০৩:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

রাঙ্গুনিয়ায় ইরি-বোরোর বাম্পার ফলনের আশা

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় যেদিকে তাকানো যায়- শুধু ইরি-বোরো ধানের দিগন্ত বিস্মৃত সবুজ শ্যামলিমা। গত বছর আমন ধানের বাম্পার ফলন এবং বাজার দর ভালো পাওয়ায় এবারও কৃষকরা রাত-দিন সমান পরিশ্রম করে যাচ্ছেন বাম্পার ফলনের আশায়। চলতি মৌসুমে বিদ্যুৎ সরবরাহ ভালো থাকায় এবং সার, ডিজেল, পানি, কীটনাশকসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সহজেই সরবরাহ পাওয়ায় কৃষকরা এবারও বাম্পার ফলনের আশা করছেন। রাঙ্গুনিয়া কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় চলতি মৌসুমে ইরি-বোরো চাষ হয়েছে ৮ হাজার ৩৬৫ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৮ হাজার ৭৪৪ হেক্টর মেট্রিক টন। এসব ধানের মধ্যে ২ জাতের ধান রয়েছে হাইব্রিড ও উপশী। হাইব্রিডের মধ্যে ইস্পাহানী-২, বালিয়া-২, চমক-১, আফতাব এলপি-৭০, এসি আই-১, সবুজ সাথী, ব্রাক হাইব্রিড-১, ১২০৩, তেজগোল্ড। উপশীর মধ্যে ব্রি ধান ২৮, ব্রি ধান-২৯, ব্রি ধান-৫৫, ব্রি ধান-৫৮, ব্রি ধান-৬৮, ব্রি ধান- ৮১, ব্রি ধান- ৮৬, ব্রি ধান- ৮৮, ব্রি ধান- ৮৯, ব্রি ধান- ১০০ চাষাবাদ করা হয়েছে। বিখ্যাত গুমাইবিলের কয়েকজন কৃষক জানান, গত মৌসুমে আমনের বাম্পার ফলন এবং ধান ও চালের ভালো দাম পাওয়ায় আমরা এবার ইরি-বুরো ধান রোপন করেছি। তারা আরও জানান, কৃষকের এই প্রত্যাশার সবচেয়ে বড় বাধা হতে পারে বিদ্যুতের লাগামহীন লোডশেডিং। অন্য বছরের তুলনায় এবার বিদ্যুৎ সরবরাহ ভালো থাকায় এবং লো-ভোল্টেজ না থাকার কারণে কৃষকরা রাত-দিন সেচযন্ত্র চালাতে পেরেছে। তবে এপ্রিলের শুরু থেকে যেভাবে লোডশেডিং হচ্ছে তাতে ধান কাটার সময় বিপদে পড়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। কৃষি কর্মকর্তারা জানান, সার, ডিজেল, পানি, কীটনাশকসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সহজেই সরবরাহ করা হচ্ছে কৃষকদের মাঝে। ফলে এবার বাম্পার ফলন হবে। উপজেলা বগাবিলি গ্রামের কৃষক আলী আব্বাস বলেন, ‘জমিতে সেচ দেওয়ার সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রতিদিন গড়ে ১৯ থেকে ২২ ঘণ্টা পেয়েছিলাম। ফলে সেচ দিতে কোনো অসুবিধা হয়নি। পাশাপাশি কৃষি কর্মকর্তারাও নিয়মিত খোঁজ নিচ্ছেন এবং আমাদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। ফলে আমরা এবার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা বেশি দেখছি।’ উপজেলার গুমাইবিলের কৃষক আবদুল সালাম, কাজী মঈন, সবুর মিয়া জানান, ‘টানা কয়েকবছর লোকশানের মুখে পড়ায় ধান চাষ বাদ দিয়ে অন্য ফসল করার চিন্তা করেছিলাম। কিন্তু গত বছর আমনের বাম্পার ফলন এবং বাজারে দাম ভালো পেয়েছিল কৃষকরা। এবার স্থানীয় কৃষি বিভাগের অনুপ্রেরণায় আমরা অধিকাংশ জমিতে ধান চাষ করেছি।’ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন (অ: দা:) বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ে কর্মরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কৃষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যদি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকে তাহলে ৯০ শতাংশ পাকা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। যদি ৮০ শতাংশ পাকা অবস্থায় আবহাওয়া অনুকূলে না থাকে তাহলে ধান কেটে ফেলতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখনও কিছুকিছু জমিতে ধান পুরোপুরি পাকেনি। তাই ধান কাটতে আরও মাসখানেক সময় লাগবে। এর মধ্যে যাতে পোকামাকড় আক্রমণ করতে না পারে সেদিকে আমরা খেয়াল রেখেছি। কৃষকরা ঠিক কোন সময় কী কীটনাশক ব্যবহার করবে সেটাও আমরা প্রেসক্রিপশন করে দিচ্ছি। যেহেতু হাওরাঞ্চলে ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে সেদিকেও কড়া পর্যবেক্ষণ করছি।’

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

সীতাকুণ্ডে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ভূমিসেবা মেলা- ২০২৬ উদ্বোধন

রাঙ্গুনিয়ায় ইরি-বোরোর বাম্পার ফলনের আশা

প্রকাশিত : ০৬:১২:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ এপ্রিল ২০২২

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় যেদিকে তাকানো যায়- শুধু ইরি-বোরো ধানের দিগন্ত বিস্মৃত সবুজ শ্যামলিমা। গত বছর আমন ধানের বাম্পার ফলন এবং বাজার দর ভালো পাওয়ায় এবারও কৃষকরা রাত-দিন সমান পরিশ্রম করে যাচ্ছেন বাম্পার ফলনের আশায়। চলতি মৌসুমে বিদ্যুৎ সরবরাহ ভালো থাকায় এবং সার, ডিজেল, পানি, কীটনাশকসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সহজেই সরবরাহ পাওয়ায় কৃষকরা এবারও বাম্পার ফলনের আশা করছেন। রাঙ্গুনিয়া কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় চলতি মৌসুমে ইরি-বোরো চাষ হয়েছে ৮ হাজার ৩৬৫ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৮ হাজার ৭৪৪ হেক্টর মেট্রিক টন। এসব ধানের মধ্যে ২ জাতের ধান রয়েছে হাইব্রিড ও উপশী। হাইব্রিডের মধ্যে ইস্পাহানী-২, বালিয়া-২, চমক-১, আফতাব এলপি-৭০, এসি আই-১, সবুজ সাথী, ব্রাক হাইব্রিড-১, ১২০৩, তেজগোল্ড। উপশীর মধ্যে ব্রি ধান ২৮, ব্রি ধান-২৯, ব্রি ধান-৫৫, ব্রি ধান-৫৮, ব্রি ধান-৬৮, ব্রি ধান- ৮১, ব্রি ধান- ৮৬, ব্রি ধান- ৮৮, ব্রি ধান- ৮৯, ব্রি ধান- ১০০ চাষাবাদ করা হয়েছে। বিখ্যাত গুমাইবিলের কয়েকজন কৃষক জানান, গত মৌসুমে আমনের বাম্পার ফলন এবং ধান ও চালের ভালো দাম পাওয়ায় আমরা এবার ইরি-বুরো ধান রোপন করেছি। তারা আরও জানান, কৃষকের এই প্রত্যাশার সবচেয়ে বড় বাধা হতে পারে বিদ্যুতের লাগামহীন লোডশেডিং। অন্য বছরের তুলনায় এবার বিদ্যুৎ সরবরাহ ভালো থাকায় এবং লো-ভোল্টেজ না থাকার কারণে কৃষকরা রাত-দিন সেচযন্ত্র চালাতে পেরেছে। তবে এপ্রিলের শুরু থেকে যেভাবে লোডশেডিং হচ্ছে তাতে ধান কাটার সময় বিপদে পড়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। কৃষি কর্মকর্তারা জানান, সার, ডিজেল, পানি, কীটনাশকসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সহজেই সরবরাহ করা হচ্ছে কৃষকদের মাঝে। ফলে এবার বাম্পার ফলন হবে। উপজেলা বগাবিলি গ্রামের কৃষক আলী আব্বাস বলেন, ‘জমিতে সেচ দেওয়ার সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রতিদিন গড়ে ১৯ থেকে ২২ ঘণ্টা পেয়েছিলাম। ফলে সেচ দিতে কোনো অসুবিধা হয়নি। পাশাপাশি কৃষি কর্মকর্তারাও নিয়মিত খোঁজ নিচ্ছেন এবং আমাদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। ফলে আমরা এবার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা বেশি দেখছি।’ উপজেলার গুমাইবিলের কৃষক আবদুল সালাম, কাজী মঈন, সবুর মিয়া জানান, ‘টানা কয়েকবছর লোকশানের মুখে পড়ায় ধান চাষ বাদ দিয়ে অন্য ফসল করার চিন্তা করেছিলাম। কিন্তু গত বছর আমনের বাম্পার ফলন এবং বাজারে দাম ভালো পেয়েছিল কৃষকরা। এবার স্থানীয় কৃষি বিভাগের অনুপ্রেরণায় আমরা অধিকাংশ জমিতে ধান চাষ করেছি।’ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন (অ: দা:) বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ে কর্মরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কৃষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যদি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকে তাহলে ৯০ শতাংশ পাকা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। যদি ৮০ শতাংশ পাকা অবস্থায় আবহাওয়া অনুকূলে না থাকে তাহলে ধান কেটে ফেলতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখনও কিছুকিছু জমিতে ধান পুরোপুরি পাকেনি। তাই ধান কাটতে আরও মাসখানেক সময় লাগবে। এর মধ্যে যাতে পোকামাকড় আক্রমণ করতে না পারে সেদিকে আমরা খেয়াল রেখেছি। কৃষকরা ঠিক কোন সময় কী কীটনাশক ব্যবহার করবে সেটাও আমরা প্রেসক্রিপশন করে দিচ্ছি। যেহেতু হাওরাঞ্চলে ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে সেদিকেও কড়া পর্যবেক্ষণ করছি।’

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর