কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুরে সাংবাদিকদের উপর হামলাকারী কুখ্যাত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী কুদ্দুস এবং তার সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনীর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হয়েছে রকি (২০) নামে এক যুবক। তিনি হাটশ হরিপুর (নদীর কূল) গ্রামের মিজা মন্ডলের ছেলে এবং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মিলন মন্ডলের ভাতিজা। রাতে তাকে বাড়ী থেকে ডেকে নিয়ে তার উপর সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, বোয়ালদহের জাকিরের ফোন থেকে রকিকে ডেকে নিয়ে সন্ত্রাসী কুদ্দুস (৪৭) এর সরাসরি সশব্দ হুকুমে তার বাহিনীর সশস্ত্র সদস্য শালদহের হেদায়েতের ছেলে সুমন (৩০), বোয়ালদহের জামু মিস্ত্রির ছেলে জাকির (৩০), শালদহের সাদ আলীর ছেলে রাজু (৩০) ও আরও ৫/৬ জন মিলে রকিকে ধারালো ছুরি হাতে দিয়ে মাথায় উপর্যুপুরি আঘাত করে। এসময় তাঁর কাছে থাকা নগদ টাকা, দামী ব্র্রান্ডের হাত ঘড়ি ও ব্যবহৃত স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেয়।
স্থানীয়রা রকির আত্মচিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে দৌড়ে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। রকির মাথা মারাত্মকভাবে জখম করেছে। রক্তপাত ঠেকাতে মাথায় ১০ টি সেলাই দেওয়া হয়েছে।
এবিষয়ে রকির ভাই ফারুক মন্ডল বাদি হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন। থানা এজাহারটি আমলে নিয়ে বুধবার (২৪ আগস্ট ২০২২) ১৪৩, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩০৭, ৩৭৯, ৫০৬ (২) ও ১১৪ ধারায় মামলা রুজু করে। মামলা নং-৪৯।
এছাড়াও কুখ্যাত সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ী কুদ্দুস ও তার ক্যাডার বাহিনী গত ৫ আগস্ট ২০২২ শালদহে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় কুষ্টিয়ার সনামধন্য কুষ্টিয়ার খবর পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ও মানবাধিকার কর্মী আবু মনি সাকলায়েন এবং সাপ্তাহিক পথিকৃৎ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, দৈনিক সত্যখবর পত্রিকার সহ-সম্পাদক ও বাংলাদেশ মানবাধিকার সমিতি কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহারিয়া ইমন রুবেলের সশস্ত্র হামলা চালায়। এসময় তাঁদের ব্যবহৃত ক্যামেরা এবং টাকা ছিনিয়ে নেয়। স্থানীয়দের সহায়তায় সেদিন সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীদ্বয় কোনমতে প্রাণে বেঁচে গেলেও মারাত্মকভাবে আহত হয় ও কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। এরপর ওইদিন রাতে সন্ত্রাসী কুদ্দুস দেশি-বিদেশি ধারালো ও আগ্নেয়াস্ত্র সুসজ্জিত বাহিনী নিয়ে এসকে মিডিয়া লিমিটেডের এর চেয়ারম্যান ও এশিয়ান টিভির কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি হাসিবুর রহমান রিজুকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর বাড়ির আশেপাশে ও হরিপুর বাজারে দোকানপাট বন্ধ করে মহড়া দেয়। সময় কুদ্দুস ও তার ক্যাডার বাহিনী রিজু ও তার রত্মাগর্ভা মা’কে উদ্দেশ্য করে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। যা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকাসহ বিভিন্ন প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচারিত হয়। এবিষয়ে সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী আবু মনি সাকলায়েন বাদি হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় গত ৬ আগস্ট একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-৯।
আহত রকি বলেন, আমি বাসায় ছিলাম হঠাৎ সুমন আমাকে ফোন করে হরিপুর বাজারে আসতে বলে। আমি বাজারে গেলে সন্ত্রাসী কুদ্দুস, সুমন, জাকির সহ আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে আমার মাথায় মারাত্মক জখম হয়। রক্তপাত বন্ধে ১০টা সেলাই দেওয়া হয়েছে। এই বাহিনী নদীতে ডাকাতি, ছিনতাই, ড্রেজারের তেল চুরি, মাদক ব্যবসা সহ নানা অপকর্মের সাথে জড়িত।
একাধিক সূত্রে জানা যায়, সাংবাদিকের করা মামলায় আদালত থেকে জামিন পেয়ে কুখ্যাত সন্ত্রাসী কুদ্দুস হয়ে উঠেছে আরও বহুগুণ বেপরোয়া। আরও প্রচুর ধারালো ও দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রে সুসজ্জিত করেছে তার সংগ্রহশালা। যা তুলে দিয়েছে তার নিয়ন্ত্রিত বেপরোয়া কিশোর-যুবকদের হাতে হাতে। এছাড়াও বালির নৌকা থেকে চাঁদাবাজি, চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি, নারী উত্যক্তকরণ, গাজা, ফেনসিডিল, ইয়াবা, দেশি-বিদেশি মদসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের অবৈধ ব্যবসাসহ বিভিন্ন ভয়াবহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
উপরোক্ত বিষয়গুলো নিয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ দেলোয়ার হোসেন খাঁনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, চুরি ছিনতাই, ডাকাতির কোন অভিযোগ পায়নি। সে সন্ধ্যা হলেই মদ খেয়ে মারামারি করে। মঙ্গলবার ঘটনায় মামলা হয়েছেছে। এখন পর্যন্ত আটক হয়নি।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ






















