সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও ডক্টর ইউনুসকে পদ্মাতে চুবানি দিতে চেয়েছেন এটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুখে শোভা পায় না। শেখ হাসিনাকে রাজাকারের রক্ষক বলে আখ্যায়িত করেন ভিপি নূর।
আধিপত্যবাদ বিরোধী, মজলুম জননেতা ও জাগপা’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মরহুম শফিউল আলম প্রধান-এর ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার, ২১ মে, জাতীয় প্রেসক্লাবে তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে সকাল ১১ টায় “ শোক হোক শক্তি, গনতন্ত্র পাক মুক্তি” শীর্ষক আলোচনা সভায় একথা বলেন।
ভিপি নূর আহ্বান জানান, রাজপথে নামেন। লুটতারাজ ধর্ষণ বন্ধ করতে হবে। প্রতিদিন রাজপথে নামতে হবে । দেশের সংকট দূর করতে হবে। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন ছাড়া নির্বাচন করা যাবে না। সকল দল ঐক্যবদ্ধ হোন। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে।
এ সময় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, জাগপা সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, রাশেদ প্রধান, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ড, নেয়ামুল বশির প্রমূখ।
অনুষ্ঠানে রাশেদ প্রধান বলেন, ‘আমি আমার পিতা এবং নেতা শফিউল আলম প্রধানকে একই ভাবে চিনি। তিনি জাতীর জন্য অনেক অবদান রেখেছেন। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছি,।
আব্দুল হালিম বলেন, আট দল থেকে কুড়ি দলে তৈরি করার মূল অবদান হল শফিউল আলম প্রধান। শ্রদ্ধেয় ভাবে স্মরণ করেন শফিউল আলম প্রধান কে।বর্তমান সময়ের শফিউল আলম প্রধান কে খুবই প্রয়োজন ছিল। ২০১৪ সালে ভোট দিতে পারেন নাই ১৫৩ টি সিট বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগ সরকার দখল করে নেয়। এই সরকার নিশি রাত্রে সরকার বলে আখ্যায়িত করেন।
জামাত ইসলাম মনে করে সকল দলকে গণতন্ত্র ফিরে আনার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। দেশে বাক স্বাধীনতা নেই। সারা দেশে জামাত ইসলামের সকল অফিস বন্ধ এই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন কখনোই সম্ভব না।
সভাপতির বক্তব্যর মধ্যেদিয়ে বক্তব্য শেষ হয়।
সভাপতি বলেন, দেশের পরিস্থিতি শফিউল আলম প্রধান কে স্মরণ করে।ফোন ধর্ষণ গুম অর্থপাচার দমনে আজ শফিউল আলম প্রধান এর বিকল্প নেই। তিনি বেঁচে থাকলে আজকে অবশ্যই এর প্রতিবাদ করতেন। তিনি ৩৭ বার কারাবন্দি হয়েছেন। জালিম সরকারের পতন হবে ইনশাল্লাহ। দেশের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।হাজার ১৯৭১ সালে রাজাকার বাহিনী এর চেয়ে ভয়ঙ্কর থাকলেও তারা আমাদের দেশ থেকে চলে যেতে বাধ্য হয়েছিল। তাহলে আমরা কেন পারব না এই জালিম সরকারের পতন করতে। শফিউল আলম প্রধানের আত্মা তখনই শান্তি পাবে যখন অপরাজনীতি গুম, ধর্ষণ, অর্থপাচার বন্ধ হবে। আমি আমার পিতা শফিউল আলমের প্রধানের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।’
শফিউল আলম প্রধান হলেন একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তিনি জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান ও ২০ দলীয় জোটের অন্যতম নেতা ছিলেন।
শফিউল আলম প্রধান ১৯৪৯ সালে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার টকরাভাষা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতা মৌলভী গমির উদ্দিন প্রধান পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের স্পিকার ছিলেন। তিনি বোরহান উদ্দিন কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমাজ বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশুনা করেছেন কিন্তু সম্পন্ন করতে পারেন নি।
শফিউল আলম প্রধান ১৯৭১ সালের ২৩ শে মার্চ দিনাজপুরে প্রথম স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করেন। ১৯৭৩ থেকে ৭৪ পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭৪ সালের ৩০ মার্চ তিনি নিজ দলীয় ৬৪ জন দুর্নীতিবাজ মন্ত্রীর তালিকা তৈরী করেন। ১৯৭৪ সালের ৪ এপ্রিল ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসিন হলের সাত হত্যা মামলায় তাকে প্রধান আসামী করা হয়। যদিও তার সর্মথকেরা এটিকে তৎকালীন সরকারের ষড়যন্ত্র বলে দাবি করে। বিচারে তার মৃত্যুদণ্ড হয়। ১৯৭৫ সালে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এলে ১৯৭৮ সালে তিনি মুক্তি পান। ১৯৮০ সালের ৬ এপ্রিল জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা গঠন করেন। ২০০৮ সাধারণ নির্বাচনে প্রধান চারদলীয় জোটের প্রার্থী হয়ে দিনাজপুর সদর আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
প্রধানের স্ত্রীর নাম রেহানা প্রধান, যিনি পেশায় একজন অধ্যাপিকা এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহ-সভাপতি। তাদের এক মেয়ে (ব্যারিস্টার তাহমিয়া প্রধান) এক ছেলে (ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধানক) রয়েছে।
শফিউল আলম প্রধান ২০১৭ সালের ২১শে মে ঢাকার আসাদ গেটের বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সার, হৃদরোগ সহ নানা রোগে ভুগছিলেন এবং কয়েকবার হৃদরোগে আক্রান্ত হন।তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ
























