০৪:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

ছুটির প্রভাব পড়েছে পেঁয়াজের বাজারে

সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে প্রায় এক সপ্তাহ ছুটি ছিল অফিস আদালত। সেই ছুটিতে রাজধানী শহর ছিল প্রায় ফাঁকা। ছুটির প্রভাব পড়েছে পেঁয়াজ, আদা, রসুনের বাজারে। চাহিদা কম থাকায় আমদানি ও সরবরাহ কম ছিল বলে দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা। সে কারণে এ সপ্তাহে উঁচু দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ, আদা ও রসুন। শুক্রবার পাইকারি বাজার ঘুরে এ তথ্য জানা গেছে। শ্যামবাজার বণিক সমিতির কোষাধ্যক্ষ মহসিন উদ্দিন ভুলু মিয়া অর্থসূচককে বলেন, অন্যান্য সময় প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ ট্রাক পণ্য আমদানি হয়। গত সপ্তাহে মাত্র ৪ থেকে ৫ ট্রাক পণ্য আমদানি হয়েছে।

ছুটিতে রাজধানীর অনেক মানুষ গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গেছে। ফলে পেঁয়াজ রসুনসহ সকল প্রকারের পণ্যের চাহিদা কমেছে আগের চেয়ে। সেকারণেই এখন দামটা একটু বেশি। তিনি জানান, আগমী ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে যাবে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দামও কমে আসবে। আজকের পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি দেশী পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৮ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে। ভারত থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২২ থেকে ২৪ টাকায়। এছাড়া আদা ৭৫ থেকে ৮৫ টাকা ও রসুন ৮০ থেকে ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভুলু মিয়া বলেন, গত বছরের চেয়ে এ বছর পেয়াজের উৎপাদন হয়েছে প্রায় দ্বিগুণ। কিন্তু বাংলাদেশের পেঁয়াজের বাজার পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের রপ্তানির উপর নির্ভর করে। তারা রপ্তানি কমিয়ে দিলেই বেড়ে যায় বাংলাদেশের পেঁয়াজের বাজার।

দেশে এবার ফলন ভালো হওয়ায় এবং ভারত থেকে আমদানিকারকরা পেঁয়াজ পর্যাপ্ত মজুদ থাকায় এ বছর রমজানে পেঁয়াজের দাম বাড়ার সম্ভবনা নেই। কিন্তু নতুন রসুন এখনো বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে না আসায় রমজানকে সামনে রেখে রসুনের দাম বাড়তে পারে। রমজান মাসে মসলার দাম বাড়বে কিনা তা নিয়ে আগাম কিছু জানাতে রাজি হননি পাইকারি ব্যবসায়ীরা। পেঁয়াজ, রসুন ও আদার আমদানীকারক প্রতিষ্ঠান অজয় ট্রেডার্সের স্বত্ত্বাধিকারী অসিম শাহ বলেন, সাময়িকভাবে পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দাম বাড়লেও বেশি ?দিন স্থায়ী থাকবেনা এই দাম। কারণ এখন এই পণ্যগুলোর পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। পেঁয়াজ পর্যাপ্ত মজুদ থাকায় রমজানে বাজারে কোনো পরিবর্তন আসবে না। তবে কিছুদিন থেকে দেশি রসুনের দাম উর্ধ্বমুখী। রমজানকে সামনে রেখে রসুনের দাম আরও বাড়তে পারে। মেসার্স আমানত ভান্ডারের স্বত্ত্বাধিকারী জি. এস মানিক বলেন, কয়েক মাস আগে দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম ছিল আকাশ ছোঁয়া। মূলত মজুদ অপর্যাপ্ত থাকা কারণেই পেঁয়াজের দাম বেড়েছিলো।

এখন বাংলাদেশে উৎপাদিত ও ভারতীয় পেঁয়াজের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। তাই ভবিষ্যতে পেঁয়াজের দাম বাড়ার সম্ভবনা নেই। তবে রসুনের দাম কিছুটা বাড়তে পারে। শুক্রবার খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দরে। ভারত থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা প্রতি কেজি। এছাড়া রসুন মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১১০ টাকা এবং আদা বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

কৃষকের মেরুদণ্ড শক্তশালী হলে জাতির মেরুদণ্ড শক্তিশালী হবে: ফারজানা শারমিন পুতুল

ছুটির প্রভাব পড়েছে পেঁয়াজের বাজারে

প্রকাশিত : ০৯:৪৫:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ মে ২০১৮

সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে প্রায় এক সপ্তাহ ছুটি ছিল অফিস আদালত। সেই ছুটিতে রাজধানী শহর ছিল প্রায় ফাঁকা। ছুটির প্রভাব পড়েছে পেঁয়াজ, আদা, রসুনের বাজারে। চাহিদা কম থাকায় আমদানি ও সরবরাহ কম ছিল বলে দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা। সে কারণে এ সপ্তাহে উঁচু দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ, আদা ও রসুন। শুক্রবার পাইকারি বাজার ঘুরে এ তথ্য জানা গেছে। শ্যামবাজার বণিক সমিতির কোষাধ্যক্ষ মহসিন উদ্দিন ভুলু মিয়া অর্থসূচককে বলেন, অন্যান্য সময় প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ ট্রাক পণ্য আমদানি হয়। গত সপ্তাহে মাত্র ৪ থেকে ৫ ট্রাক পণ্য আমদানি হয়েছে।

ছুটিতে রাজধানীর অনেক মানুষ গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গেছে। ফলে পেঁয়াজ রসুনসহ সকল প্রকারের পণ্যের চাহিদা কমেছে আগের চেয়ে। সেকারণেই এখন দামটা একটু বেশি। তিনি জানান, আগমী ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে যাবে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দামও কমে আসবে। আজকের পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি দেশী পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৮ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে। ভারত থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২২ থেকে ২৪ টাকায়। এছাড়া আদা ৭৫ থেকে ৮৫ টাকা ও রসুন ৮০ থেকে ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভুলু মিয়া বলেন, গত বছরের চেয়ে এ বছর পেয়াজের উৎপাদন হয়েছে প্রায় দ্বিগুণ। কিন্তু বাংলাদেশের পেঁয়াজের বাজার পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের রপ্তানির উপর নির্ভর করে। তারা রপ্তানি কমিয়ে দিলেই বেড়ে যায় বাংলাদেশের পেঁয়াজের বাজার।

দেশে এবার ফলন ভালো হওয়ায় এবং ভারত থেকে আমদানিকারকরা পেঁয়াজ পর্যাপ্ত মজুদ থাকায় এ বছর রমজানে পেঁয়াজের দাম বাড়ার সম্ভবনা নেই। কিন্তু নতুন রসুন এখনো বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে না আসায় রমজানকে সামনে রেখে রসুনের দাম বাড়তে পারে। রমজান মাসে মসলার দাম বাড়বে কিনা তা নিয়ে আগাম কিছু জানাতে রাজি হননি পাইকারি ব্যবসায়ীরা। পেঁয়াজ, রসুন ও আদার আমদানীকারক প্রতিষ্ঠান অজয় ট্রেডার্সের স্বত্ত্বাধিকারী অসিম শাহ বলেন, সাময়িকভাবে পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দাম বাড়লেও বেশি ?দিন স্থায়ী থাকবেনা এই দাম। কারণ এখন এই পণ্যগুলোর পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। পেঁয়াজ পর্যাপ্ত মজুদ থাকায় রমজানে বাজারে কোনো পরিবর্তন আসবে না। তবে কিছুদিন থেকে দেশি রসুনের দাম উর্ধ্বমুখী। রমজানকে সামনে রেখে রসুনের দাম আরও বাড়তে পারে। মেসার্স আমানত ভান্ডারের স্বত্ত্বাধিকারী জি. এস মানিক বলেন, কয়েক মাস আগে দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম ছিল আকাশ ছোঁয়া। মূলত মজুদ অপর্যাপ্ত থাকা কারণেই পেঁয়াজের দাম বেড়েছিলো।

এখন বাংলাদেশে উৎপাদিত ও ভারতীয় পেঁয়াজের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। তাই ভবিষ্যতে পেঁয়াজের দাম বাড়ার সম্ভবনা নেই। তবে রসুনের দাম কিছুটা বাড়তে পারে। শুক্রবার খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দরে। ভারত থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা প্রতি কেজি। এছাড়া রসুন মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১১০ টাকা এবং আদা বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে।