কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে জায়নামাজের ওপর পড়ে থাকা রাশেদা বেগম (৬০) নামে এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে শ্বাসরোধ ও মাথায় ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ সময় রাশেদা বেগমের হাত, কান ও গলায় থাকা প্রায় দুই ভরি স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তিনি উপজেলার জোড্ডা পশ্চিম ইউনিয়নের গোয়ারুয়া মানিকমুড়া গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের স্ত্রী। তার এক ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। ছেলে পোল্যান্ড প্রবাসী। নিহত বৃদ্ধা ঘরে একা থাকতেন।
নিহত রাশেদার ছোট মেয়ে জান্নাতুল ফেরদাউস জানান, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মায়ের সঙ্গে তার সর্বশেষ কথা হয়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মায়ের মুঠোফোনে আবার ফোন দিয়ে মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে পার্শ্ববর্তী ঘরের মামাতো বোন জ্যোৎস্না বেগমকে বলি ঘরে গিয়ে মায়ের খবর নিতে। জ্যোৎস্না বেগম ঘরে গিয়ে ঘরের সব দরজা খোলা অবস্থায় এবং সব কক্ষের বৈদ্যুতিক লাইট বন্ধ দেখতে পান। তিনি ঘরের বৈদ্যুতিক লাইট জ্বালিয়ে দেখতে পান মা জায়নামাজের ওপর পড়ে আছে। এ সময় মায়ের চুল এলোমেলো, গলায় ওড়না পেঁচানো এবং জিহবা বের করা অবস্থায় ছিল। এছাড়া তার মাথা দিয়ে রক্ত ঝরছিল। পরে তাকে উদ্ধার করে লাকসামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। রাতে বাড়ি এসে পুলিশের জরুরী সেবা ৯৯৯ ফোন করে মাকে হত্যা করার কথা জানান। সাড়ে ১১টার দিকে নাঙ্গলকোট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
জান্নাতুল ফেরদাউস আরও জানান, তার মাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। মায়ের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে হত্যা মামলা করবেন। বর্তমানে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন মজুমদার বলেন, স্থানীয় লোকজন তাকে ঘটনাটি জানিয়েছে। বুধবার বাদ মাগরিব নামাজরত অবস্থায় মহিলাকে গলায় ওড়না পেঁছিয়ে ও মাথায় আঘাত করে কে-কারা হত্যা করেছে। ওই মহিলা ঘরে একা ছিল। নাঙ্গলকোট থানা পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।
নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (কুমেক) পাঠিয়েছি। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কেউ বাদী হয়ে থানায় মামলা করেনি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।






















