০৩:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

বদলগাছীতে কালবৈশাখীর আঘাতে লন্ডভন্ড ফসল, দিশেহারা কৃষকরা

নওগাঁর বদলগাছীতে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে ফসলের ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মাটিতে নুয়ে পড়েছে ধান,ভুট্রা, পটল ক্ষেত সহ ভেঙ্গে পড়েছে কলাগাছ,গাছপালা ও ঘরবাড়ি। এই কাল বৈশাখী ঝড়ে প্রায় কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এলাকার কৃষকদের। ফসলের এমন পরিস্থিতি দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষকরা।

গতকাল বুধবার ভোর রাত সাড়ে ৩টায় হঠাৎ কাল বৈশাখীর ছোবলে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে বদলগাছী উপজেলার প্রায় সকল ইউপির গাছপালা, ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষেত। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে মাঠের ফসল নিয়ে। মাঠ জুড়ে রয়েছে বোরো ধান, ভুট্রা, পটল ও কলা সহ বিভিন্ন ফসলের সমারোহ। ভোর রাতে হয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে মাটির সাথে নুয়ে পড়েছে হাজার হাজার বিঘার জমির ধান।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায় মাঠের ধান গাছগুলো নুয়ে পরে আছে মাটিতে। কলাক্ষেতর কলা গাছ গুলো ভেঙ্গে ভেঙ্গে পড়ে আছে, কোথাও কোথাও গাছপালা ভেঙ্গে পড়ে আছে, বসতবাড়িতে ঝড়ের আঘাতে উড়ে গেছে ঘরের টিন। মাঠ ঘুড়ে এমন চিত্র। ধানের ফলন কমবে বলে এলাকার কৃষকরা জানান। কলাগাছ ভেঙ্গে পড়েনি ভেঙ্গে পড়েছে কৃষকের মাজা বলে এলাকাবাসী মন্তব্য করেন।

বদলগাছী উপজেলার কলাচাষী জলিল বলেন, কালবৈশাথী ঝড়ে আমার দুই বিঘা জমির কলা গাছ ভেঙ্গে পড়েছে। এতে আমার কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ভেঙ্গে পড়া জমির কলাগাছ দেখে পরিবারের সবাই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছে।

চাকরাইল গ্রামের কৃষক সাখাওয়াত বলেন হঠাৎ ঝড় ও বৃষ্টিতে আমার ৫বিঘার জমির ধান মাটিতে শুয়ে পড়েছে । আর দিন বিশেক পর ধান কাটা হবে। কিছু ধান পানির নীচে রয়েছে। শুয়ে পড়া ধান দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানায়, গত ২০ এপ্রিল বদলগাছী উপজেলার সকল ইউপিতে এই কালবৈশাখী ঝড় আঘাত হানে। এতে করে প্রায় ৫২৮৯হেক্টর জমির ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে। এ ছাড়া ভূট্টা, কলা সহ আরো ১০০হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। এই উপজেলায় প্রায় প্রায় কয়েক কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে। তবে এই বৃষ্টি আমের জন্য উপকার করেছে বলেও জানান তারা।

এ বছর বোরো ধানের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছিল ১১৬০৫ হেক্টর।অর্জিত হয়েছে ১১৭৬৫হেক্টর যা লক্ষমাত্রার চেয়ে ১৬০হেক্টর বেশি। তবে ধান নুয়ে পড়ায় ফলন কিছুটা কম হবে।

এ ব্যপারে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ হাসান আলী বলেন, বুধবার ভোরে কাল বৈশাখী ঝড়-বৃষ্টিতে ধানের ব্যপক ক্ষতি হয়েছে। এতে ফলন কিছুটা কমবে। তবে পরবর্তীতে আর বৃষ্টি না হলে ফসলের ক্ষতি স্বাভাবিক থাকবে নয়তো বৃষ্টির পানিতে ধান নষ্টের সম্ভাবনা থাকবে। শত শত বিঘার কলাবাগানের গাছ ভেঙ্গে কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

সীতাকুণ্ডে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ভূমিসেবা মেলা- ২০২৬ উদ্বোধন

বদলগাছীতে কালবৈশাখীর আঘাতে লন্ডভন্ড ফসল, দিশেহারা কৃষকরা

প্রকাশিত : ০৬:০৩:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ এপ্রিল ২০২২

নওগাঁর বদলগাছীতে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে ফসলের ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মাটিতে নুয়ে পড়েছে ধান,ভুট্রা, পটল ক্ষেত সহ ভেঙ্গে পড়েছে কলাগাছ,গাছপালা ও ঘরবাড়ি। এই কাল বৈশাখী ঝড়ে প্রায় কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এলাকার কৃষকদের। ফসলের এমন পরিস্থিতি দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষকরা।

গতকাল বুধবার ভোর রাত সাড়ে ৩টায় হঠাৎ কাল বৈশাখীর ছোবলে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে বদলগাছী উপজেলার প্রায় সকল ইউপির গাছপালা, ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষেত। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে মাঠের ফসল নিয়ে। মাঠ জুড়ে রয়েছে বোরো ধান, ভুট্রা, পটল ও কলা সহ বিভিন্ন ফসলের সমারোহ। ভোর রাতে হয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে মাটির সাথে নুয়ে পড়েছে হাজার হাজার বিঘার জমির ধান।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায় মাঠের ধান গাছগুলো নুয়ে পরে আছে মাটিতে। কলাক্ষেতর কলা গাছ গুলো ভেঙ্গে ভেঙ্গে পড়ে আছে, কোথাও কোথাও গাছপালা ভেঙ্গে পড়ে আছে, বসতবাড়িতে ঝড়ের আঘাতে উড়ে গেছে ঘরের টিন। মাঠ ঘুড়ে এমন চিত্র। ধানের ফলন কমবে বলে এলাকার কৃষকরা জানান। কলাগাছ ভেঙ্গে পড়েনি ভেঙ্গে পড়েছে কৃষকের মাজা বলে এলাকাবাসী মন্তব্য করেন।

বদলগাছী উপজেলার কলাচাষী জলিল বলেন, কালবৈশাথী ঝড়ে আমার দুই বিঘা জমির কলা গাছ ভেঙ্গে পড়েছে। এতে আমার কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ভেঙ্গে পড়া জমির কলাগাছ দেখে পরিবারের সবাই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছে।

চাকরাইল গ্রামের কৃষক সাখাওয়াত বলেন হঠাৎ ঝড় ও বৃষ্টিতে আমার ৫বিঘার জমির ধান মাটিতে শুয়ে পড়েছে । আর দিন বিশেক পর ধান কাটা হবে। কিছু ধান পানির নীচে রয়েছে। শুয়ে পড়া ধান দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানায়, গত ২০ এপ্রিল বদলগাছী উপজেলার সকল ইউপিতে এই কালবৈশাখী ঝড় আঘাত হানে। এতে করে প্রায় ৫২৮৯হেক্টর জমির ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে। এ ছাড়া ভূট্টা, কলা সহ আরো ১০০হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। এই উপজেলায় প্রায় প্রায় কয়েক কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে। তবে এই বৃষ্টি আমের জন্য উপকার করেছে বলেও জানান তারা।

এ বছর বোরো ধানের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছিল ১১৬০৫ হেক্টর।অর্জিত হয়েছে ১১৭৬৫হেক্টর যা লক্ষমাত্রার চেয়ে ১৬০হেক্টর বেশি। তবে ধান নুয়ে পড়ায় ফলন কিছুটা কম হবে।

এ ব্যপারে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ হাসান আলী বলেন, বুধবার ভোরে কাল বৈশাখী ঝড়-বৃষ্টিতে ধানের ব্যপক ক্ষতি হয়েছে। এতে ফলন কিছুটা কমবে। তবে পরবর্তীতে আর বৃষ্টি না হলে ফসলের ক্ষতি স্বাভাবিক থাকবে নয়তো বৃষ্টির পানিতে ধান নষ্টের সম্ভাবনা থাকবে। শত শত বিঘার কলাবাগানের গাছ ভেঙ্গে কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর