১০:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে গৃহবন্দী অং সান সু চি

মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সু চি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তবে থাকতে হবে গৃহবন্দী হিসেবে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সু চির নেতৃত্বাধীন বেসামরিক সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করে সামরিক জান্তা। এরপর থেকে আটক ছিলেন মিয়ানমারের সাবেক এই সরকার প্রধান।

বৃহস্পতিবার ২৭ জুলাই বিবিসির প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়। এতে বলা হয়, স্থানীয় সময় সোমবার (২৪ জুলাই) নেপিডোর একটি সরকারি ভবনে সু চিকে নেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত ৭৮ বছর বয়সী এই নেত্রী প্রায় এক বছর যাবৎ নির্জন কারাবাসে শাস্তি ভোগ করছেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে ৩৩ বছরের সাজা হয়েছে। এছাড়াও গত প্রায় দু’বছর ধরে সু চির অবস্থান এবং অবস্থা সম্পর্কে তেমন কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে দেশটি গৃহযুদ্ধের দিকে চলে গেছে। সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে প্রাণ হারায় হাজার হাজার মানুষ। সেনা আদালতে অত্যন্ত গোপনীয়তার মধ্যেই তার সাজা ঘোষণা করা হয়।

কারাগার থেকে তার স্থানান্তরের বিষয়টি সামরিক বাহিনী অথবা সামরিক জান্তা সরকারের পক্ষ থেকে এখনও নিশ্চিত করা হয়নি। তবে তাকে কারাগার থেকে বের করে গৃহবন্দী করার বিষয়টি একাধিক কারা কর্তৃপক্ষ থেকে নিশ্চিত হয়েছে বিবিসি। আর এমন পদক্ষেপকে অনেকেই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। দেশটির গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত এই নেতাকে মুক্তি দেওয়ার জন্য শুরু থেকেই চাপের মধ্যে আছে জান্তা সরকার।

এর আগে সু চি অসুস্থ বলে গুঞ্জন উঠেছিল। কিন্তু সেই গুঞ্জন অস্বীকার করে জান্তা সরকার। তিনি সুস্থ আছেন বলে নিশ্চিত করেছে চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে তিনি নেপিডোর যে কারাগারে ছিলেন সেখানকার একটি সূত্র।

থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী চলতি মাসে অং সান সু চির সাথে দেখা করেছেন বলে নিশ্চিত করেন। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোন তথ্য দেননি।

সু চিকে মুক্তি দিতে দেশটির সেনাবাহিনীকে অনুরোধ জানিয়েছেন তার ছোট ছেলে কিম অ্যারিস। তাছাড়া তিনি তার মাকে সাহায্য করার জন্য বিশ্ব মোড়লদের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানান।

ব্রিটিশ নাগরিক কিম অ্যারিসের দাবি, সেনাবাহিনী তাকে তার মায়ের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কোন তথ্য দেয়নি। তিনি বার্মিজ দূতাবাস, ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন, কিন্তু কেউ-ই তাকে সাহায্য করতে পারেনি।

বিজনেস বাংলাদেশ/ bh

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ইরানে বিক্ষোভে এ পর্যন্ত নিহত কমপক্ষে ৫৩৮

কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে গৃহবন্দী অং সান সু চি

প্রকাশিত : ০৬:৪৮:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুলাই ২০২৩

মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সু চি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তবে থাকতে হবে গৃহবন্দী হিসেবে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সু চির নেতৃত্বাধীন বেসামরিক সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করে সামরিক জান্তা। এরপর থেকে আটক ছিলেন মিয়ানমারের সাবেক এই সরকার প্রধান।

বৃহস্পতিবার ২৭ জুলাই বিবিসির প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়। এতে বলা হয়, স্থানীয় সময় সোমবার (২৪ জুলাই) নেপিডোর একটি সরকারি ভবনে সু চিকে নেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত ৭৮ বছর বয়সী এই নেত্রী প্রায় এক বছর যাবৎ নির্জন কারাবাসে শাস্তি ভোগ করছেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে ৩৩ বছরের সাজা হয়েছে। এছাড়াও গত প্রায় দু’বছর ধরে সু চির অবস্থান এবং অবস্থা সম্পর্কে তেমন কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে দেশটি গৃহযুদ্ধের দিকে চলে গেছে। সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে প্রাণ হারায় হাজার হাজার মানুষ। সেনা আদালতে অত্যন্ত গোপনীয়তার মধ্যেই তার সাজা ঘোষণা করা হয়।

কারাগার থেকে তার স্থানান্তরের বিষয়টি সামরিক বাহিনী অথবা সামরিক জান্তা সরকারের পক্ষ থেকে এখনও নিশ্চিত করা হয়নি। তবে তাকে কারাগার থেকে বের করে গৃহবন্দী করার বিষয়টি একাধিক কারা কর্তৃপক্ষ থেকে নিশ্চিত হয়েছে বিবিসি। আর এমন পদক্ষেপকে অনেকেই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। দেশটির গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত এই নেতাকে মুক্তি দেওয়ার জন্য শুরু থেকেই চাপের মধ্যে আছে জান্তা সরকার।

এর আগে সু চি অসুস্থ বলে গুঞ্জন উঠেছিল। কিন্তু সেই গুঞ্জন অস্বীকার করে জান্তা সরকার। তিনি সুস্থ আছেন বলে নিশ্চিত করেছে চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে তিনি নেপিডোর যে কারাগারে ছিলেন সেখানকার একটি সূত্র।

থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী চলতি মাসে অং সান সু চির সাথে দেখা করেছেন বলে নিশ্চিত করেন। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোন তথ্য দেননি।

সু চিকে মুক্তি দিতে দেশটির সেনাবাহিনীকে অনুরোধ জানিয়েছেন তার ছোট ছেলে কিম অ্যারিস। তাছাড়া তিনি তার মাকে সাহায্য করার জন্য বিশ্ব মোড়লদের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানান।

ব্রিটিশ নাগরিক কিম অ্যারিসের দাবি, সেনাবাহিনী তাকে তার মায়ের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কোন তথ্য দেয়নি। তিনি বার্মিজ দূতাবাস, ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন, কিন্তু কেউ-ই তাকে সাহায্য করতে পারেনি।

বিজনেস বাংলাদেশ/ bh