বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব
ক্ষমতাসীন দলের দু’গ্রুপের অর্ন্তকোন্দলে হাইকোর্টের রিটে মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের ঝিটকা আনন্দ মোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন স্থগিতে বিভিন্ন মহলে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোপ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। গত ৩০ মার্চ বিদ্যালয়টির নির্বাচনের দিনধার্য হলেও বিদ্যালয়ের আজীবন দাতা সদস্য, চালা ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি কাজী আব্দুল মজিদের করা রিটে ২৯ মার্চ হাইকোর্ট নির্বাচন স্থগিতাদেশ দেয়।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯২৬ সালে জগেশ্বর পোদ্দার বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। বিদ্যালয়ের ১৩.৪৪ একর জমির ওপর বিদ্যালয়ের একাধিক ভবন ব্যতিত প্রায় তিন শতাধিক দোকান, একটি বড় পুকুর, ১টি আবাসিক বাসভবন, একটি কিন্ডার গার্টেন স্কুল ও টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার ভাড়া দেয়া রয়েছে। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভাড়া ও ছাত্র/ছাত্রীদের বেতন থেকে বছরে গড়ে প্রায় দুই লক্ষ টাকা আয় হয়। ২০১৯ সাল থেকেই বিদ্যালয়টির নিয়মিত কমিটি নেই। এডহক কমিটি দিয়েই পরিচালিত হয়ে আসছে। এর মধ্যে ২০২২ সালের ২৪ জুলাই এডহক কমিটির সভাপতি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দেওয়ান সাইদুর রহমান নিয়মিত কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিলেও সরকারদলীয় স্থানীয় নেতৃবৃন্দের অর্ন্তকোন্দলের কারণে ওই নির্বাচন স্থগিত হয়।
আরও জানা যায়,গত ১ নভেম্বর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান, বিদ্যালয়েরই প্রাক্তন ছাত্র মো. আজিম খান দাতা সদস্য হিসেবে নতুন এডহক কমিটির সভাপতি হন এবং তিনি বিদ্যালয়টির নিয়মিত কমিটি গঠনের জন্য নির্বাচনের প্রস্তুতি নেন। এর ফলে গত ৩০ মার্চ ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। এতে সরকার দলীয় দুই নেতা বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি সেলিম মোল্লা ও নতুন এডহক কমিটির সভাপতি আজিম খান দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে নির্বাচনের জোর প্রচারণা চালান। এরমধ্যে আজিম খানসহ মোট ছয় জন নীতিমালা বর্হিভূত নতুন দাতা সদস্য ও ভোটার তালিকায় মৃত ব্যক্তির নাম বাতিলসহ চূড়ান্ত ভোটার তালিকার ওপর ১২ মার্চ বিদ্যালয়ের আজীবন দাতা সদস্য রাজিবুল হাসান বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলা নং-২৪/২০২৩। ২৭ মার্চ ওই মামলার শুনানিতে রায় এডহক কমিটির পক্ষে যায় এবং নির্বাচনে ১নং ব্যালটের দাতা সদস্য প্রার্থী কাজী আব্দুল মজিদ একই বিষয়ের ওপর হাইকোর্টে রিট করলে ২৯ মার্চ হাইকোর্ট চলমান নির্বাচনী কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দেয়। এতে অভিভাবকসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা ঝড় উঠে।
বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র, গোপীনাথপুর ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর রহমান শিকদার বিল্টু বলেন, “মানিকগঞ্জ জেলার মধ্যে ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয় এটি। বর্তমানে সেলিম মোল্লা ও আজিম খান এই দুইটি গ্রুপই নির্বাচনের মাঠে রয়েছে । বিদ্যালয়ের সম্পদের কারণেই এতো আধিপত্য বিস্তার। তবে এবার নির্বাচনটা দরকার ছিল। না হওয়ায় অনেক ক্ষতি হয়েছে।” গালা ইউপি চেয়ারম্যান শফিক বিশ্বাস বলেন, “এখানে আগে অনেক গুণীজন ও হিতৈষী ব্যক্তিবর্গ ম্যানেজিং কমিটিতে ছিলেন। এখন যে এক একটা কমিটি আসছে, এগুলো একটার চেয়ে আরেকটা নিম্নস্তরের হওয়ায় সমস্যাও বেশি হচ্ছে। বিদ্যালয়টিকে বাঁচাতে এবং হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে, দলমত নির্বিশেষে ব্যক্তি স্বার্থের উর্ধ্বে এখানে বড়মাপের ভাল লোকজনকে নিয়ে আসতে হবে।”
আজীবন দাতা সদস্য রাজিবুল হাসান রাজিব জানান, “গত নির্বাচনে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করেছি। ঐ নির্বাচনে যত টাকা খরচ হয়েছে, সব টাকা আমি, আমার বাবা খরচ করেছি। একটা বিছিন্ন ঘটনায় নির্বাচন বন্ধ হয়ে যায়। ওই ঘটনায় এক অভিভাবক সদস্য মামলাও করেন। আমরা সবাই এমপি’র লোক দাবি করি অথচ টাকা খরচের সময় কেবল আমার পরিবার। পরবর্তীতে আমাদের না জানিয়ে এডহক কমিটির সভাপতি হন আজিম খান। আগের নির্বাচনে শ্রম ঘাম, অর্থ সবই আমাদের। আর এখন আমরা কিছুই জানিনা। মূলত এখান থেকেই গ্রুপিংয়ের সৃষ্টি।”
এডহক কমিটির সভাপতি মো. আজিম খান বলেন, “গত ২৪ জুলাই নির্বাচনে একসাথে কাজ করলেও ওই নির্বাচন বানচালের পক্ষে আমি ছিলাম না। আমার কোনো স্বার্থ ছিলনা। স্বার্থ ছিল সেলিম মোল্লা ও তার ছেলে রাজিবের। তারা স্বার্থ উদ্ধারের জন্য নিজেদের মতো কাজ করে। কখনও কারও সাথে যদি ভাইল দেয়ার দরকার হয়, তাহলে ভাইল দেয়। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি না যে আমরা তার লোক বা তারা আমাদের লোক। আমি এখানে আসছি বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান এবং সম্পদ রক্ষা করার জন্য। আমি চাই, সুন্দর একটা নির্বাচন হোক। তারপর এই অঞ্চলের সুধীজনের সিদ্ধান্তেই যোগ্য কাউকে সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হবে। সেক্ষেত্রে আমি না হতে পারলেও সমস্যা নাই।”
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রেজা সাইফুল ইসলাম জানান, “ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজেরাই দু’গ্রুপে ক্ষমতার প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। তবে সুন্দর, নিরপেক্ষ একটি নির্বাচন দরকার, যা স্থানীয় সকলের সহযোগিতা ছাড়া অসম্ভব।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নিগার সুলতানা চৌধুরী জানান, “এই বিদ্যালয় নিয়ে বেশ কয়েক বছর যাবৎ সমস্যা হচ্ছে। স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ একত্রিত হয়ে পদক্ষেপ না নিলে এই সমস্যা সমাধান কখনই সম্ভব নয়।




















