০৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে ‘তৃতীয় পক্ষ’র হামলা কিনা, খতিয়ে দেখছে পুলিশ

ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিরো আলমের ওপর হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। জড়িতরা যে রাজনৈতিক দলের হোক না কেন ছাড় দেয়া হবে না।

মঙ্গলবার ১৮ জুলাই দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

তিনি বলেন, ভোট কেন্দ্রের সামনে গলার মধ্যে ব্যাজ ধারণ করে যারা এই হামলা করেছে, তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল? এই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই হামলা করা হয়েছে কিনা? অথবা এক দলের ব্যাজ ধারণ করা লোকজনের মধ্যে তৃতীয় কোনো পক্ষ ছিল কিনা? সব কিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

হামলার ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে এখন পর্যন্ত ৭ জনকে আটক করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগ। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি, হিরো আলমের অভিযোগের অপেক্ষা করছে পুলিশ।

ডিবি প্রধান বলেন, সারাদিন শান্তির শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচনের একেবারে শেষ পর্যায়ে বিচ্ছিন্ন একটা ঘটনা ঘটেছে৷ তিন থেকে চার মিনিটের মধ্যে ঘটনাটি ঘটেছে। কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ।বাকি কিছু নাম পেয়েছি, তাদের বিষয়ে তদন্ত চলছে।

সংবাদ সম্মেলনের পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, পুলিশ হিরো আলমের অফিসে গিয়েছে। তাকে অনুরোধ করা হয়েছে মামলা করার জন্য। কিন্তু পুলিশ যাওয়ার আগেই তিনি অফিস ছেড়ে চলে গেছেন।

হারুন বলেন, সকাল দশটার দিকে হিরো আলম বনানীর বিদ্যানিকেতন স্কুল কেন্দ্রে ৫০ থেকে ৬০ জনকে নিয়ে পরিদর্শন করেন। তার সঙ্গে দিনের বেলায় যখন কথা হয়েছে, তখন তিনি বলেছেন নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে। পরের তিনটার দিকে অনেক লোক নিয়ে আবারও তিনি বিদ্যানিকেতন স্কুলের কেন্দ্রে যান। আমরা সিসিটিভি ফুটেছে দেখছি হিরো আলম কাউকে মারতে উদ্যত হচ্ছেন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। তিনি কেন্দ্রের বাইরে আসলে এই বিচ্ছিন্ন ঘটনাটি ঘটে।

গতকাল সোমবার ১৭ জুলাই রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) কে এন রায় নিয়তি বলেছিলেন: ঢাকা-১৭ আসনে ভোট চলাকালে সংসদ সদস্য প্রার্থী আশরাফুল হোসেন ওরফে হিরো আলমের ওপর হামলায় জড়িত অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

সেসময় পুলিশ জানায়, হিরো আলমের ওপর হামলার ঘটনাটি পুরোপুরি ভোটকেন্দ্রের বাইরে ঘটে এবং এতে কেন্দ্রের ভেতরে ভোট গ্রহণে কোনো সমস্যার সৃষ্টি হয়নি। পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারি, আন্তরিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে দ্রুততম সময়ে ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তর করে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

এর আগে সোমবার বিকেলে পুলিশের গুলশান বিভাগ জানায়, হিরো আলমের ওপর হামলার ঘটনায় সোমবার রাত পর্যন্ত দুজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়। আটক দুজনের একজনের নাম শেখ শহীদুল্লাহ বিপ্লব ও অপরজন সানোয়ার গাজী। পরে আরও ৫ জনকে আটক করা হয়।

যেভাবে হামলা
সোমবার বিকেল ৩ টা ১৮ মিনিটে বনানী বিদ্যা নিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে প্রবেশ করেন হিরো আলম। এ সময় সঙ্গে ছিল তার সমর্থকরাও। বিপক্ষ দলের সমর্থকরা তখন ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকে। বিকেল ৩ টা ২৫ মিনিটের দিকে গেট থেকে বের হওয়া মাত্র বিপক্ষ সমর্থকরা তাকে ধাওয়া দেন এবং মারধর শুরু করেন। তাদের মারধরের মাটিতে পড়ে যান হিরো আলম। এ সময় প্রায় ৫০ জনের বেশি যুবক ৩০ সেকেন্ড ধরে তাকে এলোপাতাড়ি মারতে থাকেন। হিরো আলমের সমর্থকরা তাকে দ্রুত তুলে নিয়ে দৌড় দিলে বিপক্ষ সমর্থকরা তাদের পেছন পেছন যায় এবং তাদের আবারও আরেক দফা হামলা করে। বারবার হামলার এক পর্যায়ে হিরো আলমের সমর্থকরা দ্রুত বনানীর দিকে চলে যান। বনানীর ২৩ নম্বর সড়কে একটি স্থানে গিয়ে একটি রিকশায় ওঠেন। পরে সেখান থেকে গাড়িতে করে চলে যান।

এই অবস্থা দেখে উপস্থিত আনসার ও পুলিশ সদস্যরা হুইসেল বাজিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন এবং সমর্থকদের ছত্রভঙ্গ করেন। পরে হিরো আলমকে চিকিৎসার জন্য রামপুরার বেসরকারি বেটার লাইভ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

হিরো আলমের ওপর হামলার ঘটনায় যারা জড়িত ভিডিও দেখে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সেসময় জানান ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মনির হোসাইন খান।

ঢাকা-১৭ আসনের উপ-নির্বাচনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোহাম্মদ এ আরাফাত। তিনি পেয়েছেন ২৮ হাজার ৮১৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলম পেয়েছেন পাঁচ হাজার ৬০৯ ভোট।

বিজনেস বাংলাদেশ/ bh

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

নোবেল পুরস্কার ঘোষণার পর তা বাতিল, হস্তান্তর কিংবা ভাগাভাগি সম্ভব নয়

নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে ‘তৃতীয় পক্ষ’র হামলা কিনা, খতিয়ে দেখছে পুলিশ

প্রকাশিত : ০৪:৩৮:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ জুলাই ২০২৩

ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিরো আলমের ওপর হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। জড়িতরা যে রাজনৈতিক দলের হোক না কেন ছাড় দেয়া হবে না।

মঙ্গলবার ১৮ জুলাই দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

তিনি বলেন, ভোট কেন্দ্রের সামনে গলার মধ্যে ব্যাজ ধারণ করে যারা এই হামলা করেছে, তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল? এই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই হামলা করা হয়েছে কিনা? অথবা এক দলের ব্যাজ ধারণ করা লোকজনের মধ্যে তৃতীয় কোনো পক্ষ ছিল কিনা? সব কিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

হামলার ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে এখন পর্যন্ত ৭ জনকে আটক করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগ। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি, হিরো আলমের অভিযোগের অপেক্ষা করছে পুলিশ।

ডিবি প্রধান বলেন, সারাদিন শান্তির শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচনের একেবারে শেষ পর্যায়ে বিচ্ছিন্ন একটা ঘটনা ঘটেছে৷ তিন থেকে চার মিনিটের মধ্যে ঘটনাটি ঘটেছে। কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ।বাকি কিছু নাম পেয়েছি, তাদের বিষয়ে তদন্ত চলছে।

সংবাদ সম্মেলনের পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, পুলিশ হিরো আলমের অফিসে গিয়েছে। তাকে অনুরোধ করা হয়েছে মামলা করার জন্য। কিন্তু পুলিশ যাওয়ার আগেই তিনি অফিস ছেড়ে চলে গেছেন।

হারুন বলেন, সকাল দশটার দিকে হিরো আলম বনানীর বিদ্যানিকেতন স্কুল কেন্দ্রে ৫০ থেকে ৬০ জনকে নিয়ে পরিদর্শন করেন। তার সঙ্গে দিনের বেলায় যখন কথা হয়েছে, তখন তিনি বলেছেন নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে। পরের তিনটার দিকে অনেক লোক নিয়ে আবারও তিনি বিদ্যানিকেতন স্কুলের কেন্দ্রে যান। আমরা সিসিটিভি ফুটেছে দেখছি হিরো আলম কাউকে মারতে উদ্যত হচ্ছেন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। তিনি কেন্দ্রের বাইরে আসলে এই বিচ্ছিন্ন ঘটনাটি ঘটে।

গতকাল সোমবার ১৭ জুলাই রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) কে এন রায় নিয়তি বলেছিলেন: ঢাকা-১৭ আসনে ভোট চলাকালে সংসদ সদস্য প্রার্থী আশরাফুল হোসেন ওরফে হিরো আলমের ওপর হামলায় জড়িত অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

সেসময় পুলিশ জানায়, হিরো আলমের ওপর হামলার ঘটনাটি পুরোপুরি ভোটকেন্দ্রের বাইরে ঘটে এবং এতে কেন্দ্রের ভেতরে ভোট গ্রহণে কোনো সমস্যার সৃষ্টি হয়নি। পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারি, আন্তরিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে দ্রুততম সময়ে ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তর করে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

এর আগে সোমবার বিকেলে পুলিশের গুলশান বিভাগ জানায়, হিরো আলমের ওপর হামলার ঘটনায় সোমবার রাত পর্যন্ত দুজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়। আটক দুজনের একজনের নাম শেখ শহীদুল্লাহ বিপ্লব ও অপরজন সানোয়ার গাজী। পরে আরও ৫ জনকে আটক করা হয়।

যেভাবে হামলা
সোমবার বিকেল ৩ টা ১৮ মিনিটে বনানী বিদ্যা নিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে প্রবেশ করেন হিরো আলম। এ সময় সঙ্গে ছিল তার সমর্থকরাও। বিপক্ষ দলের সমর্থকরা তখন ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকে। বিকেল ৩ টা ২৫ মিনিটের দিকে গেট থেকে বের হওয়া মাত্র বিপক্ষ সমর্থকরা তাকে ধাওয়া দেন এবং মারধর শুরু করেন। তাদের মারধরের মাটিতে পড়ে যান হিরো আলম। এ সময় প্রায় ৫০ জনের বেশি যুবক ৩০ সেকেন্ড ধরে তাকে এলোপাতাড়ি মারতে থাকেন। হিরো আলমের সমর্থকরা তাকে দ্রুত তুলে নিয়ে দৌড় দিলে বিপক্ষ সমর্থকরা তাদের পেছন পেছন যায় এবং তাদের আবারও আরেক দফা হামলা করে। বারবার হামলার এক পর্যায়ে হিরো আলমের সমর্থকরা দ্রুত বনানীর দিকে চলে যান। বনানীর ২৩ নম্বর সড়কে একটি স্থানে গিয়ে একটি রিকশায় ওঠেন। পরে সেখান থেকে গাড়িতে করে চলে যান।

এই অবস্থা দেখে উপস্থিত আনসার ও পুলিশ সদস্যরা হুইসেল বাজিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন এবং সমর্থকদের ছত্রভঙ্গ করেন। পরে হিরো আলমকে চিকিৎসার জন্য রামপুরার বেসরকারি বেটার লাইভ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

হিরো আলমের ওপর হামলার ঘটনায় যারা জড়িত ভিডিও দেখে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সেসময় জানান ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মনির হোসাইন খান।

ঢাকা-১৭ আসনের উপ-নির্বাচনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোহাম্মদ এ আরাফাত। তিনি পেয়েছেন ২৮ হাজার ৮১৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলম পেয়েছেন পাঁচ হাজার ৬০৯ ভোট।

বিজনেস বাংলাদেশ/ bh