০১:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

৩ জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৩

ফেনীর ছাগলনাইয়া, বরিশাল সদর উপজেলা ও ময়মনসিংহ নগরীতে পুলিশের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তিনজন নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে দুইজন মাদক ব্যবসায়ী ও একজন ডাকাত বলে পুলিশ জানিয়েছে।

রবিবার ভোরে ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার পাঠাননগর ইউনিয়নের পশ্চিম পাঠান গড় এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে আলমগীর হোসেন ভূইয়া (৩৩) নামে এক মাদক চোরাকারবারি নিহত হয়।

আলমগীর পাঠান গড় গ্রামের আব্দুস ছালামের ছেলে। ছাগলনাইয়া থানার ওসি এম মোর্শেদ বলেছেন, আলমগীর একজন চিহ্নিত মাদক চোরাকারবারি। তার বিরুদ্ধে ফেনী সদর, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া থানায় নয়টি মামলা রয়েছে।

তিনি বলেন, ছাগলনাইয়ার পশ্চিম পাঠান গড় এলাকায় মাদকের একটি বড় চালান যাওয়ার খবরে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযানে যায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা গুলি করে। পুলিশও আত্মরক্ষার জন্য পাল্টা গুলি চালায়। গোলাগুলি থামার পর সেখানে আলমগীরকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।

ওসি বলেন, আলমগীরকে উদ্ধার করে ফেনী জেলা সদর হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ অভিযানেও দেলোয়ার হোসেন ও মতিয়ার রহমান নামে পুলিশের দুই এএসআই আহত হয়েছেন এবং তাদের জেলা সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি বন্দুক, তিন রাউন্ড গুলি, এক হাজার ইয়াবা ও শতাধিক বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করেছে।

এদিকে বরিশাল সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদ বটতলা এলাকায় শনিবার গভীর রাতে গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে অজ্ঞাতপরিচয় একজনের মৃত্যু হয়।

বরিশাল মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সহকারী কমিশনার নাছির মল্লিক বলেন, উপজেলার শায়েস্তাবাদ এলাকায় ডাকাতি বেড়ে যাওয়ায় সেখানে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল। শনিবার রাতে পুলিশের একটি টহল দলের সঙ্গে ডাকাতদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

তিনি বলেন, ডিবি পুলিশের টহল দল বটতলা এলাকায় গেলে একদল ডাকাত পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি করে। এক পর্যায়ে ডাকাতরা পিছু হটলে ঘটনাস্থলে এক ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া যায়। এ অভিযানে ডিবি পুলিশের এক এসআই ও দুই কনস্টেবল আহত হয়েছেন এবং তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি পাইপগান, একটি দা ও একটি চাপাতি উদ্ধার করেছে।

এছাড়া ময়মনসিংহের মাসকান্দা এলাকার গনশার মোড়ে শনিবার রাত সোয়া ২টার দিকে গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে রিয়াজুল ইসলাম বিপ্লব (৪০) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়।

ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই পরিমল দাস বলছেন, বিপ্লব শহরের শীর্ষ মাদক চোরাকারবারি। মাসকান্দা এলাকায় কয়েকজন মাদককারবারি একটি চালানের ভাগাভাগি করছে খবর পেয়ে ডিবির একটি দল গনশার মোড়ে যায়। মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশও আত্মরক্ষার্থে গুলি ছোড়ে। এক পর্যায়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পিছু হটলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মাদক সম্রাট বিপ্লবকে আটক করা হয়।

এসআই বলেন, গুলিবিদ্ধ বিপ্লবকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই অভিযানে রাশেদুল ও কাওছার নামে দুই পুলিশ কনস্টেবল আহত হয়েছেন, তারা পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে ২০০ গ্রাম হেরোইন, ২০০টি ইয়াবা, তিনটি গুলির খোসা ও দুটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের চ্যালেঞ্জে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন

৩ জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৩

প্রকাশিত : ১১:৫৫:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ মে ২০১৮

ফেনীর ছাগলনাইয়া, বরিশাল সদর উপজেলা ও ময়মনসিংহ নগরীতে পুলিশের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তিনজন নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে দুইজন মাদক ব্যবসায়ী ও একজন ডাকাত বলে পুলিশ জানিয়েছে।

রবিবার ভোরে ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার পাঠাননগর ইউনিয়নের পশ্চিম পাঠান গড় এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে আলমগীর হোসেন ভূইয়া (৩৩) নামে এক মাদক চোরাকারবারি নিহত হয়।

আলমগীর পাঠান গড় গ্রামের আব্দুস ছালামের ছেলে। ছাগলনাইয়া থানার ওসি এম মোর্শেদ বলেছেন, আলমগীর একজন চিহ্নিত মাদক চোরাকারবারি। তার বিরুদ্ধে ফেনী সদর, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া থানায় নয়টি মামলা রয়েছে।

তিনি বলেন, ছাগলনাইয়ার পশ্চিম পাঠান গড় এলাকায় মাদকের একটি বড় চালান যাওয়ার খবরে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযানে যায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা গুলি করে। পুলিশও আত্মরক্ষার জন্য পাল্টা গুলি চালায়। গোলাগুলি থামার পর সেখানে আলমগীরকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।

ওসি বলেন, আলমগীরকে উদ্ধার করে ফেনী জেলা সদর হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ অভিযানেও দেলোয়ার হোসেন ও মতিয়ার রহমান নামে পুলিশের দুই এএসআই আহত হয়েছেন এবং তাদের জেলা সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি বন্দুক, তিন রাউন্ড গুলি, এক হাজার ইয়াবা ও শতাধিক বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করেছে।

এদিকে বরিশাল সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদ বটতলা এলাকায় শনিবার গভীর রাতে গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে অজ্ঞাতপরিচয় একজনের মৃত্যু হয়।

বরিশাল মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সহকারী কমিশনার নাছির মল্লিক বলেন, উপজেলার শায়েস্তাবাদ এলাকায় ডাকাতি বেড়ে যাওয়ায় সেখানে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল। শনিবার রাতে পুলিশের একটি টহল দলের সঙ্গে ডাকাতদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

তিনি বলেন, ডিবি পুলিশের টহল দল বটতলা এলাকায় গেলে একদল ডাকাত পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি করে। এক পর্যায়ে ডাকাতরা পিছু হটলে ঘটনাস্থলে এক ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া যায়। এ অভিযানে ডিবি পুলিশের এক এসআই ও দুই কনস্টেবল আহত হয়েছেন এবং তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি পাইপগান, একটি দা ও একটি চাপাতি উদ্ধার করেছে।

এছাড়া ময়মনসিংহের মাসকান্দা এলাকার গনশার মোড়ে শনিবার রাত সোয়া ২টার দিকে গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে রিয়াজুল ইসলাম বিপ্লব (৪০) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়।

ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই পরিমল দাস বলছেন, বিপ্লব শহরের শীর্ষ মাদক চোরাকারবারি। মাসকান্দা এলাকায় কয়েকজন মাদককারবারি একটি চালানের ভাগাভাগি করছে খবর পেয়ে ডিবির একটি দল গনশার মোড়ে যায়। মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশও আত্মরক্ষার্থে গুলি ছোড়ে। এক পর্যায়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পিছু হটলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মাদক সম্রাট বিপ্লবকে আটক করা হয়।

এসআই বলেন, গুলিবিদ্ধ বিপ্লবকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই অভিযানে রাশেদুল ও কাওছার নামে দুই পুলিশ কনস্টেবল আহত হয়েছেন, তারা পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে ২০০ গ্রাম হেরোইন, ২০০টি ইয়াবা, তিনটি গুলির খোসা ও দুটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।