মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে প্রায় ৪০ বছরের অধিক সময় ধরে ভিক্ষাবৃত্তি করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন আশি উর্ধ্ব বয়স্ক বৃদ্ধা জামেরুন বেগম। সে উপজেলার বলড়া ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চল দানিস্তপুর গ্রামের মৃত ছকেল দরানীর স্ত্রী। বয়সের ভাড়ে ন্যূয়ে পরায় এখন আর হাঁটতে পারে না। ছোট্ট একটা পিরিতে ভর করে অনেকটা হামগুড়ি দিয়েই গ্রামের বিভিন্ন বাড়ি ঘুরে ঘুরে ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
জানা যায়, প্রায় ২০ বছর আগে পদ্মার ভাঙনের কবলে পড়ে তার বসত বাড়ি বিলীন হয়ে যায়। ঘর বাড়ি হারিয়ে ওই সময় আশ্রয় নেন পাশের গ্রামের নয়ারহাট খোলায়। সেখান থেকে বাড়ি করেন সদর উপজেলার বরুন্ডি গ্রামে। প্রায় ১৬ বছর আগে মারা যান স্বামী ছকেল দরানী। ৪ সন্তানের জননী হলেও ২ সন্তান মারা যায় অনেক আগেই। বর্তমানে তার ১ ছেলে ও ১ মেয়ে। ছেলে শুকুর আলী পেশায় একজন দিনমজুর। দিন মজুরের কাজ করে স্ত্রী, সন্তান ও বৃদ্ধ মা সহ ৫ জনের সংসার চালানো তার পক্ষে কষ্টকর। ছেলের দৈন্যদশা দেখেই বৃদ্ধ বয়সেও গ্রামে গ্রামে ঘুরে ভিক্ষাবৃত্তি করছেন তিনি। জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্ম তারিখ ভুল হওয়ায় বয়স্ক ভাতার কোঠা থেকেও বঞ্চিত তিনি। এছাড়াও সরকারি কোনো সুযোগ সুবিধা মিলছে না তার ভাগ্যে। ৪ বছর আগে বরুন্ডি গ্রাম ছেড়ে দিয়ে বর্তমানে বাবার বাড়ির ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া দানিস্তপুর গ্রামে ৬শতাংশ জায়গার ওপর ঘর উঠিয়ে বসবাস করছেন।
সরেজমিনে গেলে একাধিক এলাকাবাসী জানান, প্রায় ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি ভিক্ষাবৃত্তি করছেন। ছেলে মেয়েরা ছোট থাকা অবস্থা থেকেই তিনি এ কাজ করছেন। এখন এক ছেলে দিন মজুরের কাজ করলেও তার স্ত্রী সন্তান নিয়ে সংসার চালাতে পারে না। বরং তারা আরও মায়ের ভিক্ষার টাকা পয়সায় ভাগ বসায়।
জামেরুনের বাড়িতে গেলে দেখা যায়, পরন্ত বিকেলে পাশের বাড়ির উঠানে বসে আছেন জামেরুন। বয়সের কারণে কানেও অনেকটাই কম শোনেন। তার কাছে গিয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি পিড়িতে ভর করে নিজের বাড়ির উঠানে এসে বসেন। তার ভিক্ষাবৃত্তির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, “এই ভিক্ষা কইরা খাওয়াইয়া আমার বুড়ারে কবরে পাঠাইছি। জমিজমা যা ছিল তা অনেক আগেই সে বিক্রি কইরা দিছে। বাকি যতটুকু ছিল তাও পদ্মায় নিয়া গেছে। ৪ বছর আগে মাটিতে পইরা যাইয়া কোমরে ব্যাথা পাওয়ায় অহন আর হাঁটবার পারি না। তাই এই পিরিতে ভর দিয়া য তদূর পারি গ্রামে গ্রামে ঘুইরা যা পাই, তাই খাই।”
ছেলের বৌ জমেলা বেগম জানান, “আমাগো সংসার চালাইতে কষ্ট হয় এটা সত্য। তারপরেও তারে আমরা এ কামে যাইতে না করি। কিন্তু আমাগো কথা সে শুনে না।”
এ ব্যাপারে বলড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোসলেম উদ্দিন খান কুন্নু জানান, “বিষয়টি আমি জানতাম না। আমি ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যকে বলে দিব, তার কাগজপত্র যেন দ্রুত সংগ্রহ করে। কাগজপত্র হাতে পেলেই যতদ্রুত সম্ভব সরকারি একটা ভাতার তালিকায় তার নাম দেয়ার জন্য চেষ্টা করব।”
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম জানান,“আমি বলড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের সাথে আলাপ করে সরকারি যে সকল ভাতার সুযোগ সুবিধা আছে, তার ভেতর থেকে একটা ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করব।”
বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব




















