০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

মেয়র তাপসের বক্তব্যে আদালত অবমাননার আবেদন

‘একজন চিফ জাস্টিসকেও নামিয়ে দিয়েছিলাম’ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের এমন বক্তব্য আদালত অবমাননাকর উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করা হয়েছে। রোববার (৪ জুন) আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির এডহক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শাহ আহমেদ বাদল এ আবেদন করেন। আবেদনে আদালত অবমাননার অভিযোগে মেয়র তাপসকে স্বশরীরে তলবের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

আগামীকাল সোমবার আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে ওই আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে বলে আইনজীবী শাহ আহমেদ বাদল জানিয়েছেন।

আবেদন করার পরে অ্যাডভোকেট শাহ আহমেদ বাদল বলেন, গত ২৪শে মে ‘একজন চিফ জাস্টিসকেও নামিয়ে দিয়েছিলাম’শিরোনামে প্রকাশিত একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যর আপিল বিভাগে সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলামের নেতৃত্বে আমরা নজরে এনে ছিলাম। কিন্তু অদ্যবধি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় রোববার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে কটেম পিটিশন দায়ের করেছি। পিটিশনে মেয়র তাপসকে আদালতে স্বশরীরে তলব করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ২৪শে মে ‘একজন চিফ জাস্টিসকেও নামিয়ে দিয়েছিলাম’মেয়র তাপসের এমন বক্তব্য সম্বলিত একটি জাতীয় দৈনিক প্রতিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন প্রধান বিচারপতির আদালতের নজরে আনেন সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ও প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম।

ওইদিন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির আপিল বিভাগের বেঞ্চে পত্রিকায় প্রকাশিত ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের কিছু বক্তব্য নজরে আনেন তিনি। এসময় আপিল বিভাগে কয়েকশ’বিএনপি সমর্থক আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।

আপিল বিভাগে ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন পড়ে বলেন, এটা আনফরচুনেট। জবাবে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেন, আমরা এটা দেখি। আমরা এটা ভালো করে পড়ে দেখি।

এসময় ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির আবেদন করলে প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরা দেখি, পড়ি। পরে সিদ্ধান্ত।

ওইদিন আদালত থেকে বেরিয়ে ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম বলেছিলেন, পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘একজন চিফ জাস্টিসকেও নামিয়ে দিয়েছিলাম’এটা কত বড় অবক্ষয়, তা আমরা প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের বিচারপতিদের নজরে এনেছি। আমরা প্রত্যাশা করছি আপিল বিভাগ ফুল বেঞ্চে বিষয়টি উঠাবেন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। তিনি বলেন, এতে সারা দেশের মানুষ মনক্ষুন্ন হয়েছে। বারের সিনিয়র আইনজীবীদের নিয়ে যেসব কথা বলেছেন, সেটাও আপনারা দেখেছেন। এই ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস যে মন্তব্য করেছেন তা অত্যান্ত উদ্ধত্যপূর্ণ। এটা আদালত আবমাননার শামিল।

বিজনেস বাংলাদেশ/ dh

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

কুষ্টিয়ায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত

মেয়র তাপসের বক্তব্যে আদালত অবমাননার আবেদন

প্রকাশিত : ০৯:৩৫:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জুন ২০২৩

‘একজন চিফ জাস্টিসকেও নামিয়ে দিয়েছিলাম’ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের এমন বক্তব্য আদালত অবমাননাকর উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করা হয়েছে। রোববার (৪ জুন) আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির এডহক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শাহ আহমেদ বাদল এ আবেদন করেন। আবেদনে আদালত অবমাননার অভিযোগে মেয়র তাপসকে স্বশরীরে তলবের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

আগামীকাল সোমবার আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে ওই আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে বলে আইনজীবী শাহ আহমেদ বাদল জানিয়েছেন।

আবেদন করার পরে অ্যাডভোকেট শাহ আহমেদ বাদল বলেন, গত ২৪শে মে ‘একজন চিফ জাস্টিসকেও নামিয়ে দিয়েছিলাম’শিরোনামে প্রকাশিত একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যর আপিল বিভাগে সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলামের নেতৃত্বে আমরা নজরে এনে ছিলাম। কিন্তু অদ্যবধি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় রোববার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে কটেম পিটিশন দায়ের করেছি। পিটিশনে মেয়র তাপসকে আদালতে স্বশরীরে তলব করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ২৪শে মে ‘একজন চিফ জাস্টিসকেও নামিয়ে দিয়েছিলাম’মেয়র তাপসের এমন বক্তব্য সম্বলিত একটি জাতীয় দৈনিক প্রতিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন প্রধান বিচারপতির আদালতের নজরে আনেন সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ও প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম।

ওইদিন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির আপিল বিভাগের বেঞ্চে পত্রিকায় প্রকাশিত ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের কিছু বক্তব্য নজরে আনেন তিনি। এসময় আপিল বিভাগে কয়েকশ’বিএনপি সমর্থক আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।

আপিল বিভাগে ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন পড়ে বলেন, এটা আনফরচুনেট। জবাবে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেন, আমরা এটা দেখি। আমরা এটা ভালো করে পড়ে দেখি।

এসময় ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির আবেদন করলে প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরা দেখি, পড়ি। পরে সিদ্ধান্ত।

ওইদিন আদালত থেকে বেরিয়ে ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম বলেছিলেন, পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘একজন চিফ জাস্টিসকেও নামিয়ে দিয়েছিলাম’এটা কত বড় অবক্ষয়, তা আমরা প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের বিচারপতিদের নজরে এনেছি। আমরা প্রত্যাশা করছি আপিল বিভাগ ফুল বেঞ্চে বিষয়টি উঠাবেন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। তিনি বলেন, এতে সারা দেশের মানুষ মনক্ষুন্ন হয়েছে। বারের সিনিয়র আইনজীবীদের নিয়ে যেসব কথা বলেছেন, সেটাও আপনারা দেখেছেন। এই ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস যে মন্তব্য করেছেন তা অত্যান্ত উদ্ধত্যপূর্ণ। এটা আদালত আবমাননার শামিল।

বিজনেস বাংলাদেশ/ dh