০২:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

লুন্ঠনকৃত স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ উদ্ধারে ৪ ডাকাত গ্রেফতার

  • মাসুদ রানা:
  • প্রকাশিত : ০৯:৪২:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ জুলাই ২০২২
  • 88

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগের মিরপুর জোনাল টিম বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে দারুস সালাম থানা এলাকায় স্বর্ণ ডাকাতির ঘটনায় জড়িত ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে।
গত ২০ জুলাই ২০২২ খ্রিঃ তারিখ ঢাকার সদরঘাট ও মেরাদিয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে উক্ত আসামীদের গ্রেফতার করা হয়।

ঢাকার কোতয়ালী থানাধীন ভিকটিম টিটু প্রধানীয়া ঢাকার তাঁতী বাজারস্থ ধানসিড়ি চেইন এবং বল হাউজ নামক স্বর্ণের দোকানের একজন কর্মচারী। সে স্বর্ণের দোকানে তৈরিকৃত বিভিন্ন গহনা দেশের বিভিন্ন জুয়েলারি দোকানে ডেলিভারি দিয়ে থাকে।গত ১৭ জুলাই ২০২২খ্রিঃ তারিখের, সকাল আনুমানিক ০৬ ঘটিকার সময় ভিকটিম তাঁতী বাজারস্থ ধানসিড়ি চেইন এন্ড বল হাউজ নামক স্বর্ণের দোকান হতে তৈরিকৃত বিভিন্ন গহনা নিয়ে টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর ও সখিপুর থানা এলাকার বিভিন্ন জুয়েলারি দোকানে পৌঁছে দেওয়ার জন্য মোটর সাইকেল যোগে রওনা হন। মোটর সাইকেলে করে গাবতলী বাস টার্মিনালে পৌঁছে তিনি টাঙ্গাইলের বাসের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন।

এসময় অজ্ঞাতনামা একজন ব্যক্তি ভিকটিমের কাছে এসে নিজেকে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে ভিকটিমের নাম ঠিকানা ও পেশা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। তখন ভিকটিম নাম ঠিকানা বলার পরে আসামী ভিকটিমের ব্যাগের মধ্যে কী আছে জানতে চায়। অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি নিজেকে ডিবি পুলিশ পরিচয় দেওয়ার কারণে ভিকটিম আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলে, ব্যাগের মধ্যে ডিএমপি ঢাকার কোতয়ালী থানাধীন তাঁতী বাজারস্থ ধানসিড়ি চেইন এন্ড বল হাউজ নামক স্বর্ণের দোকানের সর্বমোট-৩৮ ভরি ১৪ আনা স্বর্ণের তৈরি বল চেইন, চেইন জুমকা, বল জুমকা, লকেট, আংটি, রিস্টলেট আছে।
বিশেষ কায়দায় মোড়ানো ০২টি প্যাকেটে করে প্যাকেট গুলো খাকি রংয়ের একটি স্কুল ব্যাগের মধ্যে ভরে তিনি নিয়ে যাচ্ছিলেন। কিছুক্ষণ পর আরও অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন লোক এসে যোগ দেয় এবং তারা ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে জোরপূর্বক ভিকটিমের কাছে থাকা স্বর্ণের ব্যাগ, যাহার মধ্যে সর্বমোট ৩৮ ভরি ১৪ আনা, স্বর্ণের গহনা, স্বর্ণের ভাউচার,দোকানের ট্রেড লাইসেন্স, টিন সার্টিফিকেট ও তার ব্যবহৃত টেকনো টাচ মোবাইল ফোন, যাহার ব্যবহৃত সিম নং-০১৬১৫২১২৬৫৩, মূল্য আনুমানিক-৮,৮০০/-টাকা ছিনিয়ে নেয়।

অতপরঃ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা ভিকটিমকে থানায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে তাদের ব্যবহৃত একটি মোটর সাইকেলের (ঢাকা মেট্রো-ল-৫৬-৬৪৩৮) মাঝখানে বসিয়ে গাবতলী বেড়ীবাঁধ এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে ভিকটিমকে কিছুক্ষণ আটকে রাখার পর একটি সিএনজিতে উঠিয়ে বিজয় সরণি মোড়ে ট্রাফিক সিগনালে সিএনজিটি থামলে ভিকটিমকে সিএনজিতে রেখে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা দ্রুত সিএনজি হতে নেমে পালিয়ে যায়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন,মোঃ সোহেল আহম্মেদ পল্লব (৪৮), মোঃ পলাশ শেখ (৩৪)মোঃ মাসুদ রানা (৪৬) ও রবিন হালদার পরেশ (৫০)। গ্রেফতারকৃতদের হেফাজত হতে লুন্ঠনকৃত স্বর্ণালঙ্কারসহ বিক্রয়লব্ধ ৫,০০,০০০ (পাঁচ লক্ষ) টাকা ও আনুমানিক ২০ (বিশ) ভরি স্বর্ণের গহনা উদ্ধার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়,গ্রেফতারকৃতরা সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সদস্য। আসামীরা পরস্পর যোগসাজসে ভিকটিমের পথরোধ করে জোরপূর্বক সর্বমোট ৩৮ ভরি ১৪ আনা স্বর্ণের গহনা, স্বর্ণের ভাউচার, দোকানের ট্রেড লাইসেন্স, টিন সার্টিফিকেট ও ভিকটিমের ব্যবহৃত টেকনো টাচ মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়েছিল বলে স্বীকার করেছে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে দারুস সালাম থানায় ১ টি মামলা রুজু হয়েছে।

ডিএমপির গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মানস কুমার পোদ্দার, পিপিএম (বার) এর সার্বিক তত্তাবধানে মিরপুর জোনাল টিমের টিম লিডার অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ সাইফুল ইসলাম এর নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের চ্যালেঞ্জে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন

লুন্ঠনকৃত স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ উদ্ধারে ৪ ডাকাত গ্রেফতার

প্রকাশিত : ০৯:৪২:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ জুলাই ২০২২

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগের মিরপুর জোনাল টিম বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে দারুস সালাম থানা এলাকায় স্বর্ণ ডাকাতির ঘটনায় জড়িত ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে।
গত ২০ জুলাই ২০২২ খ্রিঃ তারিখ ঢাকার সদরঘাট ও মেরাদিয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে উক্ত আসামীদের গ্রেফতার করা হয়।

ঢাকার কোতয়ালী থানাধীন ভিকটিম টিটু প্রধানীয়া ঢাকার তাঁতী বাজারস্থ ধানসিড়ি চেইন এবং বল হাউজ নামক স্বর্ণের দোকানের একজন কর্মচারী। সে স্বর্ণের দোকানে তৈরিকৃত বিভিন্ন গহনা দেশের বিভিন্ন জুয়েলারি দোকানে ডেলিভারি দিয়ে থাকে।গত ১৭ জুলাই ২০২২খ্রিঃ তারিখের, সকাল আনুমানিক ০৬ ঘটিকার সময় ভিকটিম তাঁতী বাজারস্থ ধানসিড়ি চেইন এন্ড বল হাউজ নামক স্বর্ণের দোকান হতে তৈরিকৃত বিভিন্ন গহনা নিয়ে টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর ও সখিপুর থানা এলাকার বিভিন্ন জুয়েলারি দোকানে পৌঁছে দেওয়ার জন্য মোটর সাইকেল যোগে রওনা হন। মোটর সাইকেলে করে গাবতলী বাস টার্মিনালে পৌঁছে তিনি টাঙ্গাইলের বাসের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন।

এসময় অজ্ঞাতনামা একজন ব্যক্তি ভিকটিমের কাছে এসে নিজেকে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে ভিকটিমের নাম ঠিকানা ও পেশা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। তখন ভিকটিম নাম ঠিকানা বলার পরে আসামী ভিকটিমের ব্যাগের মধ্যে কী আছে জানতে চায়। অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি নিজেকে ডিবি পুলিশ পরিচয় দেওয়ার কারণে ভিকটিম আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলে, ব্যাগের মধ্যে ডিএমপি ঢাকার কোতয়ালী থানাধীন তাঁতী বাজারস্থ ধানসিড়ি চেইন এন্ড বল হাউজ নামক স্বর্ণের দোকানের সর্বমোট-৩৮ ভরি ১৪ আনা স্বর্ণের তৈরি বল চেইন, চেইন জুমকা, বল জুমকা, লকেট, আংটি, রিস্টলেট আছে।
বিশেষ কায়দায় মোড়ানো ০২টি প্যাকেটে করে প্যাকেট গুলো খাকি রংয়ের একটি স্কুল ব্যাগের মধ্যে ভরে তিনি নিয়ে যাচ্ছিলেন। কিছুক্ষণ পর আরও অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন লোক এসে যোগ দেয় এবং তারা ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে জোরপূর্বক ভিকটিমের কাছে থাকা স্বর্ণের ব্যাগ, যাহার মধ্যে সর্বমোট ৩৮ ভরি ১৪ আনা, স্বর্ণের গহনা, স্বর্ণের ভাউচার,দোকানের ট্রেড লাইসেন্স, টিন সার্টিফিকেট ও তার ব্যবহৃত টেকনো টাচ মোবাইল ফোন, যাহার ব্যবহৃত সিম নং-০১৬১৫২১২৬৫৩, মূল্য আনুমানিক-৮,৮০০/-টাকা ছিনিয়ে নেয়।

অতপরঃ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা ভিকটিমকে থানায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে তাদের ব্যবহৃত একটি মোটর সাইকেলের (ঢাকা মেট্রো-ল-৫৬-৬৪৩৮) মাঝখানে বসিয়ে গাবতলী বেড়ীবাঁধ এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে ভিকটিমকে কিছুক্ষণ আটকে রাখার পর একটি সিএনজিতে উঠিয়ে বিজয় সরণি মোড়ে ট্রাফিক সিগনালে সিএনজিটি থামলে ভিকটিমকে সিএনজিতে রেখে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা দ্রুত সিএনজি হতে নেমে পালিয়ে যায়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন,মোঃ সোহেল আহম্মেদ পল্লব (৪৮), মোঃ পলাশ শেখ (৩৪)মোঃ মাসুদ রানা (৪৬) ও রবিন হালদার পরেশ (৫০)। গ্রেফতারকৃতদের হেফাজত হতে লুন্ঠনকৃত স্বর্ণালঙ্কারসহ বিক্রয়লব্ধ ৫,০০,০০০ (পাঁচ লক্ষ) টাকা ও আনুমানিক ২০ (বিশ) ভরি স্বর্ণের গহনা উদ্ধার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়,গ্রেফতারকৃতরা সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সদস্য। আসামীরা পরস্পর যোগসাজসে ভিকটিমের পথরোধ করে জোরপূর্বক সর্বমোট ৩৮ ভরি ১৪ আনা স্বর্ণের গহনা, স্বর্ণের ভাউচার, দোকানের ট্রেড লাইসেন্স, টিন সার্টিফিকেট ও ভিকটিমের ব্যবহৃত টেকনো টাচ মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়েছিল বলে স্বীকার করেছে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে দারুস সালাম থানায় ১ টি মামলা রুজু হয়েছে।

ডিএমপির গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মানস কুমার পোদ্দার, পিপিএম (বার) এর সার্বিক তত্তাবধানে মিরপুর জোনাল টিমের টিম লিডার অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ সাইফুল ইসলাম এর নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ