বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব
উত্তর জনপদের কাউনিয়ায় তিস্তায় রেল সেতুর মেয়াদ উত্তীর্ণের ২২ বছর পার হলেও আজও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে চারটি আন্তঃনগর ট্রেনসহ অনন্ত ২২ টি ট্রেন। লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের সাথে দেশের রেল যোগাযোগের জন্য তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার ১৯০১ সালে সেতুটি নির্মাণ করে ১৬ অক্টোবর সেতুটি খুলে দেওয়া হয়। সেতুর মেয়াদ ছিল ১০০ বছর। বিগত ২০০০সালের অক্টোবরে সেতু নির্মাণের শতবর্ষ পূর্ণ হয় । এরপর পেরিয়ে গেছে প্রায় ২২ বছর। তবুও ঝুঁকি নিয়ে চলছে ট্রেন। লালমনিহাট রেলওয়ে ডিভিশনের ২০টি ট্রেন এই সেতু দিয়ে পারাপার হচ্ছে। এর মধ্যে চারটি আন্তঃনগর ট্রেনসহ রয়েছে ডেমু ,মেইল, লোকাল ও মালবাহী ট্রেন।
সেতুর পাশে আর একটি রেল সেতু নির্মাণে সরকারি পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবায়নের দৃশ্যত কোনো উদ্যোগ নেই। রেলওয়ের সূত্র মতে, সারাদেশের সঙ্গে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম অঞ্চলে রেল যোগাযোগ সৃষ্টি করতে ১৯০১সালে তিস্তা নদীর উপর ২১১০ বর্গ ফুট লম্বা তিস্তা রেলওয়ে সেতু নির্মাণ করেন তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার। সে সময় দেশের তৃতীয় বৃহত্তম রেল সেতু হিসেবে এটির ব্যাপক পরিচিতি পায়। সেতুটির উত্তর পাশে লালমনিরহাট সদর উপজেলার তিস্তা এলাকা এবং দক্ষিণ পাশে যুক্ত রয়েছে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলা।
১২২ বছর বয়সী এ সেতুর মেয়াদ কাল ধরা হয়েছিলো ১০০ বছর। প্রায় ২২বছর আগে সেতুটি মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জোড়া তালি দিয়ে প্রতিদিন পারাপার করছে ২০টি ট্রেন ।১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সেতুটি কাউনিয়া প্রান্তে পাকবাহিনী বোম্বিং করায় একটি গার্ডার পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর ১৯৭২ সালে মেরামত করে সেতুটি পুনরায় চালু করা হয়।
১৯৭৭ সালে রেলওয়ে ও সহজ বিভাগ যৌথভাবে রেল সেতুতে মিটার গেস লাইনের পাশে ২৬০ টি স্টিলের টাইপ প্লেট ও কাঠের পাঁটাতন স্থাপন করে। ১৯৭৮ ইন সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ট্রেনের পাশাপাশি সেতুটি দিয়ে সড়ক যোগাযোগ উদ্বোধন করেন। সেই থেকে সেতু উপর দিয়ে ট্রেন ও যাত্রীবাহী বাস ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল শুরু করে। অতিরিক্ত মাল বোঝাই ও পাথর বোঝাই ট্রাক পারাপারের ফলে সেতুর উপর দিয়ে ট্রেন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। ফলে ২০০১ সালে রেল সেতুর পূর্ব পাশে তিস্তা সড়ক সেতু নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
পরে ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বরে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিস্তা সড়ক সেতু উদ্বোধন করেন। সড়ক সেতু চালু হওয়ার মেয়াদ উত্তীর্ণ রেল সেতুতে বাস ট্রাক চলাচল বন্ধ হলেও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক থাকে। বর্তমানে সেতুটির অবস্থা দেশ নাজুক। দুর্ঘটনা এড়াতে সেতুটির উন্নয়নে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রেলের সাধারণ যাত্রী ও অভিজ্ঞ মহল। তিস্তা সেতু এলাকার শমসের আলী , মকবুল হোসেন বলেন, তিস্তা রেল সেতুটির ওপর ট্রেন উঠলে সেতুটি কেঁপে ওঠে। মাঝে মাঝে লোক দেখানো নামমাত্র মেরামতের কাজ হলেও সে ত্রুটির কোন উন্নতি ঘটেনি। রেলের পশ্চিম অঞ্চল জোনের প্রধান প্রকৌশলী জানান ,তিস্তা সেতু কিছুটা মেরামত করা হয়েছে। এখন সেতুটিতে ট্রেন চলাচলে খুব বেশি সমস্যা নেই। আমরা একে ঝুঁকিপূর্ণ সে তো বলতে পারিনা। যাত্রীদের আতঙ্কের ব্যাপারটি স্বরে জমিনে প্রত্যক্ষ করব।
রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগীয় ম্যানেজার বলেন, তিস্তা রেল সেতু ঝুঁকিপূর্ণ নয়। তবুও এর পশ্চিম পাশে নতুন করে আরো একটি ডাবল ব্রডগেজ সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।




















