০৩:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চরুই পাখির কিচির মিচির শব্দে মুখরিত কলেজ

কলেজের মূল ফটকের সামনে বাগান বিলাস গাছ। সেই গাছের ডালগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে হাজার হাজার চরুই পাখি। কিচির মিচির শব্দে মুখরিত থাকে কলেজ প্রাঙ্গন। এতে কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, স্থানীয় ও দর্শনার্থীরা এক মুহুর্তের জন্য হলেও অভিভ‚ত হয়। প্রতিদিন পাখিগুলো দেখতে আসে প্রকৃতি প্রেমী নানা বয়সী নারী পুরুষ। এমনই চিত্র টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজে।

কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে বিকেলের নির্দিষ্ট সময়ে পাখিগুলো দল বেধে আশ্রয় নেয় আবার ভোরের নির্দিষ্ট সময়ে দলে দলে উড়ে যায় খাদ্যের সন্ধানে। স্থানীয় বা নাগরিকরাও যান্ত্রিকতার শব্দ দুষণ থেকে স্বস্তি পেতে ছুটে আসেন পাখির কলরব শুনতে এবং দেখতে। দুইদন্ড দাঁড়িয়ে প্রাণভরে অবলোকন করেন পাখিদের জীবনের গান।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কলেজের মূল গেটে লাগানো বাগান বিলাস গাছের শাখায় শাখায় ঝুলে আছে রজনীকান্ত সেনের বিখ্যাত ছড়ার সেই চড়ুই পাখিগুলো। বাগান বিলাস গাছে আসার আগে পাশ^বর্তি দুইটি গাছে ধীরে ধীরে জড়ো হতে থাকে পাখিগুলো। এরপর ঝাকে ঝাকে চলে আসে কলেজ গেটের গাছের ডালে। কিচির মিচির শব্দ করে পাতার ভাজে বোঁটায় ঝুলে ঝুলে মধুর খোঁজে গাছে ফোটা রঙ-বেরঙের ফুলে ঠোঁটটি ঢোকাচ্ছে তারা। আবার আধা ঘন্টা পরই তাদের কিচির মিচির শব্দ বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয় সংবাদকর্মী অভিজিৎ ঘোষ বলেন, দিন দিন আমাদের দেশের গাছ পালার সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এতে করে পাখি গুলো তাদের বাসস্থান হারাচ্ছে। এছাড়াও পাখিদের কোন অভয়াশ্রম নেই। কলেজের গেটেই এই জায়গাটাকে পাখিগুলো নিরাপদ মনে করেন। যে কারণে অনেকগুলো পাখি এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছে।

পাখি দেখতে আসা আব্দুল করিম ও সোহেল রানাসহ কয়েকজন দর্শনার্থী জানান, বিকেলের সময় পাখির কলরব এটা সত্যিই মনোমুগ্ধকর। অবাদে গাছগুলো কেটে ফেলার কারণে পাখিরা নিরাপদ আশ্রয় নেই। এরকম পাখির শব্দ কোথাও পাওয়া যায় না। প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং পাখিদের অভয়াশ্রম তৈরি বাস উপযোগী বেশি বেশি গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিতে হবে।।
ইবরাহীম খাঁ সরকারী কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক এসএম জাহিদুল ইসলাম বলেন, নির্দিষ্ট সময়ে আসা পাখিরা আবার কোথায় যেন চলে যায়। এদের কিচির মিচির শব্দ মনকে ভরিয়ে তোলে। তাই এইসব পাখিগুলোকে যাতে কেউ বিরক্ত না করে সে ব্যাপারে আমরা সজাগ থাকি।

ইবরাহীম খাঁ সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. কামরুজ্জামান সরকার বলেন, এই জায়গার পাখিরা সময় মেনে চলে। সঠিক সময় যায় সঠিক সময়ে আসে। পাখির এমন মিলন মেলা দেখে আরো কলেজের বিভিন্ন জায়গায় এমন আবাসস্থল নির্মাণের নেয়া হয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

কুষ্টিয়া-১ আসনে নিরাপত্তা শঙ্কা: ১৩৫ কেন্দ্রের ৬৬টিই ঝুঁকিপূর্ণ

চরুই পাখির কিচির মিচির শব্দে মুখরিত কলেজ

প্রকাশিত : ০২:৩২:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ জুলাই ২০২৩

কলেজের মূল ফটকের সামনে বাগান বিলাস গাছ। সেই গাছের ডালগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে হাজার হাজার চরুই পাখি। কিচির মিচির শব্দে মুখরিত থাকে কলেজ প্রাঙ্গন। এতে কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, স্থানীয় ও দর্শনার্থীরা এক মুহুর্তের জন্য হলেও অভিভ‚ত হয়। প্রতিদিন পাখিগুলো দেখতে আসে প্রকৃতি প্রেমী নানা বয়সী নারী পুরুষ। এমনই চিত্র টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজে।

কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে বিকেলের নির্দিষ্ট সময়ে পাখিগুলো দল বেধে আশ্রয় নেয় আবার ভোরের নির্দিষ্ট সময়ে দলে দলে উড়ে যায় খাদ্যের সন্ধানে। স্থানীয় বা নাগরিকরাও যান্ত্রিকতার শব্দ দুষণ থেকে স্বস্তি পেতে ছুটে আসেন পাখির কলরব শুনতে এবং দেখতে। দুইদন্ড দাঁড়িয়ে প্রাণভরে অবলোকন করেন পাখিদের জীবনের গান।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কলেজের মূল গেটে লাগানো বাগান বিলাস গাছের শাখায় শাখায় ঝুলে আছে রজনীকান্ত সেনের বিখ্যাত ছড়ার সেই চড়ুই পাখিগুলো। বাগান বিলাস গাছে আসার আগে পাশ^বর্তি দুইটি গাছে ধীরে ধীরে জড়ো হতে থাকে পাখিগুলো। এরপর ঝাকে ঝাকে চলে আসে কলেজ গেটের গাছের ডালে। কিচির মিচির শব্দ করে পাতার ভাজে বোঁটায় ঝুলে ঝুলে মধুর খোঁজে গাছে ফোটা রঙ-বেরঙের ফুলে ঠোঁটটি ঢোকাচ্ছে তারা। আবার আধা ঘন্টা পরই তাদের কিচির মিচির শব্দ বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয় সংবাদকর্মী অভিজিৎ ঘোষ বলেন, দিন দিন আমাদের দেশের গাছ পালার সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এতে করে পাখি গুলো তাদের বাসস্থান হারাচ্ছে। এছাড়াও পাখিদের কোন অভয়াশ্রম নেই। কলেজের গেটেই এই জায়গাটাকে পাখিগুলো নিরাপদ মনে করেন। যে কারণে অনেকগুলো পাখি এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছে।

পাখি দেখতে আসা আব্দুল করিম ও সোহেল রানাসহ কয়েকজন দর্শনার্থী জানান, বিকেলের সময় পাখির কলরব এটা সত্যিই মনোমুগ্ধকর। অবাদে গাছগুলো কেটে ফেলার কারণে পাখিরা নিরাপদ আশ্রয় নেই। এরকম পাখির শব্দ কোথাও পাওয়া যায় না। প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং পাখিদের অভয়াশ্রম তৈরি বাস উপযোগী বেশি বেশি গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিতে হবে।।
ইবরাহীম খাঁ সরকারী কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক এসএম জাহিদুল ইসলাম বলেন, নির্দিষ্ট সময়ে আসা পাখিরা আবার কোথায় যেন চলে যায়। এদের কিচির মিচির শব্দ মনকে ভরিয়ে তোলে। তাই এইসব পাখিগুলোকে যাতে কেউ বিরক্ত না করে সে ব্যাপারে আমরা সজাগ থাকি।

ইবরাহীম খাঁ সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. কামরুজ্জামান সরকার বলেন, এই জায়গার পাখিরা সময় মেনে চলে। সঠিক সময় যায় সঠিক সময়ে আসে। পাখির এমন মিলন মেলা দেখে আরো কলেজের বিভিন্ন জায়গায় এমন আবাসস্থল নির্মাণের নেয়া হয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব