ঢাকা রাত ১০:০৪, শুক্রবার, ১২ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

দর্শনার্থীতে মুখর নির্মাণাধীন রেললাইন

দক্ষিণ চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত নির্মিত হচ্ছে ১০০কিলোমিটার নতুন রেলপথ। রেললাইনের কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। কাজ যতই সমাপ্তির দিকে যাচ্ছে, ততই দৃশ্যমান হচ্ছে রেললাইনের অবয়ব, বৃদ্ধি পাচ্ছে এই জনপদের সৌন্দর্য, নজর কাড়ছে স্থানীয়দের।
সাতকানিয়া উপজেলার কেরানীহাটের উত্তর পার্শে নির্মাণাধীন নতুন রেললাইনে প্রতিদিন দর্শনার্থীদের ভীড় লক্ষ করা যাচ্ছে।

মানুষ মাত্রই বিনোদন প্রেমী। তবে হাতের নাগালে সাতকানিয়ায় কোনো পার্ক বা বিনোদন স্পট নেই বললেই চলে।

ঈদ-উল-আজহার ছুটি থাকায় বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। উপজেলার ঢেমশা, কেঁওচিয়া, নলুয়া, সাতকানিয়া, ছদাহা সহ দূর-দূরান্ত থেকে পড়ন্ত বিকেলে নির্মাণাধীন রেললাইনে সময় কাটাবার জন্যে ছুটে আসেন শত শত দর্শনার্থী। পরিবার-পরিজন নিয়ে রেললাইনের স্থাপনা দেখতে প্রতিদিন ভীড় করছে স্থানীয় লোকজন সহ আশপাশের বিভিন্ন জায়গার মানুষ।

রেলালাইন, এতে ট্রেন চলবে , ট্রেনের সেই ঝকঝক ঝকাঝক শব্দে ছুটে চলা, রেলের বগি সবকিছুই দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া বাসীর জন্য নতুন বিষয়। গ্রামীণ জনপদের মধ্য দিয়ে সমান্তরালে বয়ে যাচ্ছে রেল লাইন। বহুদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হতে চলেছে তাই স্থানীয় জনমানুষের মনে চরম উৎসাহ-উদ্দীপনা কাজ করছে।

যারা মূলত চট্টগ্রামে-ঢাকা যাতায়াত করে থাকেন, তারাই মূলত রেললাইন ও রেলগাড়ি ইত্যাদি দেখে থাকেন। এই অঞ্চলের মানুষের ট্রেনে চড়ার অভিজ্ঞতা খুবই কম।
একদিন এই পথ দিয়ে ট্রেন চলবে, মেয়ে-শিশু ও আবাল-বৃদ্ধ সবাই একপলকে চেয়ে থাকবে সেই দৃশ্য সে সময় বেশি দূরে নয়।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে যাতায়াতের জন্য খুবই সহজ হবে এবং দেশি-বিদেশি অধিক সংখ্যক পর্যটক কক্সবাজারে আগমন করবে। একই সাথে এই রেল লাইনটি আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ফলে এই অঞ্চলের মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে।

এই অঞ্চলের মানুষের যাতায়াত সুবিধা হবে। নিজ এলাকা থেকে ট্রেনে চড়ে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও ঢাকা শহরে যাওয়ার স্বপ্ন পূরণ হবে।

২০১৮ সালের জুলাইয়ে পুরোদমে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। করোনা কালীন নির্মাণ কাজে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটায় প্রকল্পের মেয়াদ আরো ১বছর বাড়ানো হয়।

২০২৩ সালের জুন মাসের দিকে এই নতুন রেলপথ চালু হবার কথা রয়েছে। পরিকল্পনা অনুসারে, পর্যটন নগরী কক্সবাজার আগামী বছরই রেল নেটওয়ার্কের আওতায় চলে আসবে।

একদিকে চার লাইনের মহাসড়ক, অন্যদিকে আধুনিক রেললাইন নির্মাণ। বর্তমান সরকারের এই মহা কর্মযজ্ঞ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

এ বিভাগের আরও সংবাদ