১১:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪

আ. লীগ নেতাকে মারতে ফাকা গুলি ছুড়লো কিলার শামীম

প্রবাদে আছে,“কয়লা ধূলে ময়লা যায় না”। বৃহস্পতিবার রাতে যশোরের চৌগাছা উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামে ৩ রাউন্ড গুলি ফুটিয়ে সেই কথাটিই প্রমান করলেন শামীম কবির ওরফে কিলার শামীম। শামীম কবির ওরফে কিলার শামীম আলোচিত যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জিল্লুর রহমান মিন্টু, শিশু সৌরভসহ ৬টি হত্যা মামলাসহ ১৭ টি মামলার আসামি। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের তালিকাভূক্ত শীর্ষ এ সন্ত্রাসী সাড়ে ৩ বছরে আগে আদালতে আত্নসমর্পণ করে। পরে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে নিজ গ্রামেই অবস্থান করছে। পেশাদার খুনি এই কিলার শামীম উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের মৃত শামসুল হকের ছেলে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এসএম হাবিবুর রহমানের ছেলে ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এসএম রেজওয়ান হাবিব আলিফ জানান, (বৃহস্পতিবার) রাতে আমাদের জগন্নাথপুর গ্রামের আজহার ব্যাপারির ছেলে খোকনের বাড়িতে ওরসের দাওয়াত ছিল। আমরা সেখানে খাবার নিয়ে বসেছি এমন সময় (রাত আনুমানিক ১০ বা সাড়ে ১০টার দিকে) দুজন সঙ্গীসহ কিলার শামীম উপস্থিত হন। এসময় তিনি মাতাল অবস্থায় ছিলেন। এসেই তিনি চৌগাছা সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদ্য সাবেক সাধারন সম্পাদক শামীম রেজাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকে। আমি তাকে যতোই বুঝাতে চেষ্টা করি ততই তার গালাগাল বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে স্থানীয়রা তাকে ঠেকিয়ে সরিয়ে নিলে যাওয়ার সময় সে ৩ রাউন্ড গুলি ফুটিয়ে চলে যায়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জগন্নাথপুর গ্রামের মহাসিন বিশ্বাসের ছেলে সবুজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আনুমানিক রাত ১০টার পরে জাহাঙ্গীরপুরের শামীম ওরফে কিলার শামীম এই ঘটনা ঘটায়। এসময় তার সাথে ইয়াসিনসহ আরো একজন ছিল।
চৌগাছা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান হোসেনসহ আরো অনেক প্রত্যক্ষদর্শী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

কিলার শামীম যাকে মারতে এসেছিল চৌগাছা সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদ্য সাবেক সেই সাধারন সম্পাদক শামীম রেজা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জগন্নাথপুরে খোকনের বাড়িতে দাওয়াত খেতে বসেছি এমন সময় কিলার শামীম, শান্ত আর বাবুল এসে উপস্থিত হয়। সেখানে শামীম কিছুক্ষন পর পর মাজা থেকে পিস্তল বের করে হুমকি দিতে থাকে। এক পর্যায়ে স্থানীয়রা কিলার শামীমকে সরিয়ে নিয়ে যায়। পরে মটর সাইকেলে যাওয়ার সময় কিলার শামীম ৩ রাউন্ড গুলি ফুটিয়ে চলে যায়। এ বিষয়ে সকালে থানায় অভিযোগ করবেন বলেও জানান তিনি। ঘটনা জানতে (রাত ১২টা ২৩ মিনিটে) চাইলে চৌগাছা থানার ওসি সাইফুল ইসলাম সবুজ বলেন,“বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এখনি খোজ নিচ্ছি।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জিল্লুর রহমান মিন্টুকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যা করে এই কিলার শামীম ও তার বাহিনী। ২০২০ সালে ২৪ মে উপজেলার এক যুবলীগ নেতাকে হত্যা করতে গিয়ে গনটপটুনির শিকার হয় কিলার শামীম। এর আগে ২০০৮/২০০৯ সালের দিকে নিজ গ্রামে বাপ মায়ের সামনে এক মেয়েকে ধর্ষন করতে গেলে আত্নরক্ষার্থে সেই মেয়ে তার বালিশের পাশে থাকা দা দিয়ে কিলার শামীমের মুখের বাম পাশে কোপ মারে। সেই কোপের চিহ্ন এখনো তার মুখে বিদ্যমান। কিছুদিন আগে এই সন্ত্রাসীর লালসা থেকে বাচতে একজন কাঠ মিস্ত্রী তার মেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে জাহাঙ্গীরপুর গ্রাম থেকে পালিয়েছেন। তার আগে এক হিন্দু গৃহবধুকে নিজের লালসার খোরাক করতে তার বাড়ির সামনে গুলি ফুটিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করেছিল এই খুনি।

এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে সে প্রকাশ্যে গুলি ফুটিয়ে ত্রাসের রাম রাজস্ব কায়েম করেও বহাল তবিয়তে থাকছেন গ্রামের নিজ বাড়িতে। পুলিশ,ডিবি র‌্যাবের এতো তৎপরতার মধ্যেও একের পর এক ঘটনা ঘটিয়েও কিভাবে ধরাছোয়ার বাইরে থাকছে এই পেশাদার খুনি ? কেনো আজও উদ্ধার হয়নি কিলার শামীমের অবৈধ অস্ত্র ভান্ডার?? প্রশ্নটি ঘুরে ফিরছে সকলের মনে।সেই সাথে কখন যে কোন মায়ের বুক খালি হয় সেই আতঙ্কেই দিন কাটছে উপজেলাবাসির।

বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব

চারদিকে কি হচ্ছে,সেইদিকে নজর না রেখে নিজের লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে

আ. লীগ নেতাকে মারতে ফাকা গুলি ছুড়লো কিলার শামীম

প্রকাশিত : ১১:৩২:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

প্রবাদে আছে,“কয়লা ধূলে ময়লা যায় না”। বৃহস্পতিবার রাতে যশোরের চৌগাছা উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামে ৩ রাউন্ড গুলি ফুটিয়ে সেই কথাটিই প্রমান করলেন শামীম কবির ওরফে কিলার শামীম। শামীম কবির ওরফে কিলার শামীম আলোচিত যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জিল্লুর রহমান মিন্টু, শিশু সৌরভসহ ৬টি হত্যা মামলাসহ ১৭ টি মামলার আসামি। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের তালিকাভূক্ত শীর্ষ এ সন্ত্রাসী সাড়ে ৩ বছরে আগে আদালতে আত্নসমর্পণ করে। পরে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে নিজ গ্রামেই অবস্থান করছে। পেশাদার খুনি এই কিলার শামীম উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের মৃত শামসুল হকের ছেলে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এসএম হাবিবুর রহমানের ছেলে ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এসএম রেজওয়ান হাবিব আলিফ জানান, (বৃহস্পতিবার) রাতে আমাদের জগন্নাথপুর গ্রামের আজহার ব্যাপারির ছেলে খোকনের বাড়িতে ওরসের দাওয়াত ছিল। আমরা সেখানে খাবার নিয়ে বসেছি এমন সময় (রাত আনুমানিক ১০ বা সাড়ে ১০টার দিকে) দুজন সঙ্গীসহ কিলার শামীম উপস্থিত হন। এসময় তিনি মাতাল অবস্থায় ছিলেন। এসেই তিনি চৌগাছা সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদ্য সাবেক সাধারন সম্পাদক শামীম রেজাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকে। আমি তাকে যতোই বুঝাতে চেষ্টা করি ততই তার গালাগাল বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে স্থানীয়রা তাকে ঠেকিয়ে সরিয়ে নিলে যাওয়ার সময় সে ৩ রাউন্ড গুলি ফুটিয়ে চলে যায়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জগন্নাথপুর গ্রামের মহাসিন বিশ্বাসের ছেলে সবুজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আনুমানিক রাত ১০টার পরে জাহাঙ্গীরপুরের শামীম ওরফে কিলার শামীম এই ঘটনা ঘটায়। এসময় তার সাথে ইয়াসিনসহ আরো একজন ছিল।
চৌগাছা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান হোসেনসহ আরো অনেক প্রত্যক্ষদর্শী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

কিলার শামীম যাকে মারতে এসেছিল চৌগাছা সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদ্য সাবেক সেই সাধারন সম্পাদক শামীম রেজা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জগন্নাথপুরে খোকনের বাড়িতে দাওয়াত খেতে বসেছি এমন সময় কিলার শামীম, শান্ত আর বাবুল এসে উপস্থিত হয়। সেখানে শামীম কিছুক্ষন পর পর মাজা থেকে পিস্তল বের করে হুমকি দিতে থাকে। এক পর্যায়ে স্থানীয়রা কিলার শামীমকে সরিয়ে নিয়ে যায়। পরে মটর সাইকেলে যাওয়ার সময় কিলার শামীম ৩ রাউন্ড গুলি ফুটিয়ে চলে যায়। এ বিষয়ে সকালে থানায় অভিযোগ করবেন বলেও জানান তিনি। ঘটনা জানতে (রাত ১২টা ২৩ মিনিটে) চাইলে চৌগাছা থানার ওসি সাইফুল ইসলাম সবুজ বলেন,“বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এখনি খোজ নিচ্ছি।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জিল্লুর রহমান মিন্টুকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যা করে এই কিলার শামীম ও তার বাহিনী। ২০২০ সালে ২৪ মে উপজেলার এক যুবলীগ নেতাকে হত্যা করতে গিয়ে গনটপটুনির শিকার হয় কিলার শামীম। এর আগে ২০০৮/২০০৯ সালের দিকে নিজ গ্রামে বাপ মায়ের সামনে এক মেয়েকে ধর্ষন করতে গেলে আত্নরক্ষার্থে সেই মেয়ে তার বালিশের পাশে থাকা দা দিয়ে কিলার শামীমের মুখের বাম পাশে কোপ মারে। সেই কোপের চিহ্ন এখনো তার মুখে বিদ্যমান। কিছুদিন আগে এই সন্ত্রাসীর লালসা থেকে বাচতে একজন কাঠ মিস্ত্রী তার মেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে জাহাঙ্গীরপুর গ্রাম থেকে পালিয়েছেন। তার আগে এক হিন্দু গৃহবধুকে নিজের লালসার খোরাক করতে তার বাড়ির সামনে গুলি ফুটিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করেছিল এই খুনি।

এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে সে প্রকাশ্যে গুলি ফুটিয়ে ত্রাসের রাম রাজস্ব কায়েম করেও বহাল তবিয়তে থাকছেন গ্রামের নিজ বাড়িতে। পুলিশ,ডিবি র‌্যাবের এতো তৎপরতার মধ্যেও একের পর এক ঘটনা ঘটিয়েও কিভাবে ধরাছোয়ার বাইরে থাকছে এই পেশাদার খুনি ? কেনো আজও উদ্ধার হয়নি কিলার শামীমের অবৈধ অস্ত্র ভান্ডার?? প্রশ্নটি ঘুরে ফিরছে সকলের মনে।সেই সাথে কখন যে কোন মায়ের বুক খালি হয় সেই আতঙ্কেই দিন কাটছে উপজেলাবাসির।

বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব