ঢাকা সকাল ১১:১৬, শুক্রবার, ২৭শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সরিষা ফুলের মৌ মৌ গন্ধে মুখরিত চারপাশ

এই শীতের শিশির ভেজা সকালে সরিষার সবুজ গাছের ফুলগুলো শীতের সোনাঝরা রোদে যেন ঝিকিমিকি করছে। এ যেন এক অপরুপ সৌন্দর্যের দৃশ্য। দেখে যেন মনে হচ্ছে প্রকৃতি কন্যা সেজেছে গায়ে হলুদ বরণ সেজে। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে দানাদার অর্থকরী তৈল জাতীয় শস্য সরিষা অনন্য ভূমিকা পালন করছে।

মাদারীপুরের শিবচরে উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠজুড়ে হলুদ সরিষার ফুলে ছেয়ে গেছে। চির সবুজের বুকে যেন কাঁচা হলুদের আলপনা। সরিষা ফুলের হলুদ রাজ্যে এখন মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত। সরিষার বাম্পার ফলনের আশায় কৃষকের মুখে হাসি। কৃষকরা ভোজ্যতেলের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের পরামর্শে তাদের ধানের জমির ফসল কাটা-মাড়াই করে বারি উদ্ভাবিত উফশীজাতের সরিষা বীজ মাঠে বুনছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, শিবচর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চারপাশে শুধু সরিষা ফুলের মৌ-মৌ গন্ধে মুখরিত ফসলের মাঠগুলো। বহেরাতলা, কুতুবপুর, কাদিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সরিষার চাষের জমি কেউ সরিষা বুনছেন কিংবা পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। শিবচরে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই সরিষার চাষ। সরিষা চাষ করে অনেক কৃষকের ঘুরেছে ভাগ্যের চাকা।

সংশ্লিষ্ট বিভাগের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে এবং সরিষার ভালো মূল্য পেলে এ অঞ্চলে সরিষা চাষের পরিধি আরো বৃদ্ধি পাবে ও ভালো দাম পেলে অনেক লাভবান হবে বলে আশা করছেন কৃষকেরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে উপজেলায় সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৭৯৪ হেক্টর আর সরিষা চাষ হয়েছে ৪ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে। সরিষা চাষে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে ৩ হাজার ৭৯৪ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছিল। কৃষি বিভাগ থেকে প্রণোদনা ও সরিষা তেলের দাম বেশি হওয়ায় চলতি বছরে কৃষকদের মাঝে সরিষা চাষে আগ্রহ বেড়েছে।

উপজেলার বহেরাতলা দক্ষিণ ইউনিয়নের ঝাউকান্দি এলাকার এক কৃষক বলেন, গত বছর থেকে এবার সরিষা বুনছি কম। সরিষা আবাদে খরচ অনেক কম, কিন্তু দাম যদি একটু হয়, তাহলে আমাদের একটু ভালো হবে।

আরেক কৃষক আব্দুস সোবাহান জানান, ধান কাটার পর সেই জমিতে বারি উদ্ভাবিত উফশীজাতের সরিষা চাষ করছি। আশা করছি গতবারের চেয়ে বেশী ফলন পাবো।

ভেন্নাতলা এলাকার সরিষা চাষি হারুন বলেন, বিঘা প্রতি আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা খরচ হয়। সরিষা ঘরে উঠানো পর্যন্ত খরচ হয় প্রায় চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। এ বছর ২২ কাঠা সরিষা লাগিয়েছি। গত বছর ভালো দাম পাওয়া গেছে। আশা করছি এ বছরও ভালো দাম পাওয়া যাবে।

যাদুয়ারচর এলাকার মালেক মাদবর নামের এক কৃষক বলেন, এবার সরিষার ফলন ভালো দেখা যাচ্ছে। এবারে ২ বিঘা জমিতে সরিষা লাগিয়েছি। শুধু আমাদের না আশেপাশের সকলের ফলন এবারে ভালো হয়েছে। তবে যদি একটু দাম পাই, এবারে তাহলে ভালো লাভ হবে।

সরিষাখেতে ঘুরতে আসা তৌহিদ নামে একজন বলেন, সরিষাখেতে ঘুরতে এসেছি, খুবই ভালো লাগতাছে। চোখ যত দূর যায় তত দূর শুধু হলুদ আর হলুদ। গত বছর ঘুরতে এসেছিলাম। গতবারের থেকে এবার একটু বেশি ভালো লাগতেছে।

শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর বেশি সরিষার আবাদ হয়েছে।বর্তমানে সরকার সরিষা চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে প্রণোদনাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। বাজারে সরিষার ভালো দাম পাওয়া, নতুন নতুন উন্নত জাতের উদ্ভাবনের ফলে ফলন বৃদ্ধি এবং পতিত জমিতে মধ্যবর্তী ফসল হিসেবে সরিষা চাষের মাধ্যমে লাভজনক হওয়ার কারণে কৃষকরা সরিষা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/ bh

এ বিভাগের আরও সংবাদ