ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলন আজ। বিকাল সাড়ে ৩টায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রথমে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, এরপর শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে দুই দিনব্যাপী দ্বি-বার্ষিক এ সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভাপতিত্ব করবেন ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ।
সম্মেলনের প্রস্তুতি নিয়ে ৯ মে (বুধবার) দুপুরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘সম্মেলনের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। এবার ছাত্রলীগকে ইতিহাসের সেরা সফল সম্মেলন উপহার দেব। এ সম্মেলনে সারাদেশ থেকে লক্ষাধিক নেতাকর্মী অংশ নেবে।’
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সম্মেলন উদ্বোধন করার পর শোক প্রস্তাব, সাংগঠনিক রিপোর্ট ও প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনামূলক বক্তৃতার পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। দ্বিতীয় দিন ১২ মে ছাত্রলীগের নতুন নেতৃবৃন্দের নাম ঘোষণা করা হবে। এদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়(ঢাবি), উত্তর ও দক্ষিণ ছাত্রলীগের নেতাদের নামও ঘোষণা হতে পারে বলে জানান ছাত্রলীগ সভাপতি।
কেমন নেতৃত্ব আসবে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সোহাগ বলেন, ছাত্রলীগের আগামী দিনের নেতৃত্বে অভিযুক্তদের আনা হবে না। মেধাবী, পরিশ্রমী ও রাজপথের পরীক্ষিতরাই নেতৃত্বে আসবে।
নেতৃত্ব নিয়ে সিন্ডিকেট হস্তক্ষেপ করবে কি-না সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সোহাগ বলেন, সিন্ডিকেট শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার হয় শুনেছি। ছাত্রলীগে এই শব্দটি কিভাবে এসেছে তা আমার জানা নাই। আমরা প্রতিটি কার্যক্রম প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শেই করার চেষ্টা করেছি। আগামীতে তার পরামর্শেই সব কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।
নির্ভরযোগ্যসূত্রে জানা যায়, ছাত্রলীগকে সিন্ডিকেট মুক্ত করতে এবারের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরাসরি নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তত্ত্বাবধান করছেন। সম্মেলনে যোগ্যতার ভিত্তিতে পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড, মেধা এসব বিবেচনায় নিয়ে জীবন বৃত্তান্ত দেখে ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নেতা বানানো হবে বলে জানা যায়।
আরো জানা গেছে, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে অনুপ্রবেশকারীরা যাতে দলে ঢুকতে না পারে, সে ব্যাপারে কঠোর থাকার নির্দেশনা রয়েছে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড থেকে।
এদিকে এ সম্মেলনকে ঘিরে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। পদপ্রত্যাশীরাও সংগঠনের শীর্ষপদ পেতে শেষ মুহূর্তের দৌঁড়ঝাপ অব্যাহত রেখেছেন। সবাই যার যার অবস্থান থেকে শেষ বারের মতো আওয়ামী লীগ হাইকমান্ডের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছেন।
পদপ্রত্যাশীসহ সকল ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ছাত্রলীগে মেধাবী, ছাত্রবান্ধব, রাজপথে সক্রিয়, ত্যাগী ও সাংগঠনিক গুণাবলীসম্পন্ন নেতা আসবেন।
ছাত্রলীগের বিগত সম্মেলনগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সম্মেলনে নেতৃত্ব নির্বাচনে কয়েকটি বিষয় দেখা হয়। এর মধ্যে রয়েছে- পারিবারিক পরিচিতি, নিয়মিত ছাত্রত্ব, সংগঠনের জন্য ত্যাগ ও এলাকা।
জানা গেছে, প্রথমে পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করা হবে। সমঝোতা না হলে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে কাউন্সিলরদের ভোটের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই পদে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। একই সঙ্গে একই পদ্ধতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে।
প্রসঙ্গত, গত ২৫, ২৬ ও ২৯ এপ্রিল যথাক্রমে ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ, মহানগর উত্তর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের দিনই ছাত্রলীগের এই তিন ইউনিটের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলেও নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়নি।
গত ২-৫ মে পর্যন্ত শীর্ষ দুই পদে মনোনয়নপত্র বিক্রি করা হয়। ৩২৫ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে সভাপতি পদের জন্য ১২৫ জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য ২০০ জন ফরম তুলেছেন। আসন্ন জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে গঠিত তিন সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচন কমিশন জমা হওয়া মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করেছে। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আরিফুর রহমান লিমন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করছেন।
গত ২ মে সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। তালিকায় আসা আগ্রহীদের ডেকে সমঝোতার চেষ্টা করা হয়। সমঝোতা হলে এই কমিটির প্রেস রিলিজ দেওয়া হবে। এতে সফল না হলে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে ভোট হবে।
























