১২:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
চলতি মাসেই তিন মাসের বর্ধিত বেতনের বকেয়া পরিশোধ

চট্টগ্রাম বন্দরে ৯ম পে-স্কেলের বেতন-ভাতা নির্ধারণ সম্পন্ন, নভেম্বর থেকে বাড়তি বেতন পাচ্ছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ (৯ম পে-স্কেল) অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর নতুন বেতন-ভাতা নির্ধারণ এবং পে-ফিক্সেশন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। সম্পূর্ণ অনলাইন, ডিজিটাল স্বাক্ষরযুক্ত ও পেপারলেস পদ্ধতিতে এ কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর ফলে গত ১ নভেম্বর থেকে নতুন বেতনস্কেল অনুযায়ী বর্ধিত বেতন পাচ্ছেন বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একই সঙ্গে পেনশনভোগীরাও নতুন স্কেলে বর্ধিত পেনশন সুবিধা পেতে শুরু করেছেন।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নির্ধারণ থেকে শুরু করে পে-ফিক্সেশনের পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা হয়েছে। এ কার্যক্রমের আওতায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগীদের প্রাপ্য সুবিধাও নতুন স্কেল অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে চলতি নভেম্বর মাসেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা তিন মাসের বর্ধিত বেতনের বকেয়া অর্থ পাবেন। ফলে নতুন বেতনস্কেল কার্যকরের পাশাপাশি বকেয়া অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধাও নিশ্চিত হতে যাচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।

বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত, সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা ও দৃঢ় নেতৃত্বে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এত বড় প্রশাসনিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও দপ্তরগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে পুরো প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে পে-ফিক্সেশন কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় প্রচলিত কাগজপত্রনির্ভর প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা ও দাপ্তরিক জটিলতা অনেকাংশে কমেছে। পাশাপাশি ডিজিটাল স্বাক্ষর ব্যবহারের ফলে নথি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, নির্ভুলতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণ ও প্রশাসনিক অনুমোদনের প্রক্রিয়াও আরও গতিশীল হয়েছে।

এ সাফল্য অর্জনে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, আন্তরিকতা ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত অংশগ্রহণের ফলেই বৃহৎ এ প্রশাসনিক কার্যক্রম কোনো ধরনের কাগজপত্রনির্ভর জটিলতা ছাড়াই অনলাইনে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর হিসেবে জাতীয় অর্থনীতি ও বৈদেশিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এ প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নতুন বেতনস্কেলের পে-ফিক্সেশন কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়াকে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের এ উদ্যোগ আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, কর্মকর্তা-কর্মচারীবান্ধব ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ভবিষ্যতে বন্দরের অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রমেও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার সম্প্রসারণ হলে সেবার মান, কর্মদক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

নবনির্বাচিত দুই এমপির শপথ দুপুরে

চলতি মাসেই তিন মাসের বর্ধিত বেতনের বকেয়া পরিশোধ

চট্টগ্রাম বন্দরে ৯ম পে-স্কেলের বেতন-ভাতা নির্ধারণ সম্পন্ন, নভেম্বর থেকে বাড়তি বেতন পাচ্ছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

প্রকাশিত : ১১:০৮:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ (৯ম পে-স্কেল) অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর নতুন বেতন-ভাতা নির্ধারণ এবং পে-ফিক্সেশন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। সম্পূর্ণ অনলাইন, ডিজিটাল স্বাক্ষরযুক্ত ও পেপারলেস পদ্ধতিতে এ কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর ফলে গত ১ নভেম্বর থেকে নতুন বেতনস্কেল অনুযায়ী বর্ধিত বেতন পাচ্ছেন বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একই সঙ্গে পেনশনভোগীরাও নতুন স্কেলে বর্ধিত পেনশন সুবিধা পেতে শুরু করেছেন।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নির্ধারণ থেকে শুরু করে পে-ফিক্সেশনের পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা হয়েছে। এ কার্যক্রমের আওতায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগীদের প্রাপ্য সুবিধাও নতুন স্কেল অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে চলতি নভেম্বর মাসেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা তিন মাসের বর্ধিত বেতনের বকেয়া অর্থ পাবেন। ফলে নতুন বেতনস্কেল কার্যকরের পাশাপাশি বকেয়া অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধাও নিশ্চিত হতে যাচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।

বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত, সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা ও দৃঢ় নেতৃত্বে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এত বড় প্রশাসনিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও দপ্তরগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে পুরো প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে পে-ফিক্সেশন কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় প্রচলিত কাগজপত্রনির্ভর প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা ও দাপ্তরিক জটিলতা অনেকাংশে কমেছে। পাশাপাশি ডিজিটাল স্বাক্ষর ব্যবহারের ফলে নথি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, নির্ভুলতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণ ও প্রশাসনিক অনুমোদনের প্রক্রিয়াও আরও গতিশীল হয়েছে।

এ সাফল্য অর্জনে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, আন্তরিকতা ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত অংশগ্রহণের ফলেই বৃহৎ এ প্রশাসনিক কার্যক্রম কোনো ধরনের কাগজপত্রনির্ভর জটিলতা ছাড়াই অনলাইনে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর হিসেবে জাতীয় অর্থনীতি ও বৈদেশিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এ প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নতুন বেতনস্কেলের পে-ফিক্সেশন কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়াকে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের এ উদ্যোগ আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, কর্মকর্তা-কর্মচারীবান্ধব ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ভবিষ্যতে বন্দরের অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রমেও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার সম্প্রসারণ হলে সেবার মান, কর্মদক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

ডিএস./