হক এন্ড সন্স, বাংলাদেশ মেরিটাইম ট্রেনিং ইনষ্টিটিউট (বিএমটিআই) এবং ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম একাডেমী (আইএমএ) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. এমদাদুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পরিবারকে জিম্মি করে সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন তারই সৎ বোনের মেয়ে (ভাগনী) নিশাত ইসলাম।
নিশাত ইসলাম জানান, ‘চট্টগ্রামের ডাবলমুরিং থানার গোসাইলডাঙ্গা এলাকার ১২৬৭/এ, রুমানা হক টাওয়ারে অবস্থিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর এমডি এমদাদুল হক চৌধুরী তার মরহুম পিতা এনামুল হক চৌধুরীর অসুস্থতার সুযোগে ৫১ শতাংশ শেয়ার কোম্পানীর কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজস্বে নিজের নামে ট্রান্সফার করে নেন। পিতা সুস্থ হয়ে শেয়ার ফেরত চাইলে ফেরত না দেওয়ার কারণে পিতা পুত্রের মধ্যে লিগেল নোটিশ আদান প্রদানও হয়। এরপর এমদাদুল হক তার পিতার সমস্ত সম্পত্তি আত্মসাৎ করার জন্য পিতার নামে চট্টগ্রাম ৩য় যুগ্ম জজ আদালতে একটি মানিসুট মামলা করেন, যার নং ২৩/২০১৮।
মামলায় এমদাদুল হক চৌধুরী তার পিতাকে প্রায় ১৬ কোটি পরিমান টাকা চাহিবা মাত্র ফেরৎ দেওয়ার কথা বলে ধার দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরো উল্লেখ করেন তার পিতা এ টাকা শোধ করতে না পারায় তার বিরুদ্ধে মামলা করেন এবং তার সমস্ত সম্পত্তি ক্রোকাবদ্ধ করে এক তরফা রায় নেন, বলেন নিশাত ইসলাম।
তিনি জানান, এ মামলা সম্পর্কে আমার নানা জীবিত অবস্থায় জানতে পারেননি। পিতার মৃত্যুর পর সমস্ত সম্পক্তি আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে এমদাদুল হক চৌধুরী আমার এবং আমার স্বামী মো. মঈনুল ইসলামের বিরুদ্ধেও ৭১৬/২২ একটি দেওয়ানী মামলা করেন ঢাকার ১ম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে। মামলাটি করে সমন গোপন করে অন্তবর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা নেন, গুপ্ত মামলায় সিদ্ধ হস্ত এমদাদুল হক চৌধুরী।
এতো কিছুর পরও ক্ষ্যান্ত হয়নি এমদাদুল হক সম্প্রতি, অস্ত্রসহ হামলা চালায় মঈনুল ইসলাম ও নিশাত ইসলামের ফ্ল্যাটে, সে তাদের ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে। এমদাদুল হক মঈনুল ইসলাম ও নিশাত ইসলামের নাবালক পুত্র আরিক ইসলাম তূর্নের গলায় ছুড়ি ধরে অন্যদের ফ্ল্যাট খালি করতে বলে। নিশাত ইসলাম এ সময় থানায় অভিযোগ করতে যান, তখন দুর্বৃত্তরা তার অফিসের ৪ জন লোককে মেরে আহত করে বাসা থেকে মেইন গেইটের বাইরে বের করে দেয়। বাসা থেকে তার কাজের মহিলা নিশাতকে ফোন করলে সে থানায় পুলিশকে বলে দ্রুত বাসায় আসে, কিন্তু তাকে বাসায় ঢুকতে দেয়নি। প্রায় ১ ঘন্টার মতো তার ছেলেকে জিম্মি করে রাখে। সে সময় তার অফিসের মহিলা কর্মীকে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা ও তার ২ বছরের বাচ্চাকেও মারধোর করে। এ সময় তারা জিম্মিদের শরীরে পেট্রল দিয়ে আগুন ধরিয়ে মেরে ফেলারও হুমকি দেয়। পরে পুলিশ ও সাংবাদিক এসে পড়লে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পুলিশ এসে নিশাত ইসলামকে বাসায় ঢুকতে সহযোগিতা করে।
এমদাদুল হক চৌধুরী এবং তার সাঙ্গপাঙ্গরা অনেক দিন ধরে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে মারপিট, খুন জখম করার ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। নিশাত ও তার স্বামী এ বিষয় নিয়ে বিভিন্ন সময় থানায় ৩টি জিডি ও ১টি অভিযোগ করে বলে জানান। এমদাদুল হক চৌধুরীর অফিসের কর্মকর্তা-কমর্চারী ও ভাড়া করা গুন্ডাপান্ডারা এর আগেও তাদের উপর কয়েকবার হামলা করে বলে জানান। গত বছরের ১৮ নভেম্বর দুপুরে জুমার নামাজের আগে নিশাতের অফিসের সামনে থেকে সিসিটিভি ক্যামেরা, অফিসের সাইনবোর্ড ও ২৫টির মতো দামী ওয়াল পেন্টিং খুলে নেয়। অফিসের তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করতে চায়, নিশাত ৯৯৯ ফোন করে। কিন্তু এমদাদুল হক ও তার সহযোগিরা এতই বেপরোয়া যে তারা কোনো আইন আদালতের ধার ধারে না। পেশি শক্তি ব্যবহার করে তাদের ক্ষতি করার চেষ্ট করছে।
নিশাত জানান, এমদাদুল হক আমাদের হুমকি দিয়ে বলে যে-আমরা তোমাদেরকে এই ফ্ল্যাটগুলো থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করে উহার দখল নিবো, তোমরা অন্যত্র চলে যাও না হলে তোমাদের জীবন চলে যাবে, আর যদি বেঁচে না থাকো তাহলে সম্পত্তি দিয়ে কি হবে? এবং তাহাদের লোকজন প্রতিনিয়ত আমাদের চলাফেরাসহ সকল কাজকর্মে বাধা প্রদানসহ (আমাদের অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, আত্মীয়-স্বজন, কাজের লোক, বাচ্চার শিক্ষিক, হুজুরসহ কাউকেই ঢুকতে দেয় না এবং প্রয়োজনীয় কোনো জিনিসপত্র ঢুকাতে বা বের করতে দেয় না, জেনারেট সার্ভিস বন্ধ করে রেখেছে) বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি ধামকি প্রদান করে আসছে।




















