দোকানে মধ্যবিত্ত ও বিশেষ করে নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের অভিভাবকেরা ছুটে বেড়াচ্ছেন। ঈদের সময় সবাই চায়, নিজের পরিবারের সদস্যদের সামর্থ্যের মধ্যে নতুন কাপড় উপহার দিতে। বিশেষ করে শিশুদের মন জয় করতে তাঁদের থাকে প্রাণান্তর চেষ্টা।

উপজেলার গোচরা চৌমুহনীর শাহ আলম টেইলার্সে বাচ্চাদের জন্যে কাপড় বানাতে আসা আবুল ছৈয়দ নামের একজন অভিভাবক জানান, সময়ের চাহিদায় এখন তৈরি পোষাকের মতো সেলাই কাপড়েও নানান বৈচিত্রতা এসেছে। দেশীয় কাপড়ের বুটিক হাউজগুলো স্বপ্লমূল্যের ভিতর নক্সা করা পাঞ্জাবী, ত্রিপিছ, ব্লাউজ, ফ্রক নানা রকম পিছ কাপড় সরবরাহ করছে। তা থেকে সুলভ মূল্যে পছন্দ করা কাপড় বানানো যাচ্ছে। এসব নক্সা করা পোষাকের দাম একটু বেশী হলেও আরো কম দামে থান কাপড় দিয়েও পছন্দ মতো জামা বানানো যাচ্ছে। তিনি তাঁর ৩ ছেলে-মেয়ের জন্যে পছন্দ মতো কাপড় সেলাই করতে দিয়ে বেশ খুশি। সেই সাথে বাচ্চাগুলোও।

উপজেলার বৃহত্তম বাজার বসে চন্দ্রঘোনার লিচুবাগান আর দোভাষী বাজারে। তারপরেই রোয়াজার হাট। এসব বাজারে তৈরি পোষাকের পাশাপাশি দর্জিবাড়ির চাহিদাও উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও উত্তর রাঙ্গুনিয়ার রাণীর হাট, ধামাইর হাট, মোগলের হাট ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার রাজার হাট, ব্যুহচক্র বাজার, ক্ষেত্রবাজার ছাড়াও গোচরা চৌমুহনী, শান্তির হাট, মরিয়মনগরের মতো স্টেশনগুলোতে ঈদের জমজমাট বেচাকেনা হয়। প্রতিটি স্টেশনেই লটারীর ঘোষণা দিয়ে ক্রেতা আকৃষ্ট করার চেষ্টা চলে। এদের সাথে পাল্লা দিয়েই সেলাই দোকানগুলোকে টিকে থাকতে হচ্ছে। এমন প্রতিকুলতার মধ্যেও তাদের দোকানগুলোতে প্রচণ্ড ব্যস্ততা। কাজের চাপে বিনিদ্র রাত কাটাতে হচ্ছে তাদের। এতে তারা খুবই খুশি বাড়তি অর্থ উপার্জনের সুযোগ পেয়ে।

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি।