ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা সদর ইউনিয়নের পূর্ব কুট্টাপাড়া গ্রামের বাকপ্রতিবন্ধী হাসেনা বেগম (৬৫)।
সোমবার (২৮ নভেম্বর) সকালে তার বাড়িতে গেলে দেখা যায়,টিনের ঝুপড়ি একটি ঘরে হাসেনা বেগম বসে আছে। তখন তাকে পাশে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে কিছুই বলতে পারছে না। সে শুধু মাথা নাড়িয়ে ও হাতের ইশারায় বুঝানোর চেষ্টা করে। মুখে বিল বিল করে কি যেন বলছে তাহা বুঝার উপায় নেই।
জানা গেছে, স্বামী মারা যাওয়ার পরে নিরুপায় হয়ে বসবাস করছেন স্বামীর দেওয়া ছোট একটি টিনের ঝুপড়ি ঘরে। তার নেই কোনো ছেলে মেয়ে সন্তান, চিকিৎসা করানো তো দূরের কথা, টাকার অভাবে ঠিকমতো তিনবেলা খেতেও পারেন না। এত কিছুর পরও কোনো জনপ্রিতিনিধির চোখে পড়েনি হাসেনা বেগমকে। এমনকি সরকার প্রতিবন্ধীদের জন্য শতভাগ ভাতার ব্যবস্থা চালু রাখলেও পূর্ব কুট্টাপাড়া গ্রামের এ নারীর ভাগ্যে জোটেনি সেই সুবিধাও।
হাসেনা বেগমের ভাতিজী লুৎফা বেগম বলেন, আমার চাচা চাচী দুজনেই কথা বলতে পারতো না, শুনতে পেতেও না। তাদের কোনো সন্তান নেই। ভাতার কার্ডের জন্য স্থানীয় আগের মেম্বারদের কাছে একাধিক বার যাওয়া হয়েছে। কোনো লাভ হয় নাই। হঠাৎ একদিন আমার চাচা সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। চাচা থাকতো আমরা দেখাশুনা করেছি। এখনো করছি।
তিনি আরও বলেন, শুনেছি সরকার প্রতিবন্ধীদের ভাতা দিচ্ছে, অসহায়দের ঘর বানিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু আমার চাচীর মতো অসহায়ের খোঁজ কেউ নেয় না। তিনি দায়িত্বশীলদের কাছে বাকপ্রতিবন্ধী চাচী হাসেনার নামে একটি ভাতার কার্ড করে দেওয়ার দাবি জানান।
বয়স্ক ও বাকপ্রতিবন্ধী হাসেনা বেগমের ভাতা বিষয়ে জানতে চাইলে উক্ত ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার মনিরুল ইসলাম শ্যামল বলেন, প্রতিবন্ধী ভাতা জন্য জের জেরটা তারা নিজেরাই করছে, হাসেনা বেগমের তালিকা আমি পায় নাই। শুধু কুলিশলাম ছেলের পেয়ে ছিলাম দিয়ে দিয়েছি।
এব্যাপারে সরাইল উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার জানান, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় প্রকৃত দুস্থ প্রতিবন্ধীর মাসিক ভাতা পাওয়া রাষ্ট্রীয় অধিকার। তবে হাসেনা বেগমের বিষয়ে আমাকে এর আগে কেউ জানাননি। বাকপ্রতিবন্ধী হাসেনা বেগমের বিষয়টি শোনার পর উপজেলা সমাজসেবা অফিসে আবেদন করতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন , মূলত এটা মেম্বার চেয়ারম্যানদেরা তালিকা দেয়। এখন অনলাইন হয়ে গেছে। নিদিষ্টি টাইমে আবেদন করতে হয়। টাইম দুমাস আগে চলে গেছে। সমস্যা নাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে পাঠিয়ে দিয়েন আমরা নিদিষ্ট সময়ে আবেদন করে বাকপ্রতিবন্ধী হাসেনাকে ভাতার কার্ড পাওয়া ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।




















