বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। আর এই পূজাকে ঘিরে চলছে প্রতিমা তৈরির ধুম। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলায় প্রতিমা তৈরিতে দিন-রাত মণ্ডপগুলোতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা।
সরাইল উপজেলায় মণ্ডপ সংখ্যা ৪৮টি। যতদিন ঘনিয়ে আসছে ততই মানুষের মাঝে বাড়ছে পূজার প্রস্তুতি। তৈরি হচ্ছে গেট, মণ্ডপ আর পরিষ্কার পরিচ্ছন্নের কাজ। মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা তৈরি কাজে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরাও। এদিকে পূজার আমেজ বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে বেড়েছে কেনাকাটা। উপজেলার বিভিন্ন শপিংমলগুলোতে ভিড় বেড়েছে। পূজা উদযাপনের অপেক্ষায় আছে হিন্দু ধর্মালম্বীরা।
সরাইল সদরের উচালিয়াপাড়া সার্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদ এর প্রতিমা তৈরির কারিগর মন্টু পাল বলেন, প্রতিমা তৈরি করা অনেক কষ্টের দুই একদিনের মধ্যেই তৈরি করা দুর্গার প্রতিমাগুলোর রং ও সাজ-সজ্জার কাজ শেষ হবে। আর প্রতিমা তৈরির মজুরি প্রতিমা সাইজ ও ধরণ অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়। প্রতিমার আকার ও শৈল্পিক গঠন অনুযায়ী প্রতিমা শিল্পীরা ১০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন।
সরাইল সদরের উচালিয়াপাড়া সার্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদ এর সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক নারায়ন চক্রবর্ত্তী জানান আমাদের পূজা আয়োজন এবছর ১৩ তম বর্ষে পদার্পণ করল,গত দুবছর করোনা মহামারির জন্য বিভিন্ন বিধিনেষেধ থাকার পর এবার বিদ্যুৎ সাশ্রয় নির্দেশনাকে মেনেই পূজা উদযাপনের আয়োজন করছি,,আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে, সকলের সহযোগীতায় এবছরও আমারা একটা সুন্দর পূজা আয়োজন করতে যাচ্ছি।
সরাইল উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে জানান, এ বছর উপজেলায় ৪৮টি মণ্ডপে আয়োজন করা হচ্ছে শারদীয় এই দুর্গোৎসব।উপজেলার ইউনিয়ন ভিত্তিক দুর্গা পূজা মন্ডপের সংখ্যা হচ্ছে উপজেলা সদর ইউনিয়ন ৫টি, কালিকচ্ছ ইউনিয়ন ৭টি, অরুয়াইল ইউনিয়ন ৪টি,শাহবাজপুর ইউনিয়ন ৭টি,নোয়াগাও ইউনিয়ন ৮টি,শাহজাদাপুর ইউনিয়ন ১২টি,পানিশ্বর ইউনিয়ন ২টি, চুন্টা ইউনিয়ন ৩টি।
প্রতিমা শিল্পীদের নিপুণ আঁচড়ে তৈরি হচ্ছে প্রতিমা। মাটির কাজ শেষ করার পর রঙ-তুলির আঁচড়ে বর্ণিলভাবে প্রতিমার রূপ দেওয়া হচ্ছে। নিজের সন্তানের মতো অতি ভালোবাসায় তৈরি করা হচ্ছে দুর্গা, স্বরস্বতী, লক্ষ্মী, কার্তিক, গণেশ, অসুর ও শিবের মূর্তি। প্রতিমা গড়া শেষ হলে রঙ তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলা হবে অবয়ব। ফুটিয়ে তোলা হবে নাক-চোখ-মুখ। হৃদয়ের ভালোবাসায় চলছে প্রতিমা তৈরির এ কাজ।
তারা আরো জানান,আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর বোধন শেষে ১ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজা এবং আগামী ৫ অক্টোবর শুভ বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গোৎসব সম্পন্ন করতে প্রশাসন সব রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে সরাইল উপজেলার পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে জানা গেছে।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ






















