কাগজ ও আনুসঙ্গিক জিনিসপত্র দিয়ে মা সালমা খাতুন একটি ফুলদানি তৈরি করেছিলেন। মায়ের সেই ফুলদানি দেখে ছেলে সাকিবের মনে জাগে বিশ্বকাপের রেপ্লিকা তৈরি করতে। এরপর মায়ের সাহায্যে ও অনুপ্রেরণায় দীর্ঘ এক বছরের প্রচেষ্টায় সাকিব বানিয়ে ফেলল ফুটবল বিশ্বকাপের হুবহু রেপ্লিকা। বিশ্বকাপের উন্মাদনা যখন চারিদিকে সেই সময়ে সাকিবের এমন কৃতিত্ব দেখে হতভাগ সবাই।
পুরো নাম সাকিবুল ইসলাম, ডাক নাম সাকিব। সে পাবনার সুজানগর পৌর এলাকার ভবানীপুর মহল্লার মো. তায়নুল ইসলামের ছোট ছেলে। বাবা নাজিরগঞ্জ ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। বাবা-মায়ের তিন সন্তানের সবার ছোট সাকিব সুজানগর পাইলট মডেল হাইস্কুলের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
সাকিবের এমন কৃতিত্বের কথা শুনে বিভিন্ন স্থান থেকে তার এই ট্রফি দেখতে মানুষ ছুটে আসছেন। প্রতিদিনই সাকিবের বাড়িতে ভিড় লেগে থাকে। উৎসুক জনতা রেপ্লিকা দেখে সাকিবের ভূয়সী প্রশংসা করছেন। আজ কাতারে শুরু হচ্ছে ফুটবল বিশ্বের ২২তম আসর। বিশ্বকাপের সূচনালগ্নে সাকিবের এমন কাণ্ড বাড়তি আনন্দ উপভোগ করছেন ফুটবল প্রেমিরা। সাকিব আর্জেন্টিনার সমর্থক হওয়ায় স্থানীয় আর্জেন্টিনার সমর্থকরা তাকে নিয়ে মাঝেমধ্যে শোভাযাত্রাও বের করছেন।
সাকিব জানান, ‘এক বছর আগে আমার মা একটি ফুলদানি তৈরি করে। তখন আমার সেটি দেখে ফুটবল বিশ্বকাপের রেপ্লিকা তৈরি করতে ইচ্ছে করে। মাকে বলা মাত্র মাও আমাকে বানাতে বলে, তখন আমি সেটি বানাতে কাজ শুরু করি। প্রথম দিকে একাধিকবার বানিয়ে সেটি পছন্দ মতো না হওয়ায় ভেঙে আবারও শুরু করি। এভাবে প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে এটি বানানোর জন্য চেষ্টা করছি। অবশেষে এটি বানিয়েই ফেললাম।’

তৈরির বর্ণনা দিয়ে আর্জেন্টিনার এই ভক্ত বলেন, ‘এটির মাথায় একটি ছোট ফুটবল আছে, নিচের দিকে আছে বাটি। মাঝে বিভিন্ন কাগজ ও আঠা দিয়ে তৈরি করেছি। পরে সেটিকে সোনালী রং দিয়ে বিশ্বকাপের রঙে রঙিন করেছি। কখনও যদি মেসি বাংলাদেশে আসে তাহলে সেটি মেসিকে দিয়ে দিতে চাই।’
সাকিবের মা সালমা খাতুনও অত্যন্ত খুশি সন্তানের এমন কাণ্ডে। তিনি বলেন, ‘আমার ফুলদানি তৈরি করা দেখে সে যে এমন একটি বিশ্বকাপের ট্রফির রেপ্লিকা তৈরি করেছে আমি ভাবতেই পারছি না। আমি অত্যন্ত খুশি। আমি দোয়া করি সে যেন আরও বড় কিছু করে।’
মহাখুশি সাকিবের বাবা তায়নুল ইসলামও। তিনি বলেন, ‘সাকিব ছোট বেলা থেকেই বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র তৈরি করে। তার এই রেপ্লিকা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন। আমারও ভালোই লাগছে। তার প্রতিভা দেখে আমিও মুগ্ধ। সরকার যদি তার এমন প্রতিভা নিয়ে কাজ করে বা সাহায্য করে তাহলে আমার মনে হয় সে আরও বড় কিছু করতে পারবে।’
সাকিবের এই কাজে সহযোগিতা করেছেন ভাই রাকিবুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘কোপা আমেরিকার পর থেকেই সে এটি তৈরি করতে চেষ্টা করে। কিন্তু অনেকবার ব্যর্থও হয়। এক পর্যায়ে আমিও তাকে সাহায্য করি। ইউটিউব-ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তাকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করি। ছোট ভাইয়ের এমন সাফল্য আমারও ভালো লাগছে।’
এবিষয়ে মন্তব্য জানতে সুজানগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. তরিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি বিষয়টি জানি না। আপনাদের কাছ থেকে শুনলাম। যেহেতু এটি আন্তর্জাতিক একটি বিষয়, সেহেতু কোনও আইনি বাধ্যবাধকতা আছে কি-না সেগুলো জেনে মন্তব্য করতে পারবো।’
বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব




















