১১:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

রোহিঙ্গা সংকটে ওআইসি’র দৃঢ় পদক্ষেপের আহবান প্রধানমন্ত্রীর

মিয়ানমারে জাতিগত নির্মূলের শিকার রোহিঙ্গাদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থাকে (ওআইসি) দৃঢ়ভাবে পাশে দাঁড়ানোর জন্য আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার ঢাকার আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেইম-এ দুদিনব্যাপী ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের ৪৫তম সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রদত্ত বক্তব্যে এ আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) নিপীড়িত মানবতার পাশে দাঁড়ানোর জন্য নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। কাজেই মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী যখন জাতিগত নির্মূলের মুখোমুখি ওআইসি তখন নিশ্চুপ থাকতে পারে না।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীও আমাদের সবার মতো মর্যাদার সঙ্গে বাঁচার এবং জীবন-জীবিকার অধিকার রাখে।

শেখ হাসিনা বলেন, নিপীড়িত মানবতার জন্য আমাদের চিত্ত ও সীমান্ত দুই-ই উন্মুক্ত করে দিয়েছি। মিয়ানমারের প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়েছি।

নিপীড়িত ও নির্যাতিত মানুষের পাশে বাংলাদেশ সবসময় থাকবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গারাও মুসলমান আমরাও মুসলমান। মুসলমানরা পরস্পরের ভাই। তাই রোহিঙ্গাদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রতিটি মুসলমানের।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাস দমনে ৪ দফা পুনর্ব্যক্ত করে ওআইসিকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখার আহবানও জানান। এ সময় ক্রমবর্ধমান যুবশক্তিকে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামীদের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটিকে আরো সোচ্চার হওয়ার পরামর্শ দেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সকাল ১০টার দিকে এ সম্মেলন শুরু হয়। অতিথিদের উষ্ণ অভ্যর্থনায় বিমানবন্দর থেকে শুরু করে সম্মেলন কেন্দ্র, আবাসস্থল এবং যাতায়াতের পথ সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে।

সিএফএম’র বিদায়ী সভাপতি আইভরিকোস্টের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কেল অ্যামন এতে সভাপতিত্ব করছেন। অনুষ্ঠানে সিএফএম’র সভাপতির দায়িত্ব বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হবে। ওআইসির মহাসচিব ড. ইউসুফ এ আল ওতাইমিন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য রাখবেন।

এই সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকট ইস্যুটি বিশেষ প্রাধান্য পাবে। সম্মেলনে রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে আগত অর্ধশতাধিক দেশের প্রতিনিধিরা শুক্রবার কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন।

ওআইসির সদস্য নয় এমন দেশ যেমন কানাডা, কসোভো ও নর্দান সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন। এবারের ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য হল – টেকসই শান্তি, সংহতি ও উন্নয়নের জন্য ইসলামী মূল্যবোধ।

ঢাকায় সিএফএম বৈঠকে যেসব বিষয় গুরুত্ব পাবে সেগুলো হল – মুসলিম বিশ্বের সংঘাত ও চ্যালেঞ্জ, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী, বিশ্বব্যাপী মুসলমানরা যে ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছে কিভাবে সেগুলো সমাধান করা যায়, বিশ্বব্যাপী যে ইসলামোফোবিয়া তৈরি হয়েছে তা দূরীকরণের উপায় যথা- সভ্যতা ও সংস্কৃতির আন্তঃসংলাপ, মুসলিম উম্মাহর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, ওআইসি দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং সাংস্কৃতিক বিষয়সহ বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতার ক্ষেত্র খুঁজে বের করা প্রভৃতি।

সম্মেলনের আয়োজক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আগামী এক বছর ‘কাউন্সিল অব ফরেন মিনিস্টার্স’র (সিএফএম) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবে।

>>ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলন শুরু আজ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

রোহিঙ্গা সংকটে ওআইসি’র দৃঢ় পদক্ষেপের আহবান প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত : ১২:১৫:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ মে ২০১৮

মিয়ানমারে জাতিগত নির্মূলের শিকার রোহিঙ্গাদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থাকে (ওআইসি) দৃঢ়ভাবে পাশে দাঁড়ানোর জন্য আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার ঢাকার আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেইম-এ দুদিনব্যাপী ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের ৪৫তম সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রদত্ত বক্তব্যে এ আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) নিপীড়িত মানবতার পাশে দাঁড়ানোর জন্য নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। কাজেই মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী যখন জাতিগত নির্মূলের মুখোমুখি ওআইসি তখন নিশ্চুপ থাকতে পারে না।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীও আমাদের সবার মতো মর্যাদার সঙ্গে বাঁচার এবং জীবন-জীবিকার অধিকার রাখে।

শেখ হাসিনা বলেন, নিপীড়িত মানবতার জন্য আমাদের চিত্ত ও সীমান্ত দুই-ই উন্মুক্ত করে দিয়েছি। মিয়ানমারের প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়েছি।

নিপীড়িত ও নির্যাতিত মানুষের পাশে বাংলাদেশ সবসময় থাকবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গারাও মুসলমান আমরাও মুসলমান। মুসলমানরা পরস্পরের ভাই। তাই রোহিঙ্গাদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রতিটি মুসলমানের।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাস দমনে ৪ দফা পুনর্ব্যক্ত করে ওআইসিকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখার আহবানও জানান। এ সময় ক্রমবর্ধমান যুবশক্তিকে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামীদের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটিকে আরো সোচ্চার হওয়ার পরামর্শ দেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সকাল ১০টার দিকে এ সম্মেলন শুরু হয়। অতিথিদের উষ্ণ অভ্যর্থনায় বিমানবন্দর থেকে শুরু করে সম্মেলন কেন্দ্র, আবাসস্থল এবং যাতায়াতের পথ সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে।

সিএফএম’র বিদায়ী সভাপতি আইভরিকোস্টের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কেল অ্যামন এতে সভাপতিত্ব করছেন। অনুষ্ঠানে সিএফএম’র সভাপতির দায়িত্ব বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হবে। ওআইসির মহাসচিব ড. ইউসুফ এ আল ওতাইমিন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য রাখবেন।

এই সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকট ইস্যুটি বিশেষ প্রাধান্য পাবে। সম্মেলনে রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে আগত অর্ধশতাধিক দেশের প্রতিনিধিরা শুক্রবার কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন।

ওআইসির সদস্য নয় এমন দেশ যেমন কানাডা, কসোভো ও নর্দান সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন। এবারের ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য হল – টেকসই শান্তি, সংহতি ও উন্নয়নের জন্য ইসলামী মূল্যবোধ।

ঢাকায় সিএফএম বৈঠকে যেসব বিষয় গুরুত্ব পাবে সেগুলো হল – মুসলিম বিশ্বের সংঘাত ও চ্যালেঞ্জ, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী, বিশ্বব্যাপী মুসলমানরা যে ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছে কিভাবে সেগুলো সমাধান করা যায়, বিশ্বব্যাপী যে ইসলামোফোবিয়া তৈরি হয়েছে তা দূরীকরণের উপায় যথা- সভ্যতা ও সংস্কৃতির আন্তঃসংলাপ, মুসলিম উম্মাহর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, ওআইসি দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং সাংস্কৃতিক বিষয়সহ বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতার ক্ষেত্র খুঁজে বের করা প্রভৃতি।

সম্মেলনের আয়োজক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আগামী এক বছর ‘কাউন্সিল অব ফরেন মিনিস্টার্স’র (সিএফএম) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবে।

>>ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলন শুরু আজ