ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসনের উপনির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন আওয়ামীলীগের স্বতন্ত্র তিন প্রার্থী। শনিবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে নিজেদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন তারা।
প্রত্যাহার করা তিন প্রার্থী হলেন , ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল বারী চৌধুরী ও সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঈন উদ্দিন এবং স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলম।
মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময় তাদের সঙ্গে ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার। তিনজন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় এই আসনে উপনির্বাচনে বিএনপির দলছুট নেতা উকিল আবদুস সাত্তার ভূঞাসহ পাঁচজন প্রার্থী নির্বাচনে লড়বেন।
আওয়ামী লীগের রাজনীতি করা তিন ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থীর সরে দাঁড়ানোর ফলে কপাল খুলে যাচ্ছে বিএনপির বহিস্কৃত নেতা আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়ার—এমনটাই মনে করছেন রাজনীতিবিদ ও ভোটাররা। যদিও এখনও পাঁচ প্রার্থী রয়েছেন ভোটের মাঠে। তবে ওই প্রার্থীদের চেয়ে সাত্তার এগিয়ে আছেন বলে মনে করছেন রাজনীতিবিদ ও ভোটাররা। ফলে নিজের ছেড়ে দেওয়া আসনে আবারও এমপি হওয়ার পথ অনেকটাই সুগম হয়ে যাচ্ছে সাত্তারের জন্য।
সাত্তার ছাড়াও বাকি চার প্রার্থী হলেন: জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী আব্দুল হামিদ ভাসানী, জাতীয় পার্টির বহিষ্কৃত নেতা জিয়াউল হক মৃধা, জাকের পার্টির প্রার্থী জহিরুল ইসলাম জুয়েল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু আসিফ আহমেদ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান জানান, মনোনয়পত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর আটজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল। এদের মধ্যে আজ শনিবার ৩ জন তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। আগামীকাল রোববার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। এরপর সোমবার প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এই উপনির্বাচনে প্রবীণ রাজনীতিবিদ আবদুস সাত্তারের বিপরীতে শক্তিশালী কোনো প্রার্থী না থাকায় তিনি সহজেই জয় পাবেন বলে ধারনা করা হচ্ছে। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ইভিএমে এই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, বিগত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে বিজয়ী হন দলটির বর্ষীয়ান নেতা আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া। তবে গত ডিসেম্বরে দলীয় সিদ্ধান্তে সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। এরপর দলের চেয়ারপাসনের উপদেষ্টা থেকেও পদত্যাগ করেন। পরবর্তীতে সাত্তার তার ছেড়ে দেওয়া আসনের উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র এমপি হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মনোনয়ন ফরম কিনলে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় বিএনপি।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ






















