অবশেষে স্বপ্ন সত্যি হলো সুনামগঞ্জের ২৫ লাক্ষ মানুষের। রানীগঞ্জের কুশিয়ারা সেতু উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে
সুনামগঞ্জের দক্ষিণা দুয়ার খুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর এতেই ঢাকার সাথে সুনামগঞ্জের দূরুত্ব কমল ২ ঘন্টার। সেই সাথে হাওরের কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য ধান, মাছ, সবজি সহজেই পৌঁছে যাবে রাজধানী ঢাকায়। আর এতেই হাওরের অর্থনেতি আরোও চাঙ্গা হবে বলে প্রত্যাশা করছেন হাওর অঞ্চলের মানুষ।
সিলেট বিভাগের সবচেয়ে বড় এই সেতু জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের কুশিয়ারা নদীর ওপর ১৫৫ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত হয়েছে। সকাল ১০টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সেতুর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধন উপলক্ষে রানীগঞ্জে সাজ সাজ বর বিরাজ করছে। বর্ণিল সাজে সজ্জিত করা হয়েছে রানীগঞ্জ সেতু।
উদ্বোধনের পর নবনির্মিত দৃষ্টিনন্দন সেতু দেখতে তরুণ তরুণী—শিশু—কিশোরসহ সব বয়সী মানুষের ঢল নেমেছে।
সেতুর আড়াই কিলোমিটার জুড়ে মানুষজন হেঁটে হেঁটে দেখছেন। । লোকজন মুঠোফোনে ধারণ করছেন ভিডিও, ছবি। অনেকে সেলফি তুলছে, কেউবা লাইভ করছে।
এদিকে এই সেতুটি উদ্বোধন হওয়ার মধ্য দীর্ঘ ভোগান্তি সমাপ্ত হলো সুনামগঞ্জবাসীর। সেতুটি দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু হলে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সুনামগঞ্জবাসীর দুরুত্ব কমে যাবে ৫৫ কিলোমিটার। রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামে পৌঁছাতে দুই ঘণ্টা সময় কম লাগবে। সেই সাথে যেমন কমবে ভোগান্তি, তেমনি বাচঁবে সময়। এমনকি হাওরের উৎপাদিত পণ্য ধান, মাছ, সবজি সহজেই পৌঁছে যাবে রাজধানী ঢাকায়। তাছাড়া আশপাশে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠার সম্ভাবনা রয়েছে। যা এলাকার বেকারত্ব নিরসনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয়রা জানান, স্বপ্ন দেখতাম, একদিন এই কুশিয়ারা নদীর উপর সেতু নির্মাণ হবে। আমরা সহজেই সেতু পার হয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় যেতে পারব। আজ সেই স্বপ্ন সত্যি হলো। শুধু তাই নয়, ফেরি পারাপার হতে আমাদের ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হত, সেই অপেক্ষার প্রহরও শেষ হলো আজ।
সুনামগঞ্জ সড়ক বিভাগের দায়িত্বশীলরা জানান, পাগলা-জগন্নাথপুর-রানীগঞ্জ-আউশকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কের রানীগঞ্জ ইউনিয়নের কুশিয়ারা নদীর ওপর রানীগঞ্জ সেতুর কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালের ১১ আগস্ট। ১৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সেতু ও আড়াই কিলোমিটার সংযোগ সড়ক কাজ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে ২৪ ব্যুরো গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড ২৪ বি এবং এমএম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড এমবিইএল। চুক্তি অনুযায়ী ৭০২ দশমিক ৩২ মিটার দীর্ঘ এবং ১০ দশমিক ২৫ মিটার প্রস্থ সেতুটির নির্মাণ কাজ ২০১৯ সালের ১০ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা ৬ বছরে এসে শেষ হয়।
সেই সাথে ডাবর থেকে জগন্নাথপুর অংশে পুরাতন ৮টি সেতু ভেঙে ১১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন ৮টি সেতু নির্মাণ করা হয়। সেই সাথে ছাতক উপজেলার আরো ৮ টি সেতুর উদ্বোধন করা হয়। পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, স্বপ্নের সেতুটি আজ উদ্বোধন হয়েছে। সত্যি নিজেকে ভাগ্যবান মনে হচ্ছে। ধন্যবাদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বিজনেস বাংলাদেশ / হাবিব
























