ঢাকা সকাল ১১:০৯, শুক্রবার, ২৭শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

মৌ মৌ গন্ধে মুখরিত সরিষা ফুলের মাঠ: দুলছে কৃষকের হলুদ স্বপ্ন

রাজশাহী বিভাগে অন্তগত শষ্য ভান্ডার খ্যাত উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তর জেলা নওগাঁ। নানান ফসল উৎপাদনের জন্য যেন এক যাদুর উপনিবেশ এ জেলার মাটি। ইতমধ্যে চাল ও আমের রাজধানী হিসেবে নিজেকে মেলে ধরেছে এ জেলা।
পাশাপাশি নানান ফসল উৎপাদনে প্রথমেই অবস্থান করে এ জেলার সুনাম।

আর বর্তমান চিত্রে লক্ষণীয়, সরিষার হলুদ ফুলের সৌন্দর্যে জেলার বিস্তীর্ণ মাঠ। যত দূর চোখ যায়, কেবল হলুদ আর হলুদ। সরিষা গাছের সজ্জিত সমারোহে প্রকৃতি তার সৌন্দর্যের বুনন করছে। আর প্রতিটি ফুলে দুলছে কৃষকের স্বপ্ন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে জেলায় এ বছর সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা।

সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে সরিষা চাষের এমনই চিত্র দেখা গেছে। সরিষা ফুলের মৌ মৌ গন্ধে মুখরিত ফসলের মাঠ। মৌমাছির গুনগুন শব্দে ভরপুর ক্ষেত-খামার।

গতবছরের তুলনায় জেলায় এবছর ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ বেশি হয়েছে। সরকারি প্রণোদনা এবং তেলের দামবৃদ্ধিতে বেড়েছে সরিষার আবাদ। এছাড়া সরিষার ব্যাপক ফলন পাবেন বলেও আশা করছেন চাষিরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছর জেলার ১১টি উপজেলায় ৪৭ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে উন্নত জাতের বারি-১৪, ১৫, ১৭ ও ১৮ এবং বিনা-৪, ৯ ও টরি-৭ সরিষার আবাদ করা হয়েছে। গত বছর ৩৪ হাজার ৭৪৫ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছিল। যা এবছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৩ হাজার ৫৫ হেক্টর জমিতে বেশি আবাদ হয়েছে।

উপজেলাভিত্তিক সরিষা আবাদের পরিমাণে দেখা যায়, সদর উপজেলায় ২ হাজার ৬২০ হেক্টর, রানীনগর উপজেলায় ৬ হাজার ৬৬৫ হেক্টর, আত্রাইয়ে ৩ হাজার ১০ হেক্টর, মান্দায় ৬ হাজার ৩০০ হেক্টর, মহাদেবপুরে ২ হাজার ৬৯০ হেক্টর, বদলগাছীতে ১ হাজার ২৬০ হেক্টর, নিয়ামতপুরে ৫ হাজার ৫৫০ হেক্টর, ধামইরহাটে ৩ হাজার ৩৫৫ হেক্টর, পত্নীতলায় ৬ হাজার ৩৫০ হেক্টর, সাপাহারে ৫ হাজার ৫৯০ হেক্টর এবং পোরশায় ৪ হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। যেখান থেকে ৭২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন সরিষা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলন ভালো পাওয়া যাবে। আর বেশি কুয়াশা হলে সরিষাখেতের ক্ষতি হতে পারে। সরিষা জমিতে বপন করার পর থেকে তিন মাসের মতো সময় লাগে পরিপক্ব হতে। সরিষার বপনের পর ফুল আসে এক মাস পর। দেড় মাস পর ফুলে সরিষা ধরে।

নওগাঁ সদর উপজেলার শৈলগাছী ইউনিয়নের কৃষক আমির বলেন, আমি চার একর জমিতে সরিষা চাষ করছি। এখনও পর্যন্ত আবহাওয়া ভালো আছে। তাই সরিষার চাষও ভালো হয়েছে। বাজার যদি ভালো থাকে, ভাল দামে বিক্রি করতে পারব।

রানীনগর উপজেলার কুনৌজ গ্রামের কৃষক বাচ্চু জানান, এবার দুই বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছেন তিনি। তার সরিষা ক্ষেত খুবই ভালো হয়েছে। এখন পর্যন্ত তার ক্ষেতে কোনো রোগবালাই দেখা দেয় নাই। আশা করছেন, এবার ভালো ফলন পাবেন।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আবু হোসেন বলেন, সরিষা আবাদ করার জন্য কৃষকদের শুরু থেকে উৎসাহিত করা হয়েছে। আশা করছি, কৃষকরা অনেক লাভবান হবেন। এবছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত সরিষার আবাদ হয়েছে। ভবিষ্যতে আমাদের তেল আমদানি নির্ভরতা অনেকাংশে কমে আসবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে কোনো ক্ষতি না হলে জেলায় সরিষা আবাদে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ bh

এ বিভাগের আরও সংবাদ